কাফির-মুশরিকরা জাতিগতভাবেই ‘শত্রু’ এবং জাতিগতভাবেই ‘গোলাম’


১৮৫৭ সালের ব্রিটিশবিরোধী মহাবিদ্রোহের সময়ের ঘটনা। ব্রিটিশ হানাদারেরা দিল্লী অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এমতাবস্থায় সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের মনে খেয়াল হলো, যেহেতু হিন্দুরা গরুকে দেবতা মানে, সেহেতু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে দিল্লীর হিন্দুদের সমর্থন পেতে হলে গরু কুরবানীর ব্যাপারে ছাড় দিতে হবে। সম্রাট আইন জারি করে দিল, মুসলমানদের কেউ গরু কুরবানী করতে পারবে না।
দিল্লীর একজন প্রখ্যাত উর্দু সাহিত্যিক খাজা হাসান নিযামীর ‘দিল্লী কি জান কুনি’ (বাংলা অনুবাদ: সিপাহী বিদ্রোহে দিল্লীর যন্ত্রণা, কারুবাক প্রকাশনী) বইতে উল্লেখ রয়েছে যে, আইনটি এতো কঠোরভাবে বলবৎ করা হয়েছিল যে, কুরবানীর ঈদেও দিল্লীর কোন মুসলিম অধিবাসী গরু কুরবানী করতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু যেই হিন্দুদের মন জয় করতে সম্রাট মুসলমানদের এভাবে কোনঠাসা করল, সেই হিন্দুরা এর প্রতিদানে কী দিয়েছিল?
এই আইনটি জারি হওয়ার পরপরই দিল্লীতে অবস্থানরত হিন্দু সেপাইরা খুঁজে খুঁজে মুসলমান গরুর গোশত ব্যবসায়ী ও কসাইদের শহীদ করতে লাগল এই বলে যে, মুসলমানরা এতোদিন শাসকশ্রেণী হিসেবে আমাদের গো-মাতাকে হত্যা করেছে, এবার আমরা হিন্দুরা বদলা নিতে পাল্টা মুসলমানদের শহীদ করব। খাজা হাসান নিযামীর বইটিতে উল্লেখ রয়েছে যে, দিল্লীর মুসলমান গোশত ব্যবসায়ীরা হিন্দু সেপাইদের অত্যাচারের কারণে টানা চার মাস ঘরের বাইরে বের হতে পারেনি।
অথচ দিল্লীর কথিত মুসলমানরা গরু জবাই ত্যাগ করেছিল এই ভেবে যে, তাতে করে শাসকশ্রেণী হিসেবে গোলামশ্রেণীর হিন্দুদের সাথে তাদের পার্থক্য ঘুঁচে যাবে, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই সহজতর হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, কারণ মনিব যদি মনিবের ন্যায় আচরণ না করে, তাহলে হিন্দুরা গোলাম হিসেবে এর সুযোগ নেবেই। মুসলমানদের তারা লাঞ্ছিত-অপদস্থ করবেই।
বস্তুত হিন্দুদের জাতটাই হলো গোলামের জাত, হিন্দুদের মগজটাই হলো গোলামের মগজ। কারণ হিন্দুরা যে একদা মুসলমানদের গোলামি করেছে, এ বিষয়টি শিশুকালেই হিন্দু বাচ্চাদের মগজে ঢুকিয়ে দেয় তাদের পিতা-মাতারা। এ প্রসঙ্গে নীরদ সি চৌধুরী তার আত্মজীবনী Autobiography of an unknown indian বইতে উল্লেখ করেছে-
Nothing was more natural for us than to feel about the Muslims in the way we did. Even before we could read we had been told that the Muslims had once ruled and oppressed us, that they had spread their religion in India with the Quran in one hand and the sword in the other. অর্থাৎ হিন্দু বাচ্চারা লিখতে-পড়তে পারার আগেই তাদের বাবা-মায়েরা তাদের শেখায় যে, হিন্দুরা একদা মুসলমানদের গোলামি করেছে। এর ফলে শিশুকালেই যে শত্রুতা তারা অর্জন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে, সে সম্পর্কে নীরদ সি চৌধুরীর মন্তব্য “Nothing was more natural”, কোন কিছুই এতোটা প্রকৃতিগত নয়। খাওয়া-পরা-ঘুমের ন্যায় প্রকৃতিগত তাড়নার চেয়েও ইতিহাসের পাতায় মুসলমানদের গোলামি করার তাড়না, সুযোগ পেলেই মুসলমানদের ক্ষতি করার তাড়না হিন্দুদেরকে অনেক বেশি তাড়িয়ে বেড়ায়।
যে কারণে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও পাশ্ববর্তী ভারতে মুসলিম শাসকদের নামে নামাঙ্কিত স্থাপনা কিংবা রাস্তার নাম পরিবর্তন করতে হিন্দুদের খুব তোড়জোর করতে দেখা যায়। এর মূল কারণই হচ্ছে, হিন্দুদের মনে সর্বদা এই বোধ জাগরুক থাকে যে তারা হলো গিয়ে গোলাম। রাস্তাঘাটে মুসলমান শাসকের নাম দেখলেই তাদের সেই গোলামির কথা স্মরণ হয়।
বস্তুত কাফির-মুশরিকদের সম্পর্কে মুসলমানদের সামনে দুটি রাস্তাই খোলা রয়েছে, হয় মুসলমানরা তাদের মনিব হবে, নতুবা কুকুরের ন্যায় তাদের হাতে লাঞ্ছিত হবে। কাফির-মুশরিকদের সাথে মুসলমানদের সমতাপূর্ণ বন্ধুত্বের সম্পর্ক কখনোই সম্ভবপর নয়, কারণ কাফির-মুশরিকরা যে গোলাম এবং গোলাম হিসেবে যে তারা সুযোগ পেলেই মুসলমানদের উপর আঘাত করবে, এই বিষয়টি তারা কখনোই মন থেকে বিস্মৃত হয় না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]