কারও ঘরে প্রবেশ করার সুন্নতী তারতীব বা নিয়ম


যারা মুসলমানদের জন্য সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ ও সম্মানিত সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী সমস্ত আমল করতে হবে। কখনো কাফির-মুশরিক বেদ্বীন বদদ্বীনদের অনুসরণ করা যাবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা কাফির-মুনাফিকদের অনুসরণ করো না।”
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম হচ্ছেন পরিপূর্ণ দ্বীন। সমস্ত বিষয়ের বর্ণনা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে রয়েছে। এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ঘরে প্রবেশ করতে হলে সালাম দিয়ে, অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
حَتّٰى تَسْتَاْ نِسُوْا وَتُسَلِّمُوْا
অর্থ: “যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমতি না পাবে এবং সালাম না করবে। তোমরা প্রবেশ করো না।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় সালাম দিলেই সেটা অনুমতি প্রার্থনা বুঝা যেত। যে কোনো ব্যক্তি এসে সালাম দিলে এর অর্থ দাঁড়াতো, সে অনুমতি চাচ্ছে সাক্ষাৎ করার জন্য। অনুমতি তাকে দেয়া হতো। এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিলেন, সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কথা বলার পূর্বে সালাম দিতে হবে।” কেউ যদি বলে, আমি প্রবেশ করতে চাই, আস্সালামু আলাইকুম, এটা অশুদ্ধ হবে। বরং বলবে, আসসালামু আলাইকুম, আমি প্রবেশ করতে চাই। আগে সালাম দিবে। এরপর সে প্রবেশ করার কথা বলবে। এটা সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়সালা। সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “হযরত কালদাতা ইবনে হাম্বল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ছফওয়ান ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে কিছু দুধ পাঠিয়েছিলেন। একটা হরিণের বাচ্চাও তার সাথে পাঠিয়েছিলেন। সাথে কিছু শসা ও খিরাই জাতীয় ফল-ফলাদিও পাঠিয়েছিলেন। তিনি যাকে পাঠিয়েছিলেন, উনি সেটা নিয়ে যখন উপস্থিত হলেন তখন দেখতে পেলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একটি উপত্যকার উপরে বসে আছেন। সেই ছাহাবী কোনো কথা না বলেই, কিছু জিজ্ঞেস না করেই, সালাম না দিয়েই উনি সরাসরি সেগুলো নিয়ে প্রবেশ করেন। সেটা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তুমি ফিরে যাও, তুমি ফিরে যাও। ফিরে গিয়ে সালাম দাও এবং অনুমতি প্রার্থনা করো, এরপর প্রবেশ করো।
সেই ছাহাবী তিনি নতুন ছিলেন। উনাকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এটা করা হয়েছিলো। উনি ফিরে গেলেন, বের হয়ে গেলেন সেখান থেকে। বের হয়ে সালাম দিলেন, আসসালামু আলাইকুম এবং বললেন اَ َدْخُلُ ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি প্রবেশ করবো? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনুমতি দিলেন, উনি প্রবেশ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ঐ ব্যক্তি সবচাইতে প্রিয়, যে প্রথম সালাম দেয় অর্থাৎ যে সালাম দেয় সে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে প্রিয়, সম্মানিত এবং পছন্দনীয়। সুবহানাল্লাহ!
প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো সালাম দিয়ে, অনুমতি নিয়ে অন্যের ঘরে প্রবেশ করতে হবে। অনুমতি না পেলে ফিরে আসতে হবে। এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সম্মানিত শরীয়ত মুতাবেক আমল করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]