কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযীদ লানতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির (১৩)


কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযীদ লানতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির (১৩)

কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযীদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির এটা ইতিপূর্বে প্রমাণ দেখেছি। এবার দেখবো এই মালউন ইয়াযীদ লানতুল্লাহি আলাইহিকে সমর্থন দিচ্ছে কারা,
ইয়াযীদ সম্পর্কে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত ফতোয়া,
(Fatwa: 997/1082=D-1429
It is traditionally proved from the salaf (the past Ulama) that “Rayiallau Anhu” is written and spoken for the Sahaba, and “Rahmatullah Alaih” is written and spoken for non-Sahabah like Tabeen etc. Therefore, there seems no wrong to say “Rahmatullah Alaih” for Yayeed.
Allah knows Best!
Darul Ifta,
Darul Uloom Deoband
অর্থ: এটা ঐতিহ্যগতভাবে সলফদের থেকে প্রমাণিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদের শানে “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” লেখা বা বলা হয়। এবং ছাহাবা নন যেমন তাবিয়ীন উনাদের প্রতি “রহমতুল্লাহি আলাইহি” লেখা বা বলা হয়। সূতরাং ইয়াযীদের ক্ষেত্রে ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ বলার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। (নাউযুবিল্লাহ)
এই হলো দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত ফতোয়া। এ ফতোয়া থেকে তারা যা প্রমাণ করতে চাচ্ছে,
১) ইয়াযীদ তাবিয়ী ছিলো। নাউযুবিল্লাহ!
২) তার প্রতি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলা যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত ফতোয়ার লিংক: http:/ww/w.darulifta-deoband.com/home/en/Others/6134
মাসিক মদীনা পত্রিকার নাম অনেকে জানে। এক সময় ইসলামী পত্রিকা নামে মানুষ এই পত্রিকাই পড়তো। অথচ অনেকে জানেই না সুক্ষ্মভাবে তারা মানুষের ঈমানের উপর আঘাত করে গিয়েছে এবং এখনো করে যাচ্ছে। তাদের পত্রিকায় ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নজদীকে মুজাদ্দিদ দাবী, সর্বপোরি কুখ্যাত ইয়াযীদের সাফাই গেয়ে তারা তাদের মূল সংযোগস্থলের খবর প্রকাশ করে দিয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।
দেওবন্দী কওমী সিলসিলার মহীউদ্দীন সম্পাদীত “মাসিক মদীনা” পত্রিকায় ইয়াযীদকে সমর্থন করে তারা লিখেছিলো,
“ইয়াযীদ তাবেয়ী ছিলো। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ব্যাপারে তার প্রতি মন্দরূপ কিংবা কিছু বলা ঠিক হবে না।” (নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক)
(মাসিক মদীনা, এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যা, প্রশ্ন উত্তর বিভাগ)
সূতরাং বুঝতেই পারলেন ইয়াযীদের প্রতি দেওবন্দ ও কওমীদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
এবার আসুন তাদের প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত আরেকটি কিতাব থেকে ইয়াযীদ বিষয়ক মূল্যায়ন করা যাক। মদীনা পাবলিকেশন্স থেকে ইমাম হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “তারীখুল খুলাফা” অনুবাদ করা হয়। উক্ত কিতাবের ২০৪ পৃষ্ঠায় লেখা আছে, ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইয়াযীদ সরাসরি উবায়দুল্লাহ ইবনে যীয়াদকে লিখিতভাবে আদেশ করে এবং উনার বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করে। এরপর উনাকে শহীদ করা হয়। আর এ কারণে ইয়াযীদ এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে যীয়াদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত।
উক্ত কিতাবের ২০৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার কর্তিত মস্তক মুবারক ইবনে যীয়াদ ইয়াযীদের কাছে পাঠায়। ইয়াযীদ এ ঘটনায় আনন্দিত হয়। নাউযুবিল্লাহ!
উক্ত পৃষ্ঠায় একটা হাদীছ শরীফও বর্ণিত আছে, আমার উম্মত সর্বদা ইনসাফের উপর থাকবে। কিন্তু বনু উমাইয়ার ইয়াযীদ নামক এক লোক ইনসাফে বাধা দিবে। আরেকটা রেওয়ায়েতে উল্লেখ আছে, আমার সুন্নতের মধ্যে পরিবর্তন করবে বনু উমাইয়ার ইয়াযীদ। নাউযুবিল্লাহ!
২০৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে, ইয়াযীদকে আমীরুল মু’মিনীন বলার অপরাধে খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক লোককে ২০ টি বেত মারার নির্দেশ দেন।
উক্ত পৃষ্ঠায় আরো বর্ণিত আছে, ইয়াযীদ পবিত্র মদীনা শরীফ হামলার জন্য বিশাল সৈন্য বাহিনী পাঠায়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মৃতি বিজড়িত স্থানকে সে ধ্বংস স্তুপ বানায়। সেদিন ইয়াযীদের নির্যাতন থেকে একজন মানুষও পরিত্রান পায়নি। সহস্রাধিক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমকে শহীদ করা হয়।
২০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, পবিত্র মদীনা শরীফে লুটতরাজ করা হয়, হাজার হাজার তরুণীর সম্ভ্রম হরণ করা হয়। নাউযুবিল্লাহ! সেখানে এও উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়াযীদ মদ পান করতো এবং অনেক মন্দ কাজের সাথে জড়িত ছিলো।
এরপর সে পবিত্র মক্কা শরীফে হামলা করার জন্য সৈন্য পাঠায়। তার সৈন্য বাহিনীর আক্রমনে পবিত্র কা’বা শরীফের দেয়াল ও ছাদে আগুন লেগে যায়।
এই হলো কুখ্যাত ইয়াযীদের চরিত্র যা “মদীনা পাবলিকেশন্স” থেকে প্রকাশিত ‘তারীখুল খুলাফায়’ রয়েছে। আবার তারাই তাদের “মাসিক মদীনা” পত্রিকায় লিখছে, “ইয়াযীদ তাবেয়ী ছিলো। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ব্যাপারে তার প্রতি মন্দরূপ কিংবা কিছু বলা ঠিক হবে না।” নাউযুবিল্লাহ!
এ থেকে কি প্রমাণ হয় না যে, ঐতিহাসিক সত্যতা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গিয়ে “মাসিক মদীনা” পত্রিকার সংশ্লিষ্টরা ইয়াযীদের পক্ষ নিচ্ছে? যা তাদের আসল চরিত্র জনগণের সামনে প্রকাশে সহায়তা করছে।
কাজেই, তাদের এ মন্দ কাজের জন্য তাদের উপর অনন্তকাল লা’নত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]