কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযীদ লানতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির (১১)


কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযীদ লানতুল্লাহি আলাইহি অবশ্যই দায়ী এবং সে কাফির (১১)

কাট্টা কাফির ইয়াযীদকে মুসলমান বানানোর জন্য বাতিল ফির্কার লোকেরা একটা হাদীছ প্রচার করে। ‘সর্বপ্রথম সিজারে শহর যারা বিজয় করবে তাদের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ বাতিল ফির্কার বক্তব্য হচ্ছে ইয়াযীদ যেহেতু সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে গিয়েছিলো তাই সে যত অপরাধই করুক না কেন সে ক্ষমাপ্রাপ্ত। নাউযুবিল্লাহ।
প্রথমেই আমাদের জানা প্রয়োজন যে সর্বপ্রথম রোমান নগর বিজয়ের যুদ্ধ হয় সে যুদ্ধে ইয়াযীদ উপস্থিতই ছিলো না। ইবনে আছীরের কামিল ফিত তারীখ, ইবনে খালদুনের তারীখে ইবনে খালদুন, তারীখে তাবারী, বিদায়া ওয়ান নিহায়াসহ অসংখ্য ইতিহাসের কিতাব থেকে জানা যায়, সে জিহাদ হয় ৪২ হিজরীতে। এর পর প্রায় প্রতি বছরই জিহাদ হয় কোনটাতেই ইয়াযীদ অংশগ্রহণ করে নাই। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ৭/৮ বছর পর ৪৯ বা ৫০ হিজরীতে ইয়াযীদকে এই যুদ্ধে যেতে বলা হলে সে নাটকের অবতারনা করে সেটা আপনাদের সামনে ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে ধরছি,
في هذه السنة، وقيل: سنة خمسين، سير معاوية جيشاً كثيفاً إلى بلاد الروم للغزاة وجعل عليهم سفيان بن عوف وأمر ابنه يزيد بالغزاة معهم، فتثاقل واعتل، فأمسك عنه أبوه، فأصاب الناس في غزاتهم جوعٌ ومرض شديد، فأنشأ يزيد يقول:
ما إن أبالي بما لاقت جموعهم … بالفرقدونة من حمى ومن موم
إذا اتكأت على الأنماط مرتفقاً … بدير مروان عندي أم كلثوم
وأم كلثوم امرأته، وهي ابنة عبد الله بن عامر.
فبلغ معاوية شعره فأقسم عليه ليلحقن بسفيان في أرض الروم ليصيبه ما أصاب الناس، فسار ومعه جمع كثير أضافهم إليه أبوه
অর্থ: এই বছর অর্থাৎ, ৪৯ বা ৫০ হিজরী সালে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রোমের (কনস্টানটিনোপোল) উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। তিনি এর দায়িত্বভার অর্পণ করেন হযরত সুফিয়ান বিন আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রতি এবং উনার ছেলে ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে ওই বাহিনীর সাথে যেতে বলেন। কিন্তু ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি ‘অসুস্থ হওয়ার ভান করে এবং যেতে অস্বীকৃতি জানায়। যোদ্ধারা যখন ক্ষুধা ও রোগ-ব্যাধিগ্রস্থ, তখন সে ব্যঙ্গ করে কবিতায় বলে,
‘ফারকুদওয়ানা-এ মহা গযবে তারা পতিত হয়েছে; তাদের জ্বর বা অন্য যাই কিছু হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কেননা, আমি বসে আছি উচ্চ ফরাশে, আর আমার বাহুবন্ধনে আছে উম্মে কুলসুম (ইয়াযীদের স্ত্রী)।’
“হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন এই কবিতার সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন তিনি ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহিকে শপথ গ্রহণ করতে ও কনস্টানটিনোপোলে হযরত সুফিয়ান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে যোগ দিতে বাধ্য করেন, যাতে করে ’সেও ইসলামের মুজাহিদদের মোকাবেলাকৃত কঠিন পরীক্ষার অংশীদার হতে পারে’। এমতাবস্থায় ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি অসহায় হয়ে পড়ে এবং তাকে যুদ্ধে যেতে হয়; আর হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তার সাথে আরেকটি বাহিনী প্রেরণ করেন।” (দলীল: কামিল ফিত তারীখ লি ইবনে আছীর ৩/৩১৪ পৃষ্ঠা; প্রকাশনা : দারু কুতুব আল ইলমিয়া)
ইতিহাস থেকে যেটা প্রমাণ হয়,
– ইয়াযীদ প্রথম রোমন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে নাই।
– সে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বিদ্রুপ তামাশা করতো। নাউযুবিল্লাহ!
– জিহাদে অংশগ্রহণকারীদের কষ্টেও তার কিছু যায় আসতো না। নাউযুবিল্লাহ!
– যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার চাইতে স্ত্রীর বাহুবন্ধনে থাকাই তার কাছে প্রিয় ছিলো। নাউযুবিল্লাহ!
– যুদ্ধে যাতে যেতে না হয় তাই সে অসুস্থতার ভানও করে। নাউযুবিল্লাহ!
– পরবর্তীতে ৫০ হিজরীতে একদম শেষ সময় তাকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হয়।
বিচার আপনারাই করুন, এই চরিত্রের লোকের জন্য কি হাদীছ শরীফে ক্ষমা পাওয়ার সুসংবাদ থাকতে পারে? এর জন্যতো রয়েছে লা’নত বা অভিশাপ অর্থাৎ জাহান্নাম।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]