কায়িনাত মাঝে উনারাই সর্বশ্রেষ্ঠ শাহদামাদ আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!


সৃষ্টি কায়িনাতের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
অর্থ: (আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার মুবারক হাদিয়া করেছি। (প্িবত্র সূরা কাওছার শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত কাওছার মুবারক উনার ব্যাখ্যায়র্ ঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, কাওছার মুবারক উনার বহু অর্র্থের মধ্যে দুটি অর্থ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(এক) হাউজে কাওছার। অর্থাৎ রোজ-কিয়ামতে পানির পিপাসায় মানুষ কাতর হয়ে পড়বে, সেখানে একমাত্র হাওজে কাওছার মুবারক উনার পানি ব্যতীত কোন পানি থাকবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাকে অনুমতি দিবেন তিনিই কেবল হাওজে কাওছার মুবারক উনার পানি লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
(দুই) খইরে কাছীর। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওজূদ পাক উনার সাথে নিসবতযুক্ত সমস্ত বিষয় সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম। সুবহানাল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ اللّٰهَ خَلَقَ الْخَلْقَ فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهِمْ ثُمَّ جَعَلَهُمْ فِرْقَتَيْنِ فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهِمْ فِرْقَةً ثُمَّ جَعَلَهُمْ قَبَائِلَ فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهِمْ قَبِيْلَةً ثُمَّ جَعَلَهُمْ بُيُوْتًا فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهِمْ بَيْتًا فَأَنَا خَيْرُهِمْ نَفْسًا وَخَيْرُهِمْ بَيْتًا
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূক সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে আমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। উক্ত শ্রেণীকে আবার দু’ভাগে (আরব ও আজম) বিভক্ত করেছেন। উনাদের মধ্যে আমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম দলে (আরবের মধ্যে) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর সেই দলকে আবার বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন। উনাদের মধ্যে আমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম (কুরাইশ) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আবার সেই গোত্রকেও অনেক পরিবারে বিভক্ত করেছেন। তন্মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম (হাশিম) পরিবারে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং ব্যক্তি হিসেবেও আমি সর্বশ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম এবং পরিবার হিসেবেও আমি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ,তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা দ্বারা প্রতিভাত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত পরিবার তথা মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম। সুবহানাল্লাহ!
আর বর্তমান যামানায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন মুজাদ্দিদে আ’যম, নূরে মুর্কারম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা।
অতএব, উনাদেরই মহাসম্মানিত ও মনোনীত শাহদামাদ আলাইহিমাস সালাম উনারাই হচ্ছেন কায়িনাতের বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম শাহদামাদ আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]