কুরআন শরীফ উনার ৭শ’ আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানা আছে কি?


খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। মহাসন্ত্রাসী আমেরিকার কথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে সাবেক সউদী ওহাবী বাদশাহ আব্দুল্লাহ তার ওহাবী ধর্মগুরুদের পরামর্শে খ্রিস্টানদের পোপের সাথে যৌথ উদ্যোগে স্পেনের মাদ্রীদে আয়োজন করে বিশ্ব আন্তঃধর্ম সম্মেলন। সব ধর্মের মধ্যে সেতুবন্ধন করে সব ধর্মের অনুসারীরা যেন মিলেমিশে তথাকথিত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে পারে- সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ঐ আন্তঃধর্ম সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিলো। সারা বিশ্ব থেকে সউদী ওহাবীদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সর্বপ্রকার কুফরী-শিরকী ধর্মের ধর্মগুরু, প-িত, সন্যাসী ও যোগীদেরকে সেখানে আনা হয়েছিলো। সউদী এনজিও রাবেতা’র মাধ্যমে ওহাবী বিদয়াতী ভাবধারার কথিত মুসলিম স্কলার মালানাদের সেখানে দাওয়াত দেয়া হয়। কোটি কোটি ডলার খরচ করে আয়োজিত এমন কুফরী সম্মেলনের সমস্ত লক্ষ্য-আদর্শ এজেন্ডা পন্ড হয়ে যায় তখনই; যখন সম্মিলিতভাবে ইহুদী-নাছারা ও মুশরিক গেরুয়া গংরা সউদী ওহাবী বাদশাহ ও ওহাবী বিদয়াতী মালানাদের সামনে তাদের একদফা একদাবি তুলে ধরলো! তাদের সেই একদফা একদাবি ছিলো- “যদি মুসলমানদের অনুসরণীয় কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ হতে ৭শ’ পবিত্র আয়াত শরীফ বাদ দিয়ে সউদী বাদশাহ নতুন করে পবিত্র কুরআন শরীফ ছাপিয়ে সারা বিশ্বে প্রচার করতে পারে, তাহলে এই আন্তঃধর্ম সম্মেলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে। নতুবা কখনোই সম্ভব নয়।” কাফির-মুশরিকদের এমন কুপ্রস্তাবে সউদী ওহাবী বাদশাহ আর তার অনুসারী ওহাবী মালানারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। পরে তারা কৌশলে বলে, ঠিক আছে আমরা এই প্রস্তাব সারা বিশ্বের আলেম-উলামা যাঁরা এখানে আসতে পারেন নাই উনাদের নিকট পাঠাবো। পরবর্তীতে এমন কুফরী প্রস্তাব সম্বলিত চিঠি তখন বাংলাদেশে ধর্মব্যবসায়ী মালানা মাহিউদ্দীন খানের নিকটও এসেছিলো। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।
এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ হতে হাজার হাজার পবিত্র আয়াত শরীফ বাদ দিয়ে বেছে বেছে কেন ৭শ’ পবিত্র আয়াত শরীফ বাদ দিতে বলা হলো? কারণ খুবই সহজ। উপরোক্ত ৭শ’ পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বারবার বিভিন্নভাবে সতর্ক করে সাবধান করে মেছাল দিয়ে বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, মুসলমান ঈমানদার ব্যতীত কোনো বিধর্মী, বিজাতি, ইহুদী, নাছারা, মুশরিক তারা কখনোই মুসলমান ঈমানদার উনাদের বন্ধু হতে পারে না। তারা ঈমানদার মুসলমানদের দুশমন শত্রু। তারা কখনোই ঈমানদারদের কল্যাণ কামনা করে না। তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। তাদের কোনো নিয়মনীতি তর্জ-তরীক্বা অনুসরণ-অনুকরণ করা যাবে না।
ইহুদী, নাছারা, মুশরিকসহ তাবৎ বিধর্মী বিজাতিরা ঠিকই বুঝলো, যেই মুসলমানদের প্রতি এমন নির্দেশ মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে। সেই মুসলমান জাতি যদি তাদের সাথে মিল-মুহব্বত বন্ধুত্ব আন্তঃধর্ম করতে চায়; তাহলে ঐ ৭শ’ পবিত্র আয়াত শরীফ রাখলে চলবে না। সেটা বাদ দেয়ার দাবি জানাতে হবে এবং তারা দাবি জানালোও। নাউযুবিল্লাহ! তারা তাদের কুফরী-শিরকীতে কত প্রবল- এই ঘটনা দ্বারা সেই বিষয়টি আবারো বিশ্ববাসীর নিকট প্রমাণিত হলো। একই সাথে সউদী ওহাবী বাদশাহ গং এবং তাদের মালানারাও যে মুসলমান নামধারী কাট্টা মুনাফিক সেটাও ধরা পড়লো। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে