কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে আছে বলেই কথিত জাতীয় সঙ্গীত বন্ধের দাবি করা হচ্ছে


পবিত্র কুরআন শরীফ মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ যিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বওল, ফে’ল ও তাকরীর অর্থাৎ কথা মুবারক, কাজ মুবারক ও সম্মতি মুবারক। মুসলমান তিনি প্রেসিডেন্ট হোন আর প্রাইম মিনিস্টার হোন, প্রধান বিচারক হোন অথবা সাধারণ বিচারক হোন কিংবা সাধারণ শ্রমিক বা দিনমজুর হোন না কেন, প্রত্যেকের জন্যেই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করা ফরয এবং উনার সম্মানিত কালাম পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করা ও উনার আদেশ-নিষেধ মান্য করা ফরয।
একইভাবে যিনি কুল মাখলুকাতের সম্মানিত নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনা এবং উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হুকুম বা আদেশ-নিষেধ মুবারক মান্য করা ফরয। অন্যথায় কেউ ঈমানদার মু’মিন মুসলমান হিসেবে গণ্য হবে না বা সাব্যস্ত হবে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সমস্ত প্রকার সঙ্গীত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
যেমন এ প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَـهْوَ الْـحـَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا ۚ اُولٰئِكَ لَـهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ
অর্থ: মানুষের মধ্যে কতক এরূপ রয়েছে, যারা ‘লাহওয়াল হাদীছ’ অর্থাৎ সঙ্গীত, বাদ্য ইত্যাদি খরিদ করে, যেন বিনা ইলিমে মানুষদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে এবং হাসি ঠাট্টারূপে ব্যবহার করে। এদের জন্যেই রয়েছে অপমানজনক কঠিন শাস্তি। (পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْن عمر رَضِيَ اللهُ تَعَالٰي عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِسْتِمَاعُ الْمَلَاهِي مَعْصِيَةٌ وَالْجُلُوسُ عَلَيْهَا فِسْقٌ وَالتَّلَذُّذُ بِهَا كُفْرٌ
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সঙ্গীত শ্রবণ করা গুণাহ, সঙ্গীত অনুষ্ঠানে বসা বা উপস্থিত হওয়া ফাসিকী এবং সঙ্গীতের স্বাদ আস্বাদন করা কুফরী। (বাহরুর রায়িক্ব, মাবসূত ইত্যাদি)
উল্লেখ্য, উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে لهو শব্দ মুবারক হতেই উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে الملاهى শব্দটি এসেছে। উভয় শব্দ মুবারকের অর্থই হচ্ছে সঙ্গীত, বিনোদন, বাদ্য ইত্যাদি।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে