নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বতের অনুপম দৃষ্টান্ত


কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ  হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বতের অনুপম দৃষ্টান্ত:

“তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের জান-মাল ,পিতা-মাতা,সন্তান-সন্তুতি ও সমস্ত মানুষ হতে বেশী প্রিয় না হবে।”
কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত বাণী মুবারকের সত্যতা হযরত ছাহাবা -ই -কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম উনারা  নিজেদের আমল মুবারক দ্বারা এমনভাবে প্রমাণ করেছিলেন যা বিশ্বের ইতিহাসে শুধু বিস্ময়কর নয় বরং কল্পনাতীত। নীচে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো-

০১ . উহূদের যুদ্ধের ঘটনা : কাফিররা নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছিলেন। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু এতটুকু বললেন যে ,কে আছ,যে আমার সম্মুখে দাঁড়াতে পার? একথা মুবারক শোনামাত্র একজন ছাহাবী কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু এসে উনার সম্মুখে দাঁড়ালেন আর দুশমনের নিক্ষিপ্ত তীরগুলো আপন বুকে পেতে নিলেন । যুদ্ধ শেষে দেখা গেল ঐ ছাহাবী কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার দেহে মুবারকে প্রায় ৮০ টি তীর নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কিন্তু একটিও পৃষ্ঠদেশে বা পাজরে নিক্ষিপ্ত হয়নি । বরং সবই ঐ সাহাবী কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার দেহ মুবারকের সম্মুখভাগেই নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

০২. বদর যুদ্ধের সময় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম খলিফা আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ছেলে কাফিরদের পক্ষ হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল। অবশ্য পরে তিনি মুসলমান হয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহনের পর কথা প্রসঙ্গে তিনি উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত সিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, সম্মানিত আব্বাজান ! বদর রনাঙ্গনে আমি কয়েকবার আপনাকে হাতের মুঠোয় পেয়েও ক্বতল করিনি , যেহেতু আপনি আমার সম্মানিত পিতা তাই তা থেকে বিরত থেকেছিলাম । তখন আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ছেলে কে বললেন, আমি তোমাকে রনাঙ্গনে দেখেনি । যদি দেখতাম তাহলে অবশ্যই ক্বতল করতাম । কেননা তুমি প্রিয় নবী নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলে । এভাবে আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সমস্ত জীবনটাই ছিল নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রেমের নিদর্শনে ভরপুর ।

০৩. উম্মুল মু’মিনীন মু তাহহারাহ, মুতহ্হিরাহ, ত্বাহিরাহ ,ত্বয়্যিবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাবীবা আলাইহাস সালাম যখন উনার আহাল /স্বামীসহ আবসিনিয়ায় হিজরত করেন তখন ঘটনা ক্রমে উনার স্বামী/আহাল ইন্তিকাল করেন। পরবর্তীতে উম্মুল মু’মিনীন মু তাহহারাহ, মুতহ্হিরাহ, ত্বাহিরাহ ,ত্বয়্যিবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাবীবা আলাইহাস সালাম উনার নিযবাতুল আযীম শরীফ সুসম্পূর্ন হয় স্বয়ং নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে । এ দিকে ষষ্ঠ হিজরীতে সন্ধির পর হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু মদীনায় এলে সরাসরি উনার মেয়ে উম্মুল মু’মিনীন মু তাহহারাহ, মুতহ্হিরাহ, ত্বাহিরাহ ,ত্বয়্যিবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাবীবা আলাইহাস সালাম উনা ঘরে গিয়ে উঠলো। উম্মুল মু’মিনীন মু তাহহারাহ, মুতহ্হিরাহ, ত্বাহিরাহ ,ত্বয়্যিবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাবীবা আলাইহাস সালাম আপন পিতা দেখে ফরাশ তুলে ফেলেন। উম্মুল মু’মিনীন মু তাহহারাহ, মুতহ্হিরাহ, ত্বাহিরাহ ,ত্বয়্যিবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাবীবা আলাইহাস সালাম উনার এই আচরণ দেখে উনার পিতা হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি আমাকে দেখে ফরাশ তুলে ফেললে কেন? উম্মুল মু’মিনীন মু তাহহারাহ, মুতহ্হিরাহ, ত্বাহিরাহ ,ত্বয়্যিবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাবীবা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, এই বিছানা মুবারকে বিশ্রাম মুবারক গ্রহণ করেন নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । আপনি আমার পিতা ঠিকই কিন্তু কাফির । তাই আপনাকে উনার পবিত্র বিছানা মুবারকে বসতে দেয়নি ( এ ঘটনা হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ইসলাম গ্রহণের পূর্বের ঘটনা ) ।

০৪ .পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন দশ হাজার হযরত ছাহাবা – ই – কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা’বা শরীফের অভিমুখে রওনা হলেন । আনছার ও মুহাজির ছাহাবা – ই – কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কিশোর ও যুবকরা আনন্দে ” আল্লাহু আকবার ” ধ্বনিতে সকলেই উৎফুল্ল হয়ে উঠল । এ সময় অতি আনন্দের কারণে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দ্বিতীয় খলিফা আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দ্বিতীয় পুত্র হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে চলে গিয়েছিলেন । পুত্রের এ দৃশ্য দেখে আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে উনার পুত্র হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কে সজোরে ধাক্কা দিলেন এবং বললেন ,নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগে যাচ্ছ?কিন্তু পিতার ধাক্কায় পুত্র পাথরের উপর পড়ে গেলেন ও হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একটি পা মুবারক ভেঙ্গে গেল । তবু আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগে হাঁটা পছন্দ করলেন না।

০৫. তাবুক যুদ্ধের সময় নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবা – ই – কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে খালিক ,মালিক ,রব মহান আল্লাহ পাক উনার পথে দান করার জন্য অনুরোধ জানালেন । এ সময় অন্যান্য হযরত ছাহাবা – ই – কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজেদের সামর্থের চেয়ে বেশি সম্পদ দান করলেন । কিন্তু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম খলিফা আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি হুব্বে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক বিরল দৃষ্টান্ত ইতিহাস সৃষ্টি করলেন । আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ঘরের সেলাইয়ের সুতা এমনকি চুলার ছাই পর্যন্ত এনে নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারকে পেশ করলেন । নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, হে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম! আপনি ঘরে কিছু রেখে এসেছেন তো ? জবাবে আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন,আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম বললেন, ইয়া রসূল্ল্ল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার ঘর মুবারকে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে রেখে এসেছি যা আমার( সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম ) পরিবারের জন্য যথেষ্ঠ ।

কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবা – ই – কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যে অসাধারণ মুহব্বত এবং আনুগত্যতা ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । আয় খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ! আপনি আমাদের সকলকে আমাদের যিনি আঁকা যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ , খলীফাতুল্লাহ , খলীফাতু রসূলিল্লাহ , ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত , ইমামুল আইম্মাহ , মুহইউস সুন্নাহ , কুতুবুল আলম , মুজাদ্দিদে আ’যম , হুজ্জাতুল ইসলাম , সুলত্বানুল আরিফীন , সাইয়্যিদুল আওলিয়া , সুলত্বানিন নাছীর , আল ক্বাইয়্যূমুয যামান , আল জাব্বারিউল আউয়াল , আল ক্ববিউল আউয়াল , হাকীমুল হাদিস , জামিউল আলক্বাব, বাহরুল উলুম , মুর্শিদে আ’যম , রসূলে নো’মা,ছহিবু কুন ফাইয়াকুন , ছহিবু সাইয়্যিদিল আই’য়াদ শরীফ , মুত্বাহহার. মুত্বহহির , আছ ছমাদ ,আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার উছিলায় কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ- অনুকরণ করে উনার খাছ মুহব্বত মুবারক হাছিল করার এবং উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফসমূহের পরিপূর্ণ মেছদাক হওয়ার তাওফিক দান করুন । আমীন ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]