সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

খুঁদে বিজ্ঞানী মুহম্মদ শাহাবুদ্দীন সামির যত আবিষ্কার


ঝড় হাওয়ার কবলে পড়লে, যথাযথ ফিটনেস না থাকলে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আইন অমান্য করে চালালে বা চালকের অদক্ষতার কারণে ডুবে যেতে পারে একটি লঞ্চ। ফলে আবিষ্কারক মুহম্মদ শাহাবুদ্দীন সামি উনার খুব ইচ্ছা হলো এমন কিছু আবিষ্কার করতে, যাতে ডুবে যাওয়া লঞ্চ খুঁজে বের করা যায়। আরো ভেবে দেখলেন, ডুবতে শুরু করামাত্র লঞ্চের গায়ে সিল্ট বা বেলে মাটি জমতে থাকে। উদ্ধার করতে আসা লঞ্চ পৌঁছানোর আগেই বেলে মাটি জমে, মানুষ ও অন্যান্য দ্রব্যসহ নিজের বিশাল ওজনের ভারে লঞ্চ ডুবে যায়। এসব সমস্যার কথা ভেবে মুহম্মদ সামি তিনি দাঁড় করালেন একটি প্রজেক্ট। নাম দিলেন ‘সামি’স প্রজেক্ট ফর লঞ্চ রিকভারি’ (জীবন রক্ষা ও ডুবন্ত লঞ্চ উদ্ধারে সামির প্রকল্প)।

রেডিয়াম ডোম: এই প্রকল্পের মূল জিনিসটি হলো একটি বয়া বা রেডিয়াম ডোম। চার ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের বয়াটি স্থাপিত থাকবে লঞ্চের ছাদে। তাতে সংযুক্ত থাকবে ১০০টি হ্যাঙ্গার বা আংটা। যাত্রীরা লঞ্চ ডুবে যাওয়ার আগেই এ দুই স্তরের আংটাগুলো ধরে জীবন বাঁচাবেন। লঞ্চ ডুবতে শুরু করামাত্র নাইলনের দড়ির সঙ্গে সংযুক্ত বয়াটি ভেসে উঠবে পানিতে। রেডিয়ামের কাভারযুক্ত বয়াটির গা থেকে আলো জ্বলতে থাকবে। বহু দূর থেকে দেখা যাবে এই আলো। এদিকে বয়াটির সঙ্গে সংযুক্ত পানিনিরোধক সাইরেন থেকে বিপদসংকেত দিয়ে আওয়াজ করতে থাকবে। এই সাইরেন এমনভাবে বানানো যে পানির সংস্পর্শে আসামাত্র এটি আওয়াজ শুরু করবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

আলোর উৎস ও সাইরেনের প্রবল শব্দে স্থানীয় জনতা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড সঙ্গে সঙ্গে নামতে পারবে উদ্ধার অভিযানে। লঞ্চ নদীর তলদেশে চলে গেলেও উদ্ধারকারী জাহাজ এসে নাইলনের রশির সূত্র ধরে জাহাজের অবস্থান সহজেই শনাক্ত করতে পারবে। কারণ কর্তৃপক্ষের কাছে জেনে নদীর সর্বোচ্চ গভীরতা অনুযায়ী নাইলনের দড়িটি নেওয়া হবে। দুই ইঞ্চি মোটা হওয়ায় পানির স্রোত বা অন্য কোনো কারণে এটি ছিঁড়ে যাওয়ার নেই কোনো আশঙ্কা।

শাহাবুদ্দীন সামি উদ্ভাবিত জীবন রক্ষা ও ডুবন্ত লঞ্চ শনাক্ত করার এই প্রকল্পটি ১০০ যাত্রী বহনে সক্ষম লঞ্চের জন্য প্রযোজ্য। প্রয়োজনে এই সুবিধা লঞ্চের আয়তন ও যাত্রী ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বাড়ানো-কমানো সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় রেডিয়াম ডোমকে আরো উন্নততর করা সম্ভব বলে দাবি করেন আবিষ্কারক।

এই অভিনব প্রকল্পটি আবিস্কারের জন্য মুহম্মদ শাহাবুদ্দীন সামি জাতীয় বিজ্ঞান ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সপ্তাহ-২০০৫-এ নেত্রকোনার জেলার শ্রেষ্ঠ খুঁদে বিজ্ঞানীর পুরস্কার এনে দেয়।

খুঁদে বিজ্ঞানী মুহম্মদ শাহাবুদ্দীন সামি উনার তিনটি প্রকল্প- অটো রেল কন্ট্রোলার, অটো ব্রিজ সিগন্যাল (ছোট সড়কের অপর পাশের গাড়ির চালককে এই যন্ত্র সিগন্যাল দিয়ে জানিয়ে দেবে যে ব্রিজের ওপর গাড়ি আছে। ফলে এড়ানো যাবে মুখোমুখি সংঘর্ষ) ও ডুবন্ত লঞ্চ উদ্ধার মডেল প্রকল্প। তিনটি প্রকল্প গবেষকদের দেখার জন্য, জানার জন্য সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।

বিজ্ঞানী মুহম্মদ শাহাবুদ্দীন সামি উনার অন্যান্য আবিস্কার: ১. অটো রেল কন্ট্রোলার: অত্যন্ত আলোচিত অটো রেল কন্ট্রোলার যা এক স্টেশনে ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি স্টেশনের যাত্রীরা স্টেশনে স্থাপিত প্যানেল বোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন। ফলে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে না। ২. রেলের সিগন্যাল স্টেশন ৩. অটো ব্রিজ সিগন্যাল ৪. বিকল্প থার্মোফ্লাস্ক: তাপ কুপরিবাহী তুলা ও কাঠের ভুষি দিয়ে তৈরি ৫. বাতাসের গতি নির্ণায়ক: ভবনের ভেতরে বসে বাইরের বাতাসের প্রবাহ নির্ণয় ৬. দুর্ঘটনায় ডুবন্ত লঞ্চ উদ্ধার ও জীবনরক্ষা প্রজেক্ট ৭. লাইফ জ্যাকেট ৮. গ্রামীণ ফিল্টার ও ৯. সাইকেল থেকে বিদ্যুৎ: দুই ঘণ্টা সাইকেল চালিয়ে চাকার ঘূর্ণনগতিকে কাজে লাগিয়ে ছয় ভোল্টের ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ করা সম্ভব। তাতে বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় ছাত্রছাত্রীরা বাতি জ্বালিয়ে করতে পারবে লেখাপড়া।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে