খ্রিস্টান পাদ্রী মেকলের বক্তব্য: মুসলমানদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধবংস করার মাধ্যমেই তাদেরকে গোলামের জাতিতে পরিণত করা সম্ভব (নাউযুবিল্লাহ!)


বলা হয়ে থাকে, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড-’। কথাটি কাফির-মুশরিকরা যতোটা বুঝতে পারে, মুসলমানরা তার কিয়দংশও বুঝতে পারে না। যে কারণে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের মুসলমানদের মেরুদ-স্বরূপ যে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা, তাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। এর ফলেই ব্রিটিশরা ১৯০ বছর তাদের শাসন জারি রাখতে পেরেছিল এবং এখন পর্যন্ত মুসলমানদের মনমগজ থেকে ব্রিটিশদের গোলামি যায়নি তাদের শিক্ষাব্যবস্থা জারি থাকার কারণে।

ভারতবর্ষে মুসলমানদের শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিল দু’জন, খ্রিস্টান মিশনারী মেকলে এবং কথিত ‘রাজা’ রামমোহন রায়। ১৮৩৫ ঈসায়ীর ২রা ফেব্রুয়ারিতে মেকলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে বক্তব্যটি প্রদান করেছিল তা হলো-

I have traveled across the length and breadth of India and I have not seen one person who is a beggar, who is a thief. Such wealth I have seen in the country, such high moral values, people of such caliber, that I do not think we would conquer this country, unless we break the very backbone of this nation, which is her spiritual and cultural heritage, and therefore, I propose that we replace her old and ancient education system, her culture, for if the Indians think that all that is foreign and english is good and greater than their own, they will lose their self esteem, their native culture and they will become what we want them, a truly dominated nation.

অর্থ: আমি ভারতবর্ষের প্রতিটি আনাচে-কানাচে ভ্রমণ করেছি এবং আমি কোনো ভিক্ষুক কিংবা চোরের দেখা পাইনি। এত প্রাচুর্য আমি এই দেশে দেখেছি, এতো উচ্চ নৈতিকতা, এতো আত্মসম্মানবোধ আমি ভারতবর্ষের মুসলমাদের মাঝে দেখেছি যে, আমার ভয় হয়, আমরা ব্রিটিশরা কখনোই ভারতবর্ষকে কব্জা করতে পারবো না। যদি না আমরা এই জাতির মেরুদ- ভেঙে দেই, যে মেরুদ- হচ্ছে মুসলমানদের আধ্যাত্মিকতা তথা ইলমে তাছাউফ ও ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের ঐতিহ্যবাহী ধারা।

সুতরাং আমি পাদ্রী মেকলে প্রস্তাব করছি যে, ভারতীয় মুসলমানদের সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থা, তাঁদের তাহযীব-তামাদ্দুনকে বিজাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হোক। যদি মুসলমানদের মনে এটি ঢুকিয়ে দেয়া যায় যে, বিজাতীয় ও ব্রিটিশ সমস্তকিছুই মুসলমানদের নিজেদের স্বকীয় যা কিছু আছে তার তুলনায় উত্তম, সেক্ষেত্রে মুসলমানরা তাদের আত্মসম্মানবোধ ও নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলবে এবং মুসলমানরা পরিণত হবে সেরকম একটি জাতিতে যা আমরা ব্রিটিশরা চাই, একটি সত্যিকারের পদানত জাতিতে।” (নাউযুবিল্লাহ!)

বাহ্যিক দাসত্ব যতোটা না ভয়ানক, তার তুলনায় অনেক বেশি ভয়ানক হলো মানসিক দাসত্ব। ব্রিটিশরা যেভাবে একদা মুসলমানদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ভারতবর্ষকে পরাধীন করতে সক্ষম হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই বর্তমানে এদেশের গোমরাহ শাসকদের তত্ত্বাবধানে আগাগোড়া ইসলামবিরোধী সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশকে ফের পরাধীন করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

সেই ব্রিটিশআমলে আমাদের কোন অভিভাবক ছিল না, কিন্তু আজ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আমাদের মাঝে তাশরীফ মুবারক রেখেছেন এই ভয়ানক পরিণতি থেকে আমাদের উদ্ধার করার লক্ষ্যে। তিনি এই কুফরী শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাজদীদ মুবারক করছেন। যে বা যারা উনার এই সুমহান তাজদীদ মুবারক উনার মধ্যে খিদমত মুবারক আনজাম দিতে পারবে, তারাই হবে কামিয়াব।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে