গোল্ডেন রাইস একটি প্রতারণামূলক লোভনীয় “মূলা”


এই রাইস দিয়ে রাতকানা রোগ সারাতে চায় কোম্পানি:

এই রাইস দিয়ে বাংলাদেশ, ফিলিপাইনের রাতকানা রোগ সারাতে চায় কোম্পানি। এটা নাকি তাদের মানবহিতৈষী কর্মের একটা নিদর্শন। কোম্পানির বয়ান হচ্ছে এই রাইসে বিটা ক্যারোটিন উৎপাদনকারি জিন ট্রান্সফার করা হয়েছে, ফলে এই রাইস খেলেই অপুষ্টির শিকার গরিব মানুষ ‘ভিটামিন এ’র অভাব দূর করে রাতকানা থেকে রক্ষা পাবেন।
গোল্ডেন রাইস দিয়ে যারা রাতকানা রোগ সারাতে চায় তারা নিজেরাই এই রাইস বিষয়ক গবেষণায় রাতকানা হয়ে আছে।

কিন্তু কোম্পানির এই বয়ানের সাথে অনেক বিশেষজ্ঞই একমত নন, ত্দের মতে এই রাইস দিয়ে ‘ভিটামিন এ’ এর ঘাটতি দূর করার একচেটিয়া প্রচার সঠিক নয়। ধান কেটে নেবার পর কতটা সময় এই পুষ্টি ধানে থাকে এবং রান্নার পরে কতখানি অবশিষ্ট থাকে তা নিয়ে অনেক সন্দেহ রয়েছে। রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারনেই বিটা ক্যারোটিন সহজেই জারিত হয়। এই যৌগে অনেকগুলো কনজুগেটেড ডাবল বন্ডের কারনে তা আলো কিংবা অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ভেঙ্গে যেতে পারে। ধান মাড়াইয়ের পর শুকিয়ে স্টোরেজ কন্ডিশনে রাখা হলে তা জারিত হয়ে যেতে পারে, ফলে ধানে ভিটামিন এ এর পরিমাণ অনেক লোয়ার লেভেলে চলে যাবে, অর্থাৎ তা রাতকানা রোগ সারাতে ব্যর্থ হবে। স্টোরেজ কন্ডিশনে রাখার পর গোল্ডেন রাইসে ‘ভিটামিন এ’ এর লেভেল কতটুকু থাকবে তার পরীক্ষা ছাড়া এটা তাই বাজারে ছাড়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশে ব্রি এই পরীক্ষা করেছে বলে আমাদের জানা নাই। গোল্ডেন রাইস এর জৈবপ্রাপ্যতা (Bioavailability) নিয়ে কোম্পানি ২০১২ সালে যে পরীক্ষা করে তাতে ক্যারোটিনয়েডের সহজেই অক্সিডাইজ হওয়ার এই প্রবণতা মাথায় রেখে গোল্ডেন রাইস উৎপাদনের সাথে সাথেই তাকে মাইনাস ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সংরক্ষিত করা হয় এবং তারপর শিশুদের খাওয়ানো হয়। ফলে এই রেজাল্ট গ্রহণযোগ্য নয় ( সূত্র: Golden Rice ¸ths; Michael Hansen) । স্বাভাবিক তাপমাত্রায় স্টোরেজ কন্ডিশনে এই গোল্ডেন রাইসের bioavailability টেস্ট না করার গোমর কি? এটা একটা বায়াসড টেস্ট, এই টেস্টের উপর ভিত্তি করে যে দাবি করা হচ্ছে এই রাইস রাতকানা দূর করবে তাতে আস্থা রাখার ফুরসত কই?

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]