ছাহিবুল কাওছার, ছাহিবুল মাহশার, ছাহিবুল লিওয়ায়িল হামদ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ উনার শান মান এবং ইহুদীদের বংশধর সউদী ওহাবী শাসকের গযবপ্রাপ্ত হওয়ার অভিলাষ। নাঊযুবিল্লাহ!


সব প্রশংসা মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছলাত শরীফ ও সালাম মুবারক।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়া থেকে আড়াল হয়ে যেখানে মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারকে মশগুল আছেন সে মহান স্থানকে ‘মুবারক রওযা শরীফ’ বলে। যা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত। পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত থাকার কারণে এবং পবিত্র মদীনা শরীফ যমীনে অবস্থিত থাকার কারণে পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মর্যাদা-মর্তবা লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ! একই কারণে যমীনের মর্যাদা আসমানের থেকে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!
বিশ্ববিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ (শামী)-এর বাবুয্ যিয়ারহ-তে বর্ণিত আছে, “নিশ্চয়ই পবিত্র রওযা শরীফ উনার যে মাটি মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারকের সাথে লেগে রয়েছে, তা যমীন ও আসমানের সমস্ত কিছু থেকে ফযীলতপূর্ণ। এমনকি সুমহান আরশে আযীমের থেকেও ফযীলতপূর্ণ।” সুবহানাল্লাহ!
‘মিশকাত শরীফ’ উনার কিতাবুল হজ্জ-এর সর্বশেষ বাবে বর্ণিত আছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা থেকে মারফু’ সনদে বর্ণিত আছে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে আমার বিছাল শরীফ গ্রহণের পর পবিত্র হজ্জ করে আমার যিয়ারত করে, সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে আমার হায়াত মুবারকে যিয়ারত মুবারক করলো।” (বায়হাক্বী ফী শুয়াবিল ঈমান)
‘মিশকাত শরীফ’ উনার কিতাবুল হজ্জ-এর সর্বশেষ বাবে বর্ণিত আছে, “হযরত উমর বিন খাত্তাব আলাইহিস সালাম উনার পরিবারের একজন হযরত ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় শুধু আমার যিয়ারত মুবারক উনার উদ্দেশ্যে এসে আমার যিয়ারত মুবারক করলো, ক্বিয়ামতের দিন সে আমার পার্শ্বে প্রতিবেশী হিসেবে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (বায়হাক্বী ফী শুয়াবিল ঈমান)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “যে ব্যক্তি আমার বিছাল শরীফ গ্রহণের পর আমার যিয়ারত মুবারক করলো, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার যিয়ারত মুবারক (সাক্ষাৎ) করলো।” সুবহানাল্লাহ! (ইখতিয়ার, নূরুল ইযাহ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আরো বর্ণিত আছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমার রওযা শরীফ যিয়ারত মুবারক করলো, তার জন্য আমার সুপারিশ অপরিহার্য বা ওয়াজিব হয়ে গেল।” সুবহানাল্লাহ! (ইখতিয়ার, নূরুল ঈযাহ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আমার (রওযা শরীফ) যিয়ারত মুবারক করলো না, সে আমার সাথে বেয়াদবী করলো।” নাঊযুবিল্লাহ! (ইখতিয়ার, নূরুল ঈযাহ)
তেমনিভাবে যারা পবিত্র হজ্জ করতে গেল এবং ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নতসহ যথারীতি হজ্জ সমাধা করলো কিন্তু পবিত্র রওযা শরীফ যিয়ারত মুবারক করলো না তাদের হজ্জ কবূল হবে না। অর্থাৎ তাদের হজ্জ করা না করা সমান। যেমন: এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি হজ্জ করলো, কিন্তু আমার (রওযা শরীফ) যিয়ারত মুবারক করলো না, সে আমার সাথে বেয়াদবী করলো।” অর্থাৎ তার হজ্জ কবূল হবে না। (জযবুল কুলূব ইলা দিয়ারিল মাহবূব)
উদ্ধৃত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে থেকে পবিত্র রওযায়ে পাক জিয়ারত মুবারক উনার গুরুত্বের পাশাপাশি মূলত পবিত্র রওযা শরীফ উনার বেমেছাল শান ও মানের বিষয়টি প্রতিভাত হয়। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ্ পাক তিনি যে সকল বস্তুকে সম্মানিত করেছেন, উনাদেরকে যে ব্যক্তি সম্মান করলো, এটা তার জন্য কল্যাণ বা ভালাইয়ের কারণ।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩০)
মূলত পবিত্র রওযা শরীফ উনার ফযীলত-ফযীলত বর্ণনা করা আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত আলোচনা করা একই কথা। এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ নাযিল করেছেন। আর ‘কাওছার’ উনার লক্ষ-কোটি অর্থ রয়েছে। একটা হচ্ছে খাইরে কাছির তথা সমস্ত ভালাই দেয়া হয়েছে। আরেকটা হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবতের কারণে সব কিছুই উত্তম থেকে উত্তমতর করা হয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনাকে সম্মানিত করে উহাকে হারাম করেছেন, আর আমি পবিত্র মদীনা শরীফ উনাকে উহার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থলকে সম্মানিত করলাম যথাযোগ্য সম্মানে। উহাতে রক্তপাত করা যাবে না, যুদ্ধের জন্য অস্ত্র গ্রহণ করা যাবে না এবং আলাফ ব্যতীত উহাতে কোনো গাছের পাতা কাটা যাবে না।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উল্লেখ্য, পবিত্র মদীনা শরীফ উনাকে সম্মান করা ঈমান। এজন্য পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সংশ্লিষ্ট সমস্ত কিছুকেই অত্যন্ত মুহব্বত করতে হবে। অবমাননা করা যাবে না। অন্যথায় কঠিন গুনাহগার হতে হবে। সেটাই হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়া দিয়েছেন যে, “যে ব্যক্তি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মাটি নাপাক বলবে তাকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে এবং খালিছ তওবা-ইস্তিগফার না করা পর্যন্ত তাকে বন্দি করে রাখতে হবে।”
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইহুদীদের বংশধর বর্তমানে সউদী ওহাবী সরকার মূলত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিদ্বেষ এবং মুসলমান উনাদের হজ্জ তথা ঈমান-আমল নষ্ট এবং মহাপবিত্র রওযা শরীফ যিয়ারত উনার বরকত থেকে মাহরূম করার লক্ষ্যেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র রওযা শরীফ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি- এমন কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনারা নেই, যেখানে উনাদের পবিত্র রূহ মুবারক কবজ করা হয়েছে কিন্তু সেখানে (দাফন মুবারক তথা) রওযা মুবারক স্থাপন করা হয়নি।” অর্থাৎ হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা যেখানেই পত্রিতম বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন উনাদেরকে সেখানেই সমাহিত করা হয়েছে। (বাগবী শরীফ, ইবনে আসাকির, তারিখুল খুলাফা)
কাজেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ তথা জিসিম মুবারক স্থানান্তরের কথা যারা বলবে, তারা মুসলমান থাকতে পারে না। নাঊযুবিল্লাহ! মূলত, ইহুদীদের বংশধর সউদী ওহাবী শাসক গোষ্ঠী মুসলমান নয় বলেই তাদের পক্ষে এরূপ কাট্টা কুফরী কথা বলা সম্ভব হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রসঙ্গত, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে- যদি তারা এরূপ মুরতাদী ঘোষণা ও পদক্ষেপ থেকে অনতিবিলম্বে সরে না আসে,
তাহলে অবশ্যই তারা অতিসত্বর নমরূদ, শাদ্দাদ ও ফিরআউনের চেয়েও ভয়ঙ্করভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ! এ ধ্বংস থেকে কেউ তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নিশ্চয়ই আপনার শত্রুরা নিবংশ হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+