‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ’ বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়ছালা


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বেমেছাল তাজদীদ মুবারক ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ’ বিষয়ে
ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বিষয়ে কিতাবে বহু মত উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো কিতাবে ৭টি, ৮টি, ১০টি, ১৩টি, ১৪টিও মত উল্লেখ রয়েছে। একসাথে এতোগুলো মত কস্মিনকালেও শুদ্ধ হতে পারে না। তাহলে মানুষ কোন মতটি গ্রহণ করবে? তাই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়ছালা হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ করা। কেননা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاِنْ اٰمَنُوْا بـِمِثْلِ مَاۤ اٰمَنْتُمْ بِهٖ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থ: “আপনারা (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা) যেভাবে ঈমান এনেছেন তারা (পরবর্তী উম্মতরা) যদি সেভাবে ঈমান আনতে পারে, তাহলে তারা হেদায়েত লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৭)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ مَنْ كَانَ مُسْتَنًّا فَلْيَسْتَنَّ بـِمَنْ قَدْ مَاتَ فَاِنَّ الْـحَـىَّ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ اُولَئِكَ اَصْحَابُ سَيِّدِنِا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوْا اَفْضَلَ هٰذِهِ الْاُمَّةِ اَبَرَّهَا قُلُوْبًا وَاَعْمَقَهَا عِلْمًا وَاَقَلَّهَا تَكَلُّفًا اِخْتَارَهُمُ اللهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهٖ وَلِاِقَامَةِ دِيْنِهٖ فَاعْرِفُوْا لَـهُمْ فَضْلَهُمْ وَاتَّبِعُوْهُمْ عَلـٰى اٰثَارِهِمْ وَتـَمَسَّكُوْا بِـمَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ اَخْلَاقِهِمْ وَسِيَرِهِمْ فَاِنَّهُمْ كَانُوْا عَلَى الْـهُدَى الْمُسْتَقِيْمِ.
অর্থ: “হযরত ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কেউ কাউকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে চায়, তাহলে সে যেন যাঁরা ইন্তিকাল করেছেন, উনাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করে। কেননা, নিশ্চয়ই যারা জিবীত তারা ফেতনা থেকে নিরাপদ নয়। (আর অনুসরণীয়-অনুকরণীয়) ঐ সমস্ত ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা। সুবহানাল্লাহ! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা হচ্ছেন এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। উনারা সবচেয়ে বিশুদ্ধ অন্তর মুবারকের অধিকারী, গভীর ইল্ম মুবারকের অধিকারী এবং অত্যন্ত খুলুছিয়াত মুবারকের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে মনোনীত করেছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক উনার জন্য এবং উনার মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সুবহানাল্লাহ! কাজেই তোমরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মর্যদা-ফযীলত মুবারক উপলব্ধি করো এবং উনাদের জিবনী মুবারক অনুসরণ-অনুকরণ করো। আর তোমরা সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী উনাদের আমল-আখলাক্ব, সীরত মুবারক অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মজবূতভাবে আঁকড়ে ধরে থাকো। কেননা, নিশ্চয়ই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা সঠিক পথের উপর, হেদায়াতের উপর অধিষ্ঠিত ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (রযীন, মিশকাত, মিরকাত ১/২৭৪, শারহুত্ ত্বীবী ২/৬৫৫, লুম‘আতুত্ তানক্বীহ্ ১/৫১১ ইত্যাদি)
আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের আমল মুবারক ও ক্বওল মুবারক দ্বারা এই বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছুই নেই। ‘সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো’ এটি একটি মাওযূ হাদীছ। আর অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে না আনা বা অসুস্থ ব্যক্তিকে দূরে রাখা বা রোগীদের সামনে না যাওয়া সম্পর্কিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো মানসূখ হয়ে গেছে। তার পাশাপাশি এই বিষয়টিও দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কুষ্ঠরোগী বা যে কোনো রোগীদের সাথে উঠা-বসা করা, শরীর ঘেঁষে বসা, হাতের সাথে হাত লাগানো, একই পাত্রে খাওয়া-দাওয়া করা, তারা যেই পাত্রে খায় ও পান করে এবং যে বিছানায় ঘুমায়, সেই পাত্রে খাওয়া ও পান করা এবং সেই বিছানায় ঘুমানো এবং রোগীরা হাত দিয়ে পাত্রের যেই স্থান থেকে খাবার খায়, হুবহু সেই স্থান থেকে সেই খাদ্য খাওয়া মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। ছোঁয়াচে রোগ বিশ্বাস করা কাট্টা হারাম, কুফরী এবং শিরকীর অন্তর্ভুক্ত।”
এখন এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
মূলত, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আমল মুবারক, সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ক্বওল মুবারক, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার আমল মুবারক, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ক্বওল মুবারক, বিশিষ্ট বদরী ছাহাবী হযরত মু‘আইক্বীব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সমর্থন মুবারক এবং হযরত মাহমূদ ইবনে লাবীদ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সমর্থন মুবারকসহ আরো অন্যান্য অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের আমল মুবারক ও ক্বওল মুবারক দ্বারা এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির সামনে না আনা বা অসুস্থ ব্যক্তিকে দূরে রাখা বা রোগীদের সামনে না যাওয়া সম্পর্কিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো মানসূখ হয়ে গেছে। তার পাশাপাশি এই বিষয়টিও দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কুষ্ঠরোগী বা যে কোনো রোগীদের সাথে উঠা-বসা করা, তাদের শরীর ঘেঁষে বসা, হাতের সাথে হাত লাগানো, একই পাত্রে খাওয়া-দাওয়া করা, তারা যেই পাত্রে খায় ও পান করে এবং যে বিছানায় ঘুমায়, সেই পাত্রে খাওয়া ও পান করা এবং সেই বিছানায় ঘুমানো এবং রোগীরা হাত দিয়ে পাত্রের যেই স্থান থেকে খাবার খায়, হুবহু সেই স্থান থেকে সেই খাদ্য খাওয়া মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে নি¤েœ কিছু দলীল উপস্থাপন করা হলো-

ক. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ:
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لَيْسَ عَلَى الْاَعْمٰى حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الْاَعْرَجِ حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الْمَرِيْضِ حَرَجٌ
অর্থ: “(তোমরা) অন্ধের সাথে, ল্যাংড়ার সাথে এবং অসুস্থদের সাথে খাবার খেতে পারো, তাতে কোনো অসুবিধা বা বিপদ নেই।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
‘মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ্ শরীফ’ উনার মধ্যে ‘আল আকলু মা‘আল মাজযূম বা কুষ্ঠরোগীর সাথে খাবার খাওয়া’ নামক অধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে,
كَانُوْا يَتَّقُوْنَ اَنْ يَّاْكُلُوْا مَعَ الْاَعْمٰى وَالْاَعْرَجِ وَالْمَرِيْضِ حَتّٰى نَزَلَتْ هٰذِهِ الْاٰيَةُ{لَيْسَ عَلَى الْاَعْمٰى حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الْاَعْرَجِ حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الْمَرِيْضِ حَرَجٌ}
অর্থ: “লোকজন অন্ধ, ল্যাংড়া এবং অসুস্থ লোকদের সাথে খাবার খেতে ভয় পেতো। তখন (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার ৬১ নং) এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হন-
لَيْسَ عَلَى الْاَعْمٰى حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الْاَعْرَجِ حَرَجٌ وَّلَا عَلَى الْمَرِيْضِ حَرَجٌ ‘(তোমরা) অন্ধের সাথে, ল্যাংড়ার সাথে এবং অসুস্থদের সাথে খাবার খেতে পারো, তাতে কোনো অসুবিধা বা বিপদ নেই।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ্ শরীফ ৫/১৪২)
এই বর্ণনা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা রোগী থেকে দূরে থাকা বা রোগীকে দূরে রাখা সংক্রান্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো মানসূখ হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!

খ. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ:
১. স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই কুষ্ঠরোগীসহ অন্যান্য রোগীদেরকে উনার পাশে বসিয়েছেন, তাদের হাত ধরেছেন, একই পাত্র মুবারক-এ খাওয়া-দাওয়া করেছেন এবং খাওয়া-দাওয়া করার জন্য সম্মানিত আদেশ মুবারক করেছেন:
(ক) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ يَـحْيَـى بْنِ جَعْدَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ اَسْوَدُ بِهٖ جُدَرِىٌّ قَدْ تَقَشَّرَ لَا يَـجْلِسُ جَنْبَ اَحَدٍ اِلَّا اَقَامَهٗ فَاَخَذَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَجْلَسَهٗ اِلـٰى جَنْبِهٖ.
অর্থ: “হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে জা’দাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ) একজন গুটিবসন্ত যুক্ত কালো লোক আসলেন, উনার গুটিবসন্তের কারণে গায়ের চামড়া উঠে গেছে। তিনি কারো সাথে না বসে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত ব্যক্তি উনাকে ধরে উনার পাশে বসালেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ ৫/১৪১ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২৪৫৩৭, আত্ তাওয়াদ্বু’ ওয়াল খুমুল ১/১০৮)
(খ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخَذَ بِيَدِ مَـجْذُوْمٍ فَاَدْخَلَهٗ مَعَهٗ فِـى الْقَصْعَةِ ثُـمَّ قَالَ كُلْ بِسْمِ اللهِ ثِقَةً بِاللهِ وَتَوَكُّلًا عَلَيْهِ.
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন কুষ্ঠরোগীর হাত ধরে তাঁর হাতকে উনার সাথে (খাবার খাওয়ানোর জন্য) উনার পাত্র মুবারক-এ প্রবেশ করালেন। তারপর ইরশাদ মুবারক করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক নিয়ে উনার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে এবং পূর্ণ ভরসা করে খাবার গ্রহণ করুন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৮১৭/ আবূ দাউদ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৯২৫, ইবনে মাজাহ্ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৫৪২, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৩/৩৫৪, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ ৫/১৪১, আল মুন্তাখাব মিন মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ ১/৩২৯, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাতি ১/৪১২, আল আদাবু লিল বাইহাক্বী ১/১৪৬, শু‘আবুল ঈমান ২/৪৮৮, শারহু সুনানি ইবনে মাজাহ লিস সুয়ূত্বী ১/২৭১, বাযলুল মাজহূদ ফী হাল্লি সুনানি আবী দাঊদ ১১/৬৫৩, আনীসুস সারী, আওনুল মা’বূদ ২১/২৪৭, আল মাসালিক ফী শারহি মুয়াত্ত্বাই মালিক ৭/৪১, সিলাহুল মু’মিন ফীদ দো‘আ ওয়ায যিক্র ১/৩৯৫, তুহ্ফাতুয যাকিরীন ১/২২৭ ইত্যাদি)
(গ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَّهٗ اَكَلَ مَعَ مَـجْذُوْمٍ خِلَافًا عَلـٰى اَهْلِ الْـجَاهِلِيَّةِ فِيْمَا كَانُوْا يَفْعَلُوْنَهٗ مِنْ تَرْكِ مُؤَاكَلَتِهٖ وَمُشَارَبَتِهٖ خَوْفًا مِنْ اَنْ يُّعْدِيَهُمْ دَاؤُهٗ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি কুষ্ঠরোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এটা ছিলো জাহিলী যুগের লোকদের বিপরীত আমল। রোগীর রোগ তাদেরকে সংক্রামিত করবে এ ভয়ে তারা রোগীর সাথে খাওয়া-দাওয়া ও পানাহার থেকে বিরত থাকতো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (তাহ্যীবুল আছার ৩/৩১)
(ঘ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلْ مَعَ صَاحِبِ الْبَلَاءِ تَوَاضُعًا لِرَبِّكَ وَاِيْـمَانًا.
অর্থ: “হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তুমি তোমার রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিনয়ী হয়ে এবং পূর্ণ বিশ্বাস রেখে রোগ-মুছীবতগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে খাদ্য গ্রহণ করো।” সুবহানাল্লাহ! (নুখাবুল আফকার ১৪/৯৪, আওনুল মা’বূদ ১০/৩০০, আত তানওইর ৮/২২১, আল ফাতহুল কাবীর ২/৩০০, জাম‘উল জাওয়ামি’ ৬/৪৪৩, জামি‘উল আহাদীছ ১৫/৩৬৬, ফাইযুল ক্বাদীর, আল জামিউছ ছগীর ২/১৬৬, তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াযী ৫/২০, মিরক্বাতুল মাফাতীহ্ ৭/২৮৯৮ ইত্যাদি)

২. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ক্বওল মুবারক এবং আমল মুবারক:
(ক) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) قَالَتْ كَانَ لَنَا مَوْلـى مَـجْذُوْمٌ فَكَانَ يَاْكُلُ فِـىْ صِحَافِـىْ وَيَشْرَبُ فِـىْ اَقْدَاحِىْ وَيَنَامُ عَلـٰى فِرَاشِىْ.
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একজন আযাদকৃত কুষ্ঠরোগী খাদেমা ছিলেন। তিনি আমার প্লেট মুবারক বা পাত্র মুবারক-এ খাবার খেতেন, আমার বাটি মুবারক-এ পানি পান করতেন এবং আমার বিছানা মুবারক-এ ঘুমাতেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুন নববী ৭/৩৯৩, তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াযী ৫/২০, ‘আওনুল মা’বূদ ৯/৮৭৬, নাইলুল আওত্বার ৭/২২০, তাহ্যীবুল আছার ৪/৬, আল ফতুহাতুর রব্বানিয়াহ্ ৫/২১৭ ইত্যাদি)
(খ) অপর বর্ণনায় রয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) قَالَتْ كَانَ لِـىْ مَوْلًـى مَـجْذُوْمٌ فَكَانَ يَنَامُ عَلـٰى فِرَاشِىْ وَيَاْكُلُ فِـىْ صِحَافِـىْ وَلَوْ كَانَ عَاشَ كَانَ عَلـٰى ذٰلِكَ.
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একজন আযাদকৃত কুষ্ঠরোগী খাদেমা ছিলেন। তিনি আমার বিছানা মুবারক-এ ঘুমাতেন এবং আমার প্লেট মুবারক বা পাত্র মুবারক-এ খাবার খেতেন। সেই খাদিমা তিনি যদি এখনও বেঁচে থাকতেন, তাহলে এখনও এরূপই করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ ৫/১৪২ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২৪৫৪১)
(গ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদা উনাকে একজন মহিলা ছাহাবিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি এরূপ বলেছেন যে, তোমরা সিংহের আক্রমণ থেকে যেভাবে পলায়ন করো, কুষ্ঠরোগীর থেকেও সেভাবে পলায়ন করো? জবাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! কস্মিনকালেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরূপ বলেননি। বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছুই নেই। তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন, তাহলে প্রথম উটটিকে সংক্রামিত করলো কে?’ আর আমাদের একজন আযাদকৃত খাদেমা ছিলেন, যাঁর কুষ্ঠরোগ হয়েছিলো। তারপরেও উক্ত খাদেমা তিনি আমার প্লেট বা পাত্র মুবারক-এ খাবার খেতেন, আমার বাটি মুবারক-এ পানি পান করতেন এবং আমার বিছানা মুবারক-এ ঘুমাতেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা বলেন যে, আবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগকে নাকচ করেছেন, বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুখাবুল আফকার ১৪/৯৩, উমদাতুল ক্বারী ২১/২৪৭, শারহু ছহীহিল বুখারী লিইবনে বাত্ত্বাল ৯/৪১০, আত তাওদ্বীহ লিশারহিল জামিয়িছ ছহীহ লিইবনে মুলক্বিন ২৭/৪২৪, তাহ্যীবুল আছার লিত ত্ববারী ৪/৬, আনীসু সারী ৯/৬৩৩১ ইত্যাদি)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]