ছোঁয়াচে বিশ্বাস করে কাতারে ফাঁক রাখলে কুফরী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ নেই।


নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা কাতারে পরস্পরে মিশে দাঁড়াও। দুই কাতারের মাঝে কিছু ফাঁক রাখ এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও।
জামায়াতে নামায আদায়ের সময় কাতার সোজা করা ও ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব। কোন অবস্থাতেই কাতারে ফাঁক রাখা যাবে না। কাতারে ফাঁক থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। নামাযে মাকরূহ তাহরীমী হলে নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব। আর ছোঁয়াচে বিশ্বাস করে কাতারে ফাঁক রাখলে কুফরী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ নেই। কাজেই যারা করোনার অজুহাতে কাতারে ফাঁক রেখে নামায আদায় করতে বলেছে তারা সুষ্পষ্ট কুফরী করেছে।
আর যারা কাতারে ফাঁক রেখে নামায আদায় করছে তাদের সকলের নামায বাতিল হচ্ছে। কাজেই তাদেরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই এর থেকে খালিছ তওবা ইস্তিগফার করতে হবে।
– সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম

ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, জামায়াতে নামায আদায়ের সময় কাতার সোজা করা ও ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব। কোন অবস্থাতেই কাতারে ফাঁক রাখা যাবেনা। কাতারে ফাঁক থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। নামাযে মাকরূহ তাহরীমী হলে নামায দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে সুনানু নাসাঈ শরীফের বাংলা অনুবাদের ১ম খণ্ডের ৪৪৯ পৃষ্ঠার ৮১৮ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে- “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা কাতারে পরস্পরে মিশে দাঁড়াও। দুই কাতারের মাঝে কিছু ফাঁক রাখ এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। অত:পর ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন মুবারক! নিশ্চয়ই আমি শয়তানকে দেখছি শয়তান ছোট ছোট বকরীর বাচ্চার মত কাতারের মধ্যে প্রবেশ করছে।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহের ইবারতে تَرَاصٌّوْا শব্দটি এবং سَدُّوا শব্দটি امر (আমর) এর ছীগাহ। আর হানাফী মাযহাবের উসূল হলো- امر (আমর) এর হুকুম হচ্ছে- وجوب উজুব বা ওয়াজিব। তাই যে পর্যন্ত এর বিপরীত কোন দলীল পাওয়া না যাবে, সে পর্যন্ত مطلقا (সাধারণভাবে) امر (আমর) এর হুকুম وجوب বা ওয়াজিব, হিসেবে বর্তাবে। যেমন “বাদায়েউস্ সানায়ে” কিতাবের ১ম খন্ডের ১৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “আর সাধারণভাবে امر (আমর) আমলকে ওয়াজিব করে দেয়।” শুধু তাই নয়, শয়তানের জন্য কাতারের ফাঁক না রাখার জন্য নিষেধ করা হয়েছে, যেমন, হাদীছে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা শয়তানের জন্য ফাঁক (শূন্যস্থান) রাখবে না।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো- হাদীছ শরীফসমূহের হুকুম এ পর্যায়ভূক্ত নয় কি? এ হুকুমের বিপরীত কোন হাদীছ, যারা ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়াতে বলে, তারা দেখাতে পারবে কি? কখনোই না। সুতরাং তোমরা কাতারে পরস্পরে মিলে দাঁড়াও তথা গাদা-গাদি করে, চাপা-চাপি করে, ঠাসা-ঠাসি করে, গায়ে গায়ে মিশে মিশে দাঁড়াও এবং কাতারের ফাঁক বন্ধ কর, এ সমস্ত বর্ণনার দ্বারা কাতারের ফাঁক বন্ধ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হলো।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেমন, এ প্রসঙ্গে “মাছাবীহুত তানবীর আলা ছহীহিল জামিয়িছ ছাগীর” কিতাবের ২য় খণ্ডের ২৬৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (“যে ব্যক্তি কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ করবে”) অর্থাৎ কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করবে, ….. কাতারে মুছল্লিদের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা সম্পর্কিত হাদীছ শরীফ খানা তা’কীদের জন্য এসেছে। তাই কাতারের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ না করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আর নামায মাকরূহ তাহরীমী হলে নামায দোহরানো ওয়াজিব। যেমন, বিশ্ববিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১০৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে- “নামাযের মধ্যে যদি মাকরূহ তাহরীমী হয়, তাহলে নামায দোহরানো ওয়াজিব।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কাজেই যারা করোনার অজুহাতে কাতারে ফাঁক রেখে নামায আদায় করতে বলেছে তারা সুষ্পষ্ট কুফরী করেছে। আর যারা কাতারে ফাঁক রেখে নামায আদায় করছে তাদের সকলের নামায বাতিল হচ্ছে। কাজেই তাদেরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই এর থেকে খালিছ তওবা ইস্তিগফার করতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে