জারাদ তথা টিড্ডি বা পঙ্গপাল খাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন-১


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اُحِلَّتْ لَنَا مَيْـتَـتَانِ الْـحُوْتُ وَالْـجَرَادُ‏.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাদের জন্য দুই প্রকারের মৃত জীব হালাল করা হয়েছে- মাছ এবং টিড্ডি (পঙ্গপাল)।” (ইবনে মাজাহ্ শরীফ: কিতাবুছ ছইদ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩২১৮, উমদাতুল ক্বারী ২১/১১০, হাশিয়াতুস সিন্দী ২/২৯২, আত্ তাওদ্বীহ্ লি ইবনে মুলক্বিন ২৬/৪১৩, আল মু’লিম বি ফাওয়াইদি মুসলিম ৩/৪১৩, ফাত্হুল মুন‘ইম ৮/৪৭, শারহু সুনানে আবী দাউদ লি ইবনে রাসলান ১৫/৪৪৫, তুহ্ফাতুল মুহ্তাজ ইলা আদিল্লাতিল মিনহাজ ১/২১৬, মিছবাহুয্ যুজাজাহ্ ফী যাওয়াইদে ইবনে মাজাহ্ ৩/২৩৭, কিফাইয়াতুল আখয়ার ফী হাল্লি গ¦ায়াতুল ইখতিছার পৃষ্ঠা নং ৫২৬, আন নাজমুল ওয়াহ্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ ৯/৪৫৭, আল ই’লাম বি ফাওয়াইদি উমদাতুল আহ্কাম ১০/১১৮, মাজাল্লাতুল মানার ২৭/৭৭৫ ইত্যাদি)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
أُحِلَّتْ لَنَا مَيْتَتَانِ الْحُوتُ وَالْجَرَادُ وَدَمَانِ الْكَبِدُ وَالطِّحَالُ.
অর্থ: “আমাদের জন্য দুই প্রকারের মৃত জীব হালাল করা হয়েছে- মাছ এবং টিড্ডি (পঙ্গপাল)।” (তাফসীরে কুরতুবী ২/২১৭, তাফসীরুল মুনীর লিয্ যাহীলী ২/৮০, আল মুখতাছারুল ফিক্বহী লি ইবনে আরাফাহ্ ২/৩১৪, ‘ইজালাতুল মুহ্তাজ ইলা তাওজীহিল মিনহাজ ৪/১৭৪৬ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা, মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনও জারাদ তথা টিড্ডি বা পঙ্গপাল খাননি। সুবহানাল্লাহ! তবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা খেয়েছেন।”
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ سَلْمَانَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالى عَنْهُ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْجَرَادِ فَقَالَ أَكْثَرُ جُنُودِ اللَّهِ لَا آكُلُهُ وَلَا أُحَرِّمُهُগ্ধ
অর্থ: “হযরত সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে টিড্ডি বা পঙ্গপাল খাওয়া সম্পর্কে সুওয়াল করা হলে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য সৈন্যবাহিনী রয়েছে। আমি এগুলো খাই না এবং হারামও বলি না।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ হাদীছ শরীফ নং ৩২১৯, আবূ দাঊদ শরীফ হাদীছ শরীফ নং ৩৮১৩, মুসনাদে বায্যার ৬/৪৭৭, সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৯/৪৩১, মাছাবীহুস্ সুন্নাহ্ ৩/১৪০, মিশকাত শরীফ, আল মুখলিছিয়্যাত ২/২৮৯, মিরক্বতুল মাফাতীহ্ ৭/২৬৬৬, হাশিয়াতুস সিন্দী ২/২৯২, শারহুত্ ত্বীবী ৯/২৮২৮, আল মু’লিম বি ফাওয়াইদি মুসলিম ৩/৪১৩, আত্ তাহ্দ্বীর লি ঈদ্বাহি মা‘আনিয়িত্ তাইসীর ৭/৫৮১, আল মাফাতীহ্ ফী শারহিল মাছাবীহ ৪/৪৮৮, আল মুইয়াস্সার ফী শারহী মাছাবীহিস্ সুন্নাহ্ লিত্ তূরবিশ্তী ৩/৯৪২, লাম‘আতুত্ তানক্বীহ্ ফী শারহি মিশকাতুল মাছাবীহ্ ৭/২০৩, শারহু সুনানি আবী দাউদ লি ইবনে রাস্লান ১৫/৪৪৩, বায্লুল মাজহূদ ১১/৫৩৭, ফাত্হুল ওয়াদূদ ফী শারহি সুনানি আবী দাউদ ৩/৩৪৩, জামি‘উল উছূল ৭/৪৩১, তুহ্ফাতুল আশরাফ ৪/২৯, আনীসুস্ সারী ৯/৬০০৯, কাশ্ফুল মানাহিজ ৩/৪৭৪, আল আহ্কামুল উস্ত্বা ৪/১২০, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩/৪৬২, আদ্ দুররুল মানছূর ৩/৫২২, ক্বাছাছুল আম্বিয়া ২/৬৭, আল বিদায়াহ্-ওয়ান নিহায়াহ্ ১/৩০৭, মু’জামুছ ছাহাবাহ্ লিল বাগবী ৩/১৬৭, তারীখু বাগদাদ ১৬/১১১, মুখতাছারু তারীখে দিমাশ্ক্ব ১০/২৪ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالى عَنْهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ فَاسْتَقْبَلَنَا رِجْلٌ مِنْ جَرَادٍ فَجَعَلْنَا نَضْرِبُهُ بِسِيَاطِنَا وَعِصِيِّنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُوْهُ فَاِنَّهُ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ‏.‏
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হাজ্জ অথবা ‘উমরাহ্ করতে বের হলাম। আমাদের সামনে এক ঝাঁক টিড্ডি এসে পড়ল। আমরা আমাদের চাবুক ও ছড়ি দিয়ে এগুলো মারতে শুরু করলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা এটা খেতে পারেন। কারণ এটা সামুদ্রিক শিকারের অন্তর্ভুক্ত।” (তিরমিযী শরীফ: কিতাবুল হজ্জ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৮৫০)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةٍ أَوْ عُمْرَةٍ فَاسْتَقْبَلَنَا رِجْلٌ مِنْ جَرَادٍ أَوْ ضَرْبٌ مِنْ جَرَادٍ فَجَعَلْنَا نَضْرِبُـهُنَّ بِأَسْوَاطِنَا وَنِعَالِنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏كُلُوْهُ فَاِنَّهُ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ‏.‏
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হাজ্জ অথবা ‘উমরাহ্ করতে বের হলাম। আমাদের সামনে এক ঝাক টিড্ডি অথবা এক প্রকারের টিড্ডি উপস্থিত হলো। আমরা আমাদের চাবুক ও জুতা দিয়ে তা মারতে লাগলাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা এটা খান। কারণ এটা সামুদ্রিক শিকারের অন্তর্ভুক্ত।” (ইবনে মাজাহ্ শরীফ: কিতাবুছ ছইদ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩২২২)
মূল কথা হলো, জারাদ তথা টিড্ডি বা পঙ্গপাল যেটা পাখি, সেটা খাওয়া জায়েয। সেটা আকৃতিতে টুনটুনি পাখির থেকে একটু ছোট। এটার গোশত পাখির গোশতের মত। এটার গায়ে পশম আছে। এটাই হচ্ছে মূল জারাদ তথা টিড্ডি বা পঙ্গপাল, যেটার কথা বলা হয়েছে সেটা। এগুলো ঝাকে ঝাকে দল বেঁধে হাজার হাজার লাখ লাখ পাখি এক সাথে অনেক উপর দিয়ে উড়ে থাকে এবং খুব দ্রুত উড়তে পারে। আগে বাংলাদেশে এগুলো দেখা যেতো। বর্তমানে তেমন একটা দেখা যায় না। আর জারাদ তথা টিড্ডি বা পঙ্গপাল যেটা ফড়িং এর মত, সেটা খাওয়া জায়েয নেই। যেমন মাশরুম দুই প্রকার- এক প্রকার খাওয়া জায়েয আরেক প্রকার খাওয়া জায়েয নেই। ঠিক তেমনিভাবে জারাদ তথা টিড্ডি বা পঙ্গপাল যেটা পাখি, সেটা খাওয়া জায়েয। আর যেটা ফড়িং এর মত, সেটা খাওয়া জায়েয নেই। আর সামুদ্রিক টিড্ডি যদি মাছের মতো হয়, তাহলে খাওয়া জায়েয আছে। কাকড়ার মতো হলে খাওয়া জায়েয নেই।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]