দস্তরখানায় খাবার খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক ও ফযীলত মুবারক সম্পর্কে


দস্তরখানায় খাবার খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক বরকতপূর্ণ সুন্নতী আমল: খাবারের সময় দস্তরখানা ব্যবহার করার ফযীলত।

******************************

মুসলমান হিসেবে পবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা সর্বক্ষেত্রে ফরয। আর খাওয়ার সময় সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করতে হলে দস্তরখানা একটি অপরিহার্য বিষয়। চামড়ার যে বিশেষ তৈজসপত্রের উপর খাবার রেখে আহার করা হয় তাকে দস্তরখানা বলা হয়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ সুন্নতী দস্তরখানা ছিল হালকা খয়েরী রংয়ের (খাসীর) চামড়ার। সুবহানাল্লাহ! (শামায়েলে তিরমিযী, আনিসুল আরওয়াহ, জামউল ওসায়িল)
আমভাবে খাসির চামড়ার দস্তরখানা খাছ সুন্নত মুবারক । তবে গরু এবং উটের চামড়ার দস্তরখানা ব্যবহার করাও সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
দস্তরখানায় খাবার খাওয়ার ফযীলতসমূহ:-
১. প্রতি লোকমার ফযীলত: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি খয়েরী রঙের চামড়ার দস্তরখানায় এক লোকমা খাবার খাবে, তার প্রতিটি লোকমার প্রতিদানে তাকে ১০০টি করে ছওয়াব দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! প্রতিটি লোকমার প্রতিদানে তার জন্য ১০০টি জান্নাতের কামরা নির্মাণ ও সুসজ্জিত করা হবে। সুবহানাল্লাহ! সে ব্যক্তি দায়েমীভাবে জান্নাতের মধ্যে সমস্ত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের অফুরন্ত ছলাত এবং সালাম মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
২. দস্তরখানায় পড়ে যাওয়া খাবার টুকে টুকে খাওয়ার ফযীলত: যে ব্যক্তি দস্তরখানায় খাবার খাবে এবং দস্তরখানায় পড়ে যাওয়া খাবার টুকে টুকে বা পরিস্কার করে খাবে, কিয়ামতের দিন তার ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে, পেটের পীড়া দূরীভূত হবে, নেক সন্তান জন্ম নিবে, চোখের জ্যোতি ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। সুবহানাল্লাহ!
৩. খাওয়া শেষ করার পর ফযীলত: দস্তরখানায় আহার করে তা শেষ করার সাথে সাথেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সে ব্যক্তির জীবনের সমস্ত গুনাহসমূহ মাফ করে দেন। সুবহানাল্লাহ!
৪. দস্তরখানায় আহার করলেই বেমেছাল ফযীলত: যে ব্যক্তি দস্তরখানায় খাবার খাবে, সে ব্যক্তি ১টি উমরাহ হজ্বের ছওয়াব পাবে এবং ১ হাজার ক্ষুধার্তকে পেট ভরে খাওয়ানোর ছওয়াব পাবে। সে ব্যক্তি এতো বেশি ছওয়াব লাভ করবে, যেন সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের মধ্যে ১ হাজার বন্দীকে মুক্ত করে দিল। সুবহানাল্লাহ!
৫. দস্তরখানায় নিয়মিত খাওয়ার ফযীলত: যে ব্যক্তি চামড়ার দস্তরখানায় সবসময় নিয়মিত খাবার খাবে, রোজ হাশরের দিনে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তাকে বেহেশতী পোশাক পরিয়ে বোরাকে করে উপস্থিত করবেন এবং এই অবস্থায় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!
৬. দস্তরখানায় মেহমানকে খাওয়ানোর ফযীলত: যে ব্যক্তি কোন মেহমানকে খয়েরী রংয়ের চামড়ার দস্তরখানায় খাবার খাওয়াবে, সে প্রতিটি দানার বিনিময়ে ১ হাজার করে নেকী বা ছওয়াব লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
যে ব্যক্তি খয়েরী রঙের চামড়ার দস্তরখানায় খাদ্য খাবে, মেহমানকে খাওয়াবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে দয়া, রহমত ও ক্ষমার কুদরতী নজরে দেখবেন এবং তাকে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে শাফায়াত মুবারক করে সাথে নিয়ে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
৭. দস্তরখানায় গরীব-দুঃখীকে খাওয়ানোর ফযীলত: যে ব্যক্তি দস্তরখানায় কোন গরীব দুঃখীকে আহার করাবে, তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদায় সমাসীন করা হবে। সুবহানাল্লাহ!
পারিবার নিয়ে একসাথে খাওয়াও খাছ সুন্নত মুবারক।

আন্তর্জাতিক মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রে দস্তরখানাসহ সমস্ত প্রকার সুন্নতী সামগ্রী সংগ্রহ করতে আজই যোগাযোগ করুন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]