দুনিয়ায় যা কিছু দেয়া হয়েছে সবকিছু মানুষের পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘প্রত্যেক নফসকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” আর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মৃত্যু তোমাদেরকে এমনভাবে তালাশ করে যেভাবে রিযিক তোমাদেরকে তালাশ করে।”
মানুষ মরণশীল। প্রত্যেকের এক দিন না একদিন সবকিছু ত্যাগ করে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট চলে যেতে হবে। এই আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা বুঝা যায়, মানুষকে সর্বদা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে হবে। সেজন্য দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত থাকলে চলবে না।
কারণ: দুনিয়ায় যা কিছু দেয়া হয়েছে সবকিছু মানুষের পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে। আর সেসব কিছু মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে গাফিল করে রাখে। এখানে একটা বিষয় বলতে হয়, মানুষ চায় দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে। কিন্তু কী লাভ হয়? যদি সেই হায়াতের মধ্যে কোন নেক কাজই না করতে পারে।
মূলত, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে নেককাজে মশগুল থাকতে হবে। কারণ, কেউ জানেনা কখন তার মৃত্যু চলে আসবে। তা ভেবে প্রতিটি সেকেন্ডকে জীবনের শেষ মুর্হূত মনে করতে হবে। তখন মৃত্যুর জন্য আর কোন ভয় থাকবে না। ঈমানদারগণ, মৃত্যুকে ভয় করেন না। কারণ: সর্বদা উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণেই থাকেন। আর যারা ঈমানদার না, কাফির-মুশরিক এরা মৃত্যুকে ভয় পায়। হাজার হাজার বছর বাঁচতে চায় কিন্তু মরতে রাজি হয় না। তাদের বদ আমলের কারণে পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে তারা শঙ্কিত। যদিও একদিন না একদিন তাদেরকে মরতেই হবে এবং আগে কী পরে তাদেরকে শাস্তির সম্মুখীন হতেই হবে। সেজন্য সময় থাকতেই তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে।
মূলতঃ আমিত্বকে মিটিয়ে দিয়ে নফসের গোলামী পরিত্যাগ করে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করাই হচ্ছে তওবা। আর তওবাকারীর জন্য সর্বোত্তম নিয়ামত রয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যখন মৃত্যু ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় তখন দুই জন কালো ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আসেন। চোখ হচ্ছে নীল। ১ জন হচ্ছেন মুনকার আলাইহিস সালাম ও ২য় জন হচ্ছেন নাকীর আলাইহিস সালাম। উনারা ঐ ব্যক্তিকে ৩টি প্রশ্ন করবেন।
من ربك- ومن نبيك. وما دينك.
অর্থ: তোমার সম্মানিত রবকে? তোমার সম্মানিত নবী কে? এবং তোমার সম্মানিত দ্বীন কি? তখন যে ব্যক্তি সবগুলোর উত্তর দিতে পারেন। উনারা বলবেন, আমরা জানতাম তুমি বলতে পারবে। তখন উনার কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে এবং কবরকে আলোকিত করে দেয়া হবে। বলা হবে, তুমি ঘুমিয়ে থাকো। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই, বলতে চাই আমাকে নাযাত দেয়া হয়েছে। তখন বলা হবে, তুমি ঘুমিয়ে থাকো। নতুন দুলহান যেভাবে ঘুমিয়ে থাকে। দুইজন দুলহান দুলহানী যেভাবে ঘুমিয়ে থাকে। তার প্রিয় ব্যক্তি ছাড়া তাকে আর কেউ উঠাতে পারে না।
পাঠক! কী বুঝলেন? এত বড় নিয়ামত হাছিল করার জন্য কী করতে হবে? নিজেকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। নিজের নাজাতের কথা নিজেকে ভাবতে হবে। দুনিয়া নিয়ে অর্থাৎ মাল-সম্পদ, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, সন্তান-সন্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবে না। কারণ: কিয়ামতের দিন এসব কোন কাজে আসবে না, ফায়দা দিবে না। যত প্রগার যোগসুত্র থাকুক না কেন, তখন সেগুলো ছিন্ন হয়ে পড়বে। পবিত্র কিতাব মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, “সেদিন মানুষ তার ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী, পুত্র থেকে পলায়ন করবে।”
সুতরাং কারো জন্য অপেক্ষা নয়। লাভজনক কাজে অর্থাৎ নেককাজে নিজেকে মশগুল রাখুন এবং সর্বদা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকুন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের মুবারক উছীলায় নেককাজে মশগুল থেকে উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করে একজন খাঁটি ঈমানদার হয়ে মৃত্যুবরণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]