দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারিভাবে অসংখ্য মূর্তি স্থাপনে একদিকে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়; অপরদিকে ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এই বাংলাদেশকে রহমতশূন্য করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ঘরে বা স্থানে প্রকাশ্যে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশ্তা উনারা থাকেন না।’
প্রাণীর প্রতিকৃতি যেকোনো উদ্দেশ্যে তৈরি করা হোক না কেন, সবই মূর্তির অন্তর্ভুক্ত। মূর্তি এবং ভাস্কর্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যারা মূর্তি এবং ভাস্কর্যের মাঝে পার্থক্য করতে চায়, তারা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল ও গোমরাহ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারিভাবে অসংখ্য মূর্তি স্থাপনে একদিকে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়; অপরদিকে ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এই বাংলাদেশকে রহমতশূন্য করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
তাই ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় রোধ এবং এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানদের পবিত্র ঈমান হিফাযত, রহমত, নাজাত লাভ ও নৈতিক পবিত্রতা রক্ষার্থে দেশের সকল স্থান থেকে মূর্তি-ভাস্কর্য বা ম্যানিকিনগুলো অতিসত্বর মিটিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভবিষ্যতে আর তৈরী না করা। যা প্রকৃতপক্ষে ফরয।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা হতে বেঁচে থাকো।’ অর্থাৎ সামাজিক অস্থিরতাসহ সমস্ত অশান্তির জন্য মূর্তি স্থাপন দায়ী। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই ঘরে বা স্থানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে বা স্থানে প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন বা কুকুর থাকে।” নাঊযুবিল্লাহ! যেহেতু মূর্তির কারণে রহমত থাকে না, সেহেতু লা’নত বর্ষিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারিভাবে অসংখ্য মূর্তি ও ভাষ্কর্য স্থাপনের বিষয়ে শরয়ী ফায়ছালা সম্পর্কে তিনি এসব ক্বওল শরীফ পেশ করেন।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বিধর্মীরা পূজার জন্য যে মূর্তি তৈরি করে, তাকে তারা প্রতিমা বলে। কাপড় ব্যবসায়ীরা কাপড় প্রদর্শনীতে যে মূর্তি ব্যবহার করে, তাকে তারা ম্যানিকিন বলে। আবার তথাকথিত শিল্পী দাবিদাররা কতেক মূর্তিকে ভাস্কর্য বা ম্যূরাল বলে থাকে। প্রকৃতপক্ষে মাটি, বালু, পাথর, লোহা বা অন্য যেকোনো উপাদান দ্বারা যেকোনো উদ্দেশ্যে যেকোনো প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হোক না কেন, সবই মূর্তির অন্তর্ভুক্ত। সবই হারাম এবং লা’নতের কারণ।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্প্রতি অখ্যাত ও জনবিচ্ছিন্ন কতিপয় লোক ভাস্কর্যকে মূর্তি হতে আলাদা করতে চায়। মূলত, প্রাণীর প্রতিকৃতি যেকোনো উদ্দেশ্যে তৈরি করা হোক না কেন, সবই মূর্তির অন্তর্ভুক্ত। মূর্তি এবং ভাস্কর্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যারা মূর্তি এবং ভাস্কর্যের মাঝে পার্থক্য করতে চায়, তারা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল ও মূর্খ।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূর্তি-ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। আবার মূর্তি-ভাস্কর্য স্থাপনের কারণে অনেক জায়গাও নষ্ট হচ্ছে। সর্বপোরি মূর্তি-ভাস্কর্য স্থাপনের কারণে দেশ রহমতশূন্য হচ্ছে। আর রহমত না থাকার কারণে লা’নত বর্ষিত হয়। যা কোনো মুসলমানের কখনোই কাম্য নয়।

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের উচিত এসব মূর্তি-ভাস্কর্য স্থাপন না করে ইসলামী নিদর্শনাবলী স্থাপন করা। এতে একদিকে রহমত বর্ষিত হবে। মানুষের মাঝে ঈমানী চেতনা বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে দর্শনীয় স্থান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৯৮ ভাগ অধ্যুষিত মুসলমান ও রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম উনার দেশ। এরপরও এদেশের বিভিন্নস্থানে কি করে দেব-দেবীর মূর্তি বা অন্য যেকোনো মুর্তি স্থাপিত হতে পারে? আর এদেশের সরকারই বা কীভাবে তার অনুমতি দিতে পারে? নাউযুবিল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সরকার হয়তো ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতসহ আরো যত ধর্মনিরপেক্ষ দাবিদার কাফির রাষ্ট্র রয়েছে, তারা কী তাদের প্রতিষ্ঠানে মুসলমানদেরকে উনাদের ইসলামী কোনো স্থাপনা তৈরি করার অনুমতি দেয় বা দিয়েছে? দেয়নি এবং কখনো দিবেও না। বরং তারা মুসলমানদেরকে উনাদের প্রতিষ্ঠানসমূহেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন করতে বাধা দেয়। নাউযুবিল্লাহ! খোদ ভারতেই অনেক মসজিদকে জোরপূর্বক মন্দির বানানো হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! আযান ও কুরবানীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে মুসলমান কেন নিজেদের প্রতিষ্ঠানসমূহে দেব-দেবীর মূর্তি বা অন্য যেকোনো মূর্তি তৈরি করার অনুমতি দিবে?

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদের মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম করা ও অনুসরণ-অনুকরণ করা, মূর্তি তৈরি করা, মূর্তিকে সমর্থন করা, মুসলমানদের প্রতিষ্ঠানসমূহে মূর্তি তৈরি করার অনুমতি দেয়া সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরী। তাই ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় রোধ এবং এদেশের ৯৮ ভাগ অধিবাসী মুসলমানদের পবিত্র ঈমান হিফাযত, রহমত, নাজাত লাভ ও নৈতিক পবিত্রতা রক্ষার্থে দেশের সবস্থান থেকে অশ্লীল পোস্টার, বিলবোর্ড, মূর্তি-ভাস্কর্য বা ম্যানিকিনগুলো অতিসত্বর মিটিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যা প্রকৃতপক্ষে ফরয। নচেৎ সরকারকে এজন্য পরকালে তথা সর্বকালে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]