নতুন বছর শুরু হোক তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিষ্পাপ হয়ে হালাল ও সন্তুষ্টিপূর্ণ পবিত্র শতভাগ সুন্নতী জীবনে পদার্পণের মাধ্যমে


আমরা বিগত বছরে কতটুকু নেক আমল করতে পেরেছি? কতটুকু সুন্নত মুবারক আমল করতে পেরেছি? কতটুকু গুনাহ মাফ করাতে পেরেছি? কতটুকু ঈমানদার-মুসলমান হতে পেরেছি? কতটুকু ইখলাছ হাছিল করেছি? কতটুকু তাক্বওয়া হাছিল, মুহব্বত-মারিফত হাছিল করতে পেরেছি? এটা গভীরভাবে চিন্তা ও ফিকির করতে হবে।
১৪৪২ হিজরী সন এক নতুন বছর। নতুন বছর আসা মানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়া। নতুন বছর আসা মানে জীবনের নির্ধারিত আয়ু থেকে একটি বছর চলে যাওয়া। বিগত সময়ের ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে সফলতার পথে অগ্রগামী হওয়া। অকল্যাণের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে অবারিত কল্যাণের পথে ধাবিত হওয়া। সমস্ত বিদয়াত থেকে মুক্ত হয়ে পবিত্র সুন্নতের রঙ্গে রঞ্জিত হওয়া।
সময় মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত। সময়ের সমষ্টিই জীবন। প্রতি পলে মানুষের বয়স বাড়ে, সঙ্গে সঙ্গে আয়ু কমে সমানতালে। তিল, পল, মুহূর্ত, দ-, প্রহর, আহ্ন, দিবস, রজনী, সপ্তাহ, মাস, বছর, যুগ, শতাব্দী ইত্যাদি মানুষের প্রয়োজনে সময়ের প্রাকৃতিক বিভিন্ন বিভাজন।
সময়ের সঙ্গে কোনো অকল্যাণের সংযোগ নেই। কল্যাণ-অকল্যাণ মানুষের কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুরোনো বছরের তথা অতীতের পাপরাশির জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে তওবা ইস্তিগফার করা, সেই সঙ্গে নতুন বছরে পাপকাজ না করার এবং নেক ও কল্যাণের জন্য কাজ করার ওয়াদা করা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ণ আনুগত্যের তথা শতভাগ পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনের তাওফীক্ব কামনা করে সময়ের মূল্যায়ন করাই ঈমানের শক্তিশালী করার অন্যতম আমল।
যেহেতু ১৪৪২ হিজরী নতুন বছর- হলো সময়ের একটি অংশ থেকে অন্য অংশে পদার্পণ, তাই এখন নিজেকে পরিবর্তন ও উন্নয়নের একটি সুযোগ। সুতরাং এই সময়ে আমাদের যা করা উচিত তা হলো জীবনকে নবায়ন করা। জীবনের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করা। নেক হায়াতের জন্য দোয়া করা। অতীতের গুনাহ থেকে খালিছ তাওবা-ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। কারও জান, মাল ও ইজ্জতের ক্ষতি করে থাকলে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ভবিষ্যতে নেক আমলের সংকল্প করা। বিগত সময়ে কেউ বিরূপ আচরণ করে থাকলে মন থেকে তা ক্ষমা করে দেওয়া। কারও কাছে দেনা-পাওনা-লেনদেন থাকলে তা পরিশোধ করা। সব মানুষ যেন সুখে-শান্তিতে থেকে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে, সেই দোয়া করা ইত্যাদি।
এমন কোনো কাজ করা কাম্য নয়, যা যেকোনো সময়ই করা উচিত নয়। নতুন বছর মানে এই নয় যে এই সময়ে আমলনামা লেখা থেকে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বিরত থাকবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা নিষিদ্ধ করার জন্য তার নিকটেই ফেরেস্তা রয়েছেন।’ (পবিত্র সুরা কাফ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮)
অর্থাৎ মানুষ যখন যেখানে যে অবস্থায় যা করে, যা বলে, যা ভাবে সবই হযরত ফেরেশতাগণ উনারা লিপিবদ্ধ করে তার আমলনামায় সংরক্ষণ করেন। সুতরাং নতুন বছরের মতো সময়ের একটি এহেন গুরুত্বপূর্ণ পর্বে এমন কোনো কাজ করা সমীচীন হবে না, যা আমাদের আমলনামা বা জীবনপঞ্জিকে কলঙ্কিত করবে। আর এজন্যই নতুন বছর শুরু করতে হবে খালিছ তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিষ্পাপ হয়ে হালাল ও সন্তুষ্টিপূর্ণ পবিত্র শতভাগ সুন্নতী জীবনে পদার্পণের মাধ্যমে। তাহলেই আমাদের জীবন সাফল্যময় হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]