নবাব সিরাজুদ্দৌলাও হোলিপূজা করে পার পায়নি, বর্তমান শাসকরা পার পাবে কি করে?


ভারতবর্ষে মুসলিম শাসকগোষ্ঠীর পতনের পেছনে যেসব কারণ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো রাজপ্রাসাদে শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বিধর্মীদের সংস্কৃতির অতিরিক্ত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান। ইতিহাসে রয়েছে যে, মুর্শিদাবাদের মতিঝিল প্রাসাদে শাহমত জংগ ও শওকত জংগ এবং মনসুরগঞ্জ প্রাসাদে খোদ সিরাজউদ্দৌলা ‘হোলি উৎসব’ পালন করতো। মীরজাফরও এই হোলিতে অংশগ্রহণ করতো এবং মৃত্যুর আগমুহূর্তে সে দেবী কীর্তিশ্বরীর মূর্তির পা ধোয়া পানি খেতেও দ্বিধা করেনি। (সূত্র: ভারতের মুসলমান ও স্বাধীনতা আন্দোলন, ড. ইনাম উল হক, বাংলা একাডেমী, পৃষ্ঠা ২)
সময় পাল্টেছে, রাজতন্ত্রের স্থান দখল করেছে গণতন্ত্র, রাজপ্রাসাদের স্থান দখল করেছে সংসদ ভবন। কিন্তু সিরাজের ন্যায় নির্বোধ শাসক আর মীরজাফরদের ন্যায় বিশ্বাসঘাতকরা পাল্টায়নি। ফলে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও, এই ভূখ-ের ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী মুসলমান হওয়ার পরও সেই নবাবী আমলের মূর্খতার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এর খেসারতও হবে পলাশীর প্রান্তরের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ ও মর্মন্তুদ! রাজপ্রাসাদে হোলিপূজা ও বিজাতীয় কালচার আবাদের কারণে যেই পরাধীনতা বাংলাকে প্রায় দু’শ বছরের জন্য গ্রাস করেছিল, বর্তমানে দেশে উন্মুক্ত পূজার কারণে আপতিত পরাধীনতা হতে পারে তার চেয়েও অনেক বেশি অন্ধকার, অনেক বেশি ভয়াবহ। নাউযুবিল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে