নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদাপূর্ণ থু-থু মুবারকের মু’জিযা শরীফ ।


কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদাপূর্ণ থু-থু মুবারকের মু’জিযা শরীফ ।

” (হে হাবীব ছল্ল্ল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে হাউজে কাউছার বা সমস্ত ভালাই দান করেছি। “( মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুরা কাউছার শরীফ : মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ ০১)

০১. পিপাসা নিবারণ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত । সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাছান আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা পিপাসা তাড়নায় কাঁদতে ছিলেন । এমন সময় নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় জিহ্বা মুবারক দ্বারা উনাদের মুখে স্পর্শ করলেন । এর বরকতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাছান আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের পিপাসা নিবারণ হয়ে কান্না বন্ধ হয়ে গেল । ( তিবরানী শরীফ)

০২. অসাধারণ সুগন্ধি : হযরত ইবনে আব্দুল্লাহ ইস্তিয়াবে উৎবা বি ফারকাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার স্ত্রী হযরত উম্মে আসিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হযরত উম্মে আসিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেছেন , হযরত উতবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংসারে আমরা তিন জন স্ত্রী ছিলাম । সর্বদা আমরা সুগন্ধি ব্যবহার করতাম ।কিন্তু হযরত উতবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দেহ হতে সব সময় এমন সুগন্ধি বের হতে । যার সাথে আমাদের সুগন্ধির কোন তুলনা চলে না ।

একদিন উনাকে এ সুগন্ধির বৈশিষ্ঠ্যের কারণ জিজ্ঞাসা করলে জবাবে তিনি বললেন , একবার আমি সুস্থ হয়ে পড়লে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন । তিনি আমার দেহের কাপড় উঠিয়ে উনার হাতের তালু মুবারকে উনার পবিত্র থুথু মুবারক নিয়ে আমার পিট ও পিঠের উপর মুছে দিলেন। এরপর থেকে আমার দেহ থেকে এই অসাধারণ সুগন্ধি বের হচ্ছে ।

০৩ .বাকশক্তি লাভ :হযরত ইবনে শায়বাহ্ উম্মে জুন্দুব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত । খাশআম গোত্রের এক মহিলা একটি ছেলে নিয়ে নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে হাজির হলেন ।ছেলেটি কথা বলতে পারতো না । নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ বোবা ছেলেটির মুখে কুলি মুবারক করলেন এবং নিজের দু’হাত মুবারক ধৌত করে ঐ পানি মুবারক মহিলাকে দিয়ে বললেন , এই পানি ছেলেটিকে পান করাও এবং এটা দ্বারা তার চক্ষু মুছে দাও । মহিলা উক্ত কাজ গুলো করার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটি কথা বলতে লাগল এবং তার বুদ্ধিমত্তা এত বৃদ্ধি পেল যে , এক্ষেত্রে অপর সকলের তুলনায় তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃতি পেল ।

০৪ . সাপের বিষ হলো পানি : হিজরতের সময় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম খলিফা আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম সওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিলেন । আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি গুহার ভিতর সব কটি ছিদ্রের মুখ বন্ধ করে দিলেন ২/১ ছিদ্র খোলা থাকলে আমীরুল মু’মিনীন , খলীফাতুল মুসলিমীন, আফদ্বালুন নাস বা’দ্বাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার পা মুবারক দ্বারা ছিদ্র বন্ধ করলেন ,বিষাক্ত সাপ এসে দংশন করলে বিষের তীব্র যন্ত্রনায় উনার অলক্ষ্যেই চোখের পানি মুবারক গড়িয়ে কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারকে পড়ে ঘুম ভেঙ্গে গেলো । তখন নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ক্ষতস্থানে পবিত্র মুখ মুবারকের লালা মুবারক লাগিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিষ পানি হয়ে যায় ।

০৫.দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন : সহীহ বুখারী শরীফ ও সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে যে , একবার আমীরুল মু’মিনীন, খলিফাতুল মুসলিম, আসাদুল্লাহিল গালিব, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার চক্ষু মুবারকে পীড়া দেখা দিলে কুল-মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন তাজেদারে মদিনা , রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীনা, নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার চক্ষু মুবারকে স্বীয় ( নুরে মুজাসসাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) মুখ মুবারকের লালা মুবারক লাগিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ( দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন ) আরোগ্য লাভ করলেন ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]