নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অনুসরণ


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اِنَّ هٰذَا الْعِلْمَ دِيْنٌ
অর্থ: “নিশ্চয়ই ইলিমই হচ্ছেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম।” আর ইলিম বলতে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ইলিমকে বুঝানো হয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْاٰنَ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরিত্র মুবারকই হচ্ছেন পবিত্র কুরআন শরীফ। অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اُوتِيْتُ الْقُرْاٰنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ
অর্থ: “আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং উনার সাথে উনার অনুরূপ বিধান অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ দেয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ হচ্ছেন ওহীয়ে মাতলূ আর পবিত্র হাদীছ শরীফ হচ্ছেন ওহীয়ে গইরে মাতলূ। এ দুপ্রকার ওহী মুবারকই হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক।
কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতিত কোন কথা মুবারক বলেননি এবং কোন কাজ মুবারকও করেননি। তিনি কোন সমাজ বা কোন দেশ বা কোন ব্যক্তিকে অনুসরণ করেননি। তিনি শুধুমাত্র অনুরসণ করেছেন যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে অর্থাৎ উনার আদেশ মুবারককে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক উনার নামই হচ্ছেন সম্মানিত ওহী মুবারক।
কাজেই, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যারা বিশ্বাসী বা অনুসারী মুমিন মুসলমানদেরকে তো অবশ্যই বরং জিন, ইনসান, ফেরেশতা সকলের জন্যেই একমাত্র অনুসরণীয় অনুকরণীয় এবং মহান আদর্শ মুবারক হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
উনাকেই সর্বক্ষেত্রে এবং সর্ববিষয়ে অনুসরণ করতে হবে এবং উনারই আদর্শ বা সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে। উনার আদর্শ বা সুন্নত মুবারক পালনই হচ্ছেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন।
এক্ষেত্রে বলা বা চিন্তা করার কোন অবকাশ বা সুযোগই নেই যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক পালন এক বিষয় আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন অন্য বিষয়। বরং সুন্নত মুবারক পালন আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন একই বিষয়ের নাম।
সুতরাং কেউ যদি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন করতে চায় বা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালন করার দাবী করে তাকে সর্বক্ষেত্রে ও সর্ববিষয়ে সুন্নত মুবারক পালন বা অনুসরণ করতে হবে। সুন্নত মুবারক পালন ব্যতিত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পালনের দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ মর্মে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى يَكُوْنَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ
অর্থ: তোমাদের কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার হবে না যে পর্যন্ত আমি যা নিয়ে এসেছি (পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ) উনার অনুসারী সে না হবে।
অতএব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ইবাদত বন্দেগী করেছেন, করতে বলেছেন, যা খেয়েছেন, খেতে বলেছেন, যা পরেছেন বা পরতে বলেছেন, যা ব্যবহার করেছেন বা করতে বলেছেন, যেভাবে চলাফেরা করেছেন, করতে বলেছেন ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ে উনার সুন্নত মুবারক রয়েছে। অর্থাৎ তিনি পরিপূর্ণ আদর্শ বা সুন্নত মুবারক রেখে গেছেন।
উনার সেই সুন্নত বা আদর্শ মুবারক পালনের লক্ষ্যেই মহাসম্মানিত আহলে বাইতে রসূল, রাজারবাগ শরীফের সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’।
এখন কেউ যদি সত্যিই হিদায়েত, রহমত, শাফায়াত, নাজাত, জান্নাত, নিয়ামত, দিদার ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করতে চায় তাকে অবশ্যই রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সাথে এবং প্রতিষ্ঠিত পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত ও সম্পৃক্ত হতে হবে। আল্লাহুম্মা আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]