নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বোচ্চ মুহব্বত মুবারক করা সকলের প্রতি ফরয


উম্মত মাত্রই সকলের প্রতি ফরয সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করা।
স্মরণীয় যে, সমস্ত কায়িনাত বা সমস্ত মাখলুকাত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা-বান্দীদের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপ সমস্ত কায়িনাত বা সমস্ত মাখলুকাত সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত।
বান্দা-বান্দীদের প্রতি ফরয খালিক্ব মালিক রব হিসেবে মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করা, উনার প্রতি ঈমান আনা, উনাকে সন্তুষ্ট করা, উনাকে সম্মান করা, উনার যিকির বা স্মরণ করা, উনার ইবাদত করা, হুকুম বা আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, উনার ছানা-ছিফত করা ইত্যাদি।
একইভাবে উম্মতের প্রতি ফরয সম্মানিত নবী ও রসূল হিসেবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করা, উনার প্রতি ঈমান আনা, উনাকে সম্মান করা, উনাকে সন্তুষ্ট করা, আনুগত্য করা, অনুসরণ-অনুকরণ করা ইত্যাদি। এ সমস্ত বিষয় বিভিন্নভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ ۚ
অর্থ: অবশ্যই আপনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনবেন এবং উনার খিদমত মুবারক করবেন।
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي
অর্থ: (আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) বলে দিন, তোমরা যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করে থাকো বা উনার মহান মুহব্বত লাভ করতে চাও তাহলে তোমরা আমার ইত্তিবা (অনুসরণ) করো।
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেই মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পাওয়ার বিষয়টি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা বা অনুসরণের মধ্যে ন্যাস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পেতে হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্তিবা বা অনুসরণ করতে হবে। আর এটা অনিবার্যভাবে সত্য যে, মুহব্বত ব্যতীত ইত্বায়াত বা অনুসরণ কোনক্রমেই সম্ভব নয়। যার কারণে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো কেননা তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকেন। আর তোমরা আমাকে মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পাওয়ার জন্য। অতঃপর তোমরা আমার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বত মুবারক পাওয়ার জন্য।
উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছু থেকে বেশি মুহব্বত করতে হবে অন্যথায় ঈমানদার হিসেবে গণ্য হওয়া যাবে না। আর উনার মুহব্বত মুবারক অর্জন করতে হলে বা পেতে হলে উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করতে হবে।
জানা আবশ্যক, প্রতি যামানাতে সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীনে অবস্থান করছেন কিন্তু আফসুস মানুষ উনাদের সম্পর্কে নেহায়েত বেখবর। অথচ উনাদেরকে মুহব্বত ও সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল হয়ে থাকে। ফলে উক্ত মুহব্বতকারী ও সন্তুষ্টকারী ব্যক্তির জন্য নাজাত ও জান্নাত মুবারক অবধারিত হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
আমরা নির্দ্বিধায় বলতে চাই এবং আমাদের জন্য এ বলাটা অপরিহার্য কর্তব্য যে, বর্তমান যামানায় সম্মানিত আহলু বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন আমাদের সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]