নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো-৩


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো-৩

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
হিজামার গুরুত্ব : হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকে (মহাপবিত্র পা মুবারকে) ইহরাম অবস্থায় হিজামা লাগিয়েছিলেন।পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে
-عَنِ حضرت ابْنِ مَسْعُودٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ حَدَّثَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لَيْلَةَ أُسْرِىَ بِهِ أَنَّهُ لَمْ يَمُرَّ عَلَى مَلإٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ إِلاَّ أَمَرُوْهُ أَنْ مُرْ أُمَّتَكَ بِالْحِجَامَةِ
অর্থঃ হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পবিত্র মি‘রাজ শরীফ উনার রাত সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই রাতে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যে সম্প্রদায়ের সম্মুখ দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন উনারা বলেছেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ মুবারক দিন’। (সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ-৩৪৭৭; সুনানে তিরমিযী শরীফ-২০৫২)

@@খালি পেটে হিজামা করা বা শিঙ্গা লাগানো ভাল :  সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘বাসি মুখে শিঙ্গা লাগালে তাতে নিরাময় ও বরকত লাভ হয় এবং জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়’।

**হিজামার নিষিদ্ধ বার: ইয়াওমুস সাবত, ইয়াওমুল আরবিয়া এই দিন দু’টিতে হিজামা লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
@@হিজামা থেকে বিরত থাকা : অসুস্থ অবস্থায়,মহিলাদের স্বাভাবিক মাজূরতা অবস্থায়, সন্তানধারণ অবস্থায়, এবং দূর্বল শরীরের অধিকারীদেরকে শিঙ্গা লাগানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
**ইহরাম বাঁধা ও রোযা অবস্থায় হিজামা লাগানো : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহরাম অবস্থায় উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা (পবিত্র মাথা) মুবারকে শিঙ্গা লাগান।হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোযা রাখা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন।
বি:দ্র: হিজামার পর সাধারণত ঐ স্থানে গোল চিহ্ন বা ফোলা অনুভব করবেন। যা সর্বোচ্চ এক, দুই বা তিন দিন থাকতে পারে। এটা দূষিত রক্ত বের হওয়ার চি‎হ্ন।হিজামার মাধ্যমে যেসব রোগ প্রতিরোধ হয় : ব্যাক পেইন, উচ্চ রক্তচাপ, পায়ে ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা, মাথাব্যথা (মাইগ্রেইন), ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, জয়েন্টে পেইন, আর্থ্যাইটিজ, যাদু, বাত, ঘুমের ব্যাঘাত, থাইরয়েড ব্যঘাত, জ্ঞান এবং স্মৃতিশক্তিহীনতা, ত্বকের বর্জ্য পরিষ্কার, অতিরিক্ত রক্ত নিঃসরণ বন্ধ করা, অর্শ, অন্ডকোষ ফোলা, পাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদি প্রতিরোধ হয়।
**মাথা ব্যথায় হিজামা : সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেছেন, ‘যখন কেউ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে এসে মাথা ব্যথার কথা বলতেন, তখন তিনি তাদের হিজামা করার কথা বলতেন’।
**জ্ঞান এবং স্মৃতিবর্ধক : হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘খালি পেটে হিজামা লাগানো উত্তম। এতে শিফা ও বরকত রয়েছে। এতে জ্ঞান এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়’। (অসমাপ্ত)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]