পবিত্র কালিমা শরীফ থেকে “মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বাদ দেয়ার চিন্তা করাও কুফরী


পবিত্র কালিমা শরীফ “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ” (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে যারা অস্বীকার করছে তারা বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। তারা বলে থাকে যে, পবিত্র কালিমা শরীফ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নেই। নাঊযুবিল্লাহ! তারা বিভিন্ন স্থানে মসজিদ থেকে পবিত্র কালিমা শরীফ মুছে ফেলার মতো নিকৃষ্ট কাজ করার চেষ্টাও করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
এখানে পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার থেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এ পবিত্র কালিমা শরীফ উনার দলীল প্রমাণ পেশ করা হলো।
বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত নির্ভরযোগ্য ও মশহুর কিতাব “আল ইছাবাহ শরীফ” উনার ৩য় খ-ের, ৭৫১ পৃষ্ঠায়, ৮৭৮৮ নং পবিত্র হাদীছ শরীফে ছহীহ সনদে বর্ণিত আছে-
عن حضرت عبد الله بن بريدة رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عن ابيه قال انطلق ابو ذر ونعيم بن عم ابى ذر وانا معهم يطلب رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وهو مستتر بالجبل فقال به ابو ذر يا محمد اتيناك لنسمع ما تقول قال اقول لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فاٰمن به ابو ذر وصاحبه
অর্থ: “হযরত ইবনে বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত নুআইম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা দুজন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার মুবারক খোঁজে বের হন। আমি উনাদের সাথে ছিলাম। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি তখন এক পাহাড়ের আড়ালে ছিলেন। তখন হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি নছীহত মুবারক করেন, আমরা তা শুনতে এসেছি। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি বলি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। অতঃপর হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তিনি ও উনার সাথী উনারা দু’জনেই উনার প্রতি পবিত্র ঈমান আনলেন।” এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ ছহীহ এবং সকল বর্ণনাকারীই ছিক্বাহ রাবী উনার অন্তর্ভুক্ত।
মশহুর তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর’ উনার ৮ম খ-ের, ৫০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
فالرسول وأتباعه يعبدون الله بما شرعه؛ ولهذا كان كلمة الإسلام ” لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ” اَىْ: لَا مَعْبُوْدَ اِلَّا الله ولا طريق إليه إلا بما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم
অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি ও উনার অনুসারী উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করতেন যা তিনি নির্দেশ মুবারক করতেন। এজন্য সর্বযুগে সম্মানিত ইসলাম উনার পবিত্র কালিমা শরীফ-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। আর মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত উনার মাধ্যম হলো উনার সম্মানিত রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার আনিত বিষয়ের অনুসরণ।” সুবহানাল্লাহ!
ছিহাহ সিত্তাহর অন্যতম কিতাব “ছহীহ মুসলিম শরীফ” উনার কিতাবুল ঈমান অধ্যায়ে একটা বাব বা পরিচ্ছেদ আছে, যার নাম হচ্ছে-
بابُ الْاَمْرِ بِقِتَالِ النَّاسِ حَتّٰى يَقُوْلُوْا لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এখানে একটা বাব পরিচ্ছেদ দাঁড় করিয়েছেন, যার শিরোনামই হচ্ছে- “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে যে বাব বা পরিচ্ছেদ রচনা করছেন, তার অর্থ হচ্ছে- “সেই সব লোকদের ক্বতল করতে নির্দেশ দিন যারা “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এ পবিত্র কালিমা শরীফ স্বীকার করে না।
অর্থাৎ হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া মুতাবেক পবিত্র কালিমা শরীফ অস্বীকারকারী সালাফীদেরকে ক্বতল করা ওয়াজিব। সম্মানিত ইসলামী খিলাফত কায়িম থাকলে তাই করা হতো। অর্থাৎ এদেরকে শাস্তি স্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতো।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]