পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মহান তাজদীদে পীরানে পীর, গউছুল আ’যম দস্তগীর হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি


মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা অসীম রহম করে, ইহসান করে মুসলিম উম্মাহ উনাদের পবিত্র ঈমান-আমল হিফাজতের জন্য, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার তাজদীদের জন্য প্রতি হিজরী শতকেই একজন মহান মুজাদ্দিদ প্রেরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হিজরী ছয় শতকে তাশরীফ আনেন পীরানে পীর, গউছুল আ’যম দস্তগীর হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি। সমসাময়িক ঐতিহাসিকদের লিখনীতে তিনি একজন মুজাদ্দিদ, ছিদ্দীক্ব, ইনসানে কামিল, হাদিউল উম্মাহ, কুতুবুল আলম হলেও প্রকৃত পক্ষে উনার মর্যাদা-মর্তবা আরো বহু উঁচ্চে, বহু ঊর্ধ্বে। উনার তাজদীদের নূরানী পরশ দ্বারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নবজাগরণ ঘটেছিলো বলে উনি ‘মুহিউদ্দীন’ লক্বব মুবারক-এ মশহুর হয়ে যান। ইতিহাসে লিখা হয়, হিজরী ছয় শতকে সারা মুসলিম জাহানে ইহুদী-নাছারাদের সূক্ষ্ম চক্রান্তে খলীফা নামধারী যালিম ও বিলাসী শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছিলো।
পবিত্র দ্বীনি আমল আখলাকের দিকে জনসাধারণ দেউলিয়া ভাবাপন্ন হয়ে পড়েছিলো। বিশেষ করে বাগদাদে আব্বাসীয় খলীফাদের পূর্ণ প্রতিপত্তি থাকা সত্ত্বেও, পার্থিব সুখ-সম্পদ ও কৃষ্টি-সভ্যতার উন্নতি চরম শিখরে পৌঁছলেও পবিত্র আমল-আখলাকে পবিত্র সুন্নত উনার চেতনা, অন্তরে পরিশুদ্ধি সাধনে খলীফা থেকে সাধারণ মানুষ সকলে বড়ই গাফিল হয়ে পড়ে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ী এবং ছূফী নামধারী ভ-রা আধিপত্য বজায় রেখে চলছিল। এমতাবস্থায় সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাদানী রঙ্গে আবির্ভূত হন।
‘বায়তুল হালবায়’ পরবর্তীতে ‘মাদরাসায়ে ক্বাদিরিয়ায়’ প্রত্যহ খলীফা, কাজী, গভর্নর, ব্যবসায়ী, ধর্মব্যবসায়ী, সাধারণ নাগরিক এবং মা’রিফাত পিপাসু সকলকে লক্ষ্য করে অসীম ফয়েয-তাওয়াজ্জুহপূর্ণ খুতবা দিতেন, নছীহত করতেন। দুনিয়াদার ধর্মব্যবসায়ীগং প্রাথমিক অবস্থায় নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখার জন্য বিরোধিতায় লিপ্ত হলেও গউছুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলায়েত-কামালিয়াতের রোব ও কারামতের আলোকচ্ছটায় ধর্মব্যবসায়ীদের গোমর ফাঁস হয়ে নিস্তানাবুদ হয়ে যায়। উনার তাজদীদী মজলিসের হিদায়েতী বয়ানে ১০-১২ জন শ্রোতা থেকে শুরু করে এক পর্যায়ে ৭০ হাজারেরও অধিক শ্রোতাম-লীর সমাগম হতো। শুধু ইনসান নয়, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তো বটে, বরং জিন সম্প্রদায় থেকে শুরু করে রেজালুল গায়েবগণও অত্যন্ত আদব-তমীয সহকারে উপস্থিত থাকতেন উনার পবিত্র জবান নিঃসৃত অমীয় বাণী মুবারকসমূহ শুনার, বুঝার ও আমল করার জন্য।
আর মজলিসে উপস্থিত সকলেই তা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের সাথে সাথে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতেন। ইলমে ফিক্বাহ তথা শরয়ী দিক-র্নিদেশনামূলক উনার বিখ্যাত কিতাব মুবারকের নাম ‘গুনিয়াতুত্ ত্বালেবীন’ এবং ইলমে তাছাওউফ তথা আত্মশুদ্ধির দিক-নির্দেশনামূলক কিতাব মুবারকের অন্যতম হলো- ‘ফতহুল গায়েব’ ও ‘আল ফতহুর রব্বানী’। উনার প্রবর্তিত ‘তরীক্বায়ে ক্বাদেরিয়া’ মা’রিফাত জগতের অন্যতম প্রধান সিলসিলা, যা সারা বিশ্বে স্বমহিমায় মশহুর।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]