পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ মুবারক হো! পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত কিছু ঐতিহাসিক দলীল


‘মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া’ ও ‘মাদারিজুন নবুওওয়াত’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার পবিত্র স্থানে উপস্থিত হয়ে মীলাদ শরীফ পালনের নিয়ম প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।”
‘তাওয়ারীখে হাবীবে ইলাহী’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- “পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ-এ মীলাদে হাবীবুল্লাহ উদ্যাপনের রীতি মদীনাবাসীদের মধ্য হতেও চলে এসেছে।”
বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ হযরত ইবনুল জূযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “হারামাইন শরীফাইন (মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ), মিসর, সিরিয়াসহ সমস্ত আরব দেশ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মুসলমানদের মধ্যে প্রাচীন যুগ থেকে এ নিয়মই চলে এসেছে যে- রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার চাঁদ দেখতেই উনারা পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মাহফিলসমূহ আয়োজন করতেন, খুশি প্রকাশ করতেন, গোসল করতেন, উন্œত মানের পোশাক পরিধান করতেন, বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জা করতেন, খুশবু লাগাতেন। এ দিনগুলোতে (রবীউল আউওয়াল শরীফ) খুব খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করতেন, সামর্থ্য অনুসারে লোকজনের জন্য টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র খরচ করতেন এবং মীলাদ শরীফ পাঠ ও শ্রবণের প্রতি পূর্ণাঙ্গ গুরুত্ব দিতেন। এরই মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান ও মহা সাফল্যাদি অর্জন করতেন।” (বায়ানুল মীলাদিন নবী)
হযরত ইমাম আহমদ ক্বোস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি অসংখ্য রহমত নাযিল করুন ঐ ব্যক্তির উপর, যে মীলাদ-ই-পাক উনার মাস পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার রাতগুলোকে এমন খুশির রাতে পরিণত করে যে, যার অন্তরে শানে রিসালতের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রয়েছে তার অন্তরের উপর ক্বিয়ামত সংঘটিত হয়ে যায়।” (আল মাওয়াহিব জুরকানী)
হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, “মক্কাবাসীগণ পবিত্র মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার প্রতি গুরুত্ব ঈদ অপেক্ষা বেশি দিতেন।” (আল মাওলিদ আর রাবী)
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, “আমি একবার মক্কা মুয়ায্যামায় পবিত্র মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীফ উনার দিনে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার স্থানে উপস্থিত ছিলাম। তখন লোকেরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঐসব মু’জিযা শরীফ বর্ণনা করছিলেন যেগুলো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র বিলাদত শরীফ উনার পূর্বে ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের পূর্বে প্রকাশ পেয়েছিলো। আমি হঠাৎ দেখতে পেলাম সেখানে নূর মুবারকের ছড়াছড়ি। তখন আমি গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করলাম ও বুঝতে পারলাম যে, ঐ ‘নূর’ হচ্ছেন ঐসব ফেরেশতাগণ যাঁদেরকে এমন মীলাদ শরীফ উনার মাহফিলসমূহের জন্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে, অনুরূপভাবে আমি দেখেছি ‘রহমতের নূর’ ও ফেরেশতাদের নূর’ সেখানে মিলিত হয়েছে।” (ফুয়ূযূল হারামাইন)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে