পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ নিয়ে বাতিলপন্থীদের চু-চেরার দলীলভিত্তিক জওয়াব


সুওয়াল: নামায রোযা পালনের খবর নাই, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে টানাটানি। নাউযুবিল্লাহ!
সুওয়াল: পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের আগে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ঠিকমত আদায় করতে হবে। কারণ কিয়ামতের ময়দানে এসবের হিসেব নেওয়া হবে, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের নয়। নাউযুবিল্লাহ!

খ-ন : পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের জন্য নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি যথাযথভাবে আদায়ের শর্ত আরোপ করা হয়নি। বরং সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত বিনা শর্তেই ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেছে।
কেউই নামায, রোযা পালন করে কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে না, নাজাত লাভ করতে পারবে না, যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াত মুবারক লাভ করা না যায়। পক্ষান্তরে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা এমন একটি ইবাদত যা অন্য সমস্ত ইবাদত অপেক্ষা সর্বোত্তম। আর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনকারীদের জন্য শাফায়াত সুনিশ্চিত, নাজাতও সুনিশ্চিত।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا خَلَقْتُ الْـجِنَّ وَالْاِنْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ.
অর্থ : “আমি জিন ও ইনসানকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।” (পবিত্র সূরা যারিয়াহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ হতে সুস্পষ্ট যে মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করার জন্য। আর মহান আল্লাহ পাক তিনিই ইবাদতের নিয়ম-নীতি, তরতীব বা পদ্ধতি বলে দিয়েছেন। সেই মহান আল্লাহ পাক তিনিই সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন কোন ইবাদত সর্বোত্তম।
যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا اَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مّن رَّبّكُمْ وَشِفَاءٌ لّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لّلْمُؤْمِنِيْنَ ◌ قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْـمَتِه فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ ◌
অর্থ : “হে মানবজাতি! অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্যে তাশরীফ মুবারক এনেছেন মহান নছীহত মুবারক দানকারী, তোমাদের অন্তরের সকল ব্যাধিসমূহ শিফা মুবারক দানকারী, কুল-কায়িনাতের মহান হিদায়েত মুবারক দানকারী ও খাছভাবে ঈমানদারদের জন্য, আমভাবে সমস্ত কায়িনাতের জন্য মহান রহমত মুবারক দানকারী (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ফদ্বল বা অনুগ্রহ মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন; সেজন্য তারা যেনো সম্মানিত ঈদ উদযাপন তথা খুশি মুবারক প্রকাশ করে। এই খুশি মুবারক প্রকাশ বা ঈদ করাটা সেসব কিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (পবিত্র সূরা ইঊনুস শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)
মানুষ দুনিয়া আখিরাতের জন্য যা সঞ্চয় করে তাহলো ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি, আহাল-ইয়াল বা পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, নেক আমল- নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, দান-খয়রাত ইত্যাদি। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সমস্ত কিছু থেকেও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ করাকে সর্বোত্তম ইবাদত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তাই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কটাক্ষ করা সম্পূর্ণরূপে কুফরী। কেননা কেউই নামায রোযা পালন করে কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে না, নাজাত লাভ করতে পারবে না, যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াত মুবারক লাভ করা না যায়।
পক্ষান্তরে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা এমন একটি ইবাদত যা অন্য সমস্ত ইবাদত অপেক্ষা সর্বোত্তম।
আর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনকারীদের জন্য শাফায়াত সুনিশ্চিত, নাজাতও সুনিশ্চিত।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا اَنَّهٗ كَانَ يُـحَدّثُ ذَاتَ يَوْمٍ فِىْ بَيْتِه وَقَائِعَ وِلادَتِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِقَوْمٍ فَيَسْتَبْشِرُوْنَ وَيُـحَمّدُوْنَ اللهَ وَيُصَلُّوْنَ عَلَيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاِذَا جَاءَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَلَّتْ لَكُمْ شَفَاعَتِىْ.
অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা উনার নিজগৃহে সমবেত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কিত মুবারক ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ উনারা আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা তথা তাসবীহ-তাহলীল মুবারক পাঠ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি (পবিত্র ছলাত শরীফ-পবিত্র সালাম শরীফ) পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করছিলেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তথায় তাশরীফ মুবারক নেন এবং (পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের অনুষ্ঠান দেখে) বললেন, “আপনাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব।” সুবহানাল্লাহ! (আত তানউইর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, মাওলূদুল কাবীর, দুররুল মুনাযযাম, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইশবাউল কালামি ফী ইছবাতিল মাওলিদি ওয়াল ক্বিয়ামি, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী)
এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে- অর্থ : “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সন্তানাদি এবং আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশী উনাদেরকে নিয়ে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কিত মুবারক ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস; এই দিবস (অর্থাৎ এই দিবসে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং ইত্যাদি ইত্যাদি ঘটেছে)। এতদশ্রবণে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মুবারক রহমত উনার দরজা মুবারক আপনার জন্য উম্মুক্ত করেছেন এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ আপনার মত এরূপ কাজ করবে, তিনিও আপনার মত নাজাত (ফযীলত) লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আত তানউইর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, মাওলূদুল কাবীর, দুররুল মুনাযযাম, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইশবাউল কালামি ফী ইছবাতিল মাওলিদি ওয়াল ক্বিয়ামি, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী)
যেহেতু হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করে শাফায়াত সুনিশ্চিত করেছেন, নাজাত সুনিশ্চিত করেছেন। আর উনাদের অনুসরণে পরবর্তী উম্মতের জন্যও শাফায়াত মুবারক ও নাজাতের সুনিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالسَّابِقُوْنَ الْاَوَّلُوْنَ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ وَالْاَنْصَارِ وَالَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُمْ بِاِحْسَانٍ رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ وَاَعَدَّ لَـهُمْ جَنَّاتٍ تَـجْرِي تَـحْتَهَا الْاَنْـهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا اَبَدًا ۚ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ ◌
অর্থ : “হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অগ্রগণ্য এবং উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণকারী সকলের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট আর উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পেরেছেন। আর উনাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন সম্মানিত জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত। সেখানে উনারা চিরকাল থাকবেন। এটাই হলো মহান কামিয়াবী।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)
সুতরাং, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা হচ্ছে মুসলমান উনাদের জন্য সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রথম দায়িত্ব-কর্তব্য। যা পালন করা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ফরয। নামায রোযা পালন করাও মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ফরয। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক না আনলে নামায রোযা কিছুই ফরয হতো না, সেহেতু উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করাই সর্বপ্রধান ও সর্বোত্তম ইবাদত। অর্থাৎ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করাই হচ্ছে সর্বোত্তম ইবাদত। তাই সর্বোচ্চ খুশি সহকারে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন তো করতেই হবে, অন্যান্য সকল ফরয ইবাদত যেমন নামায রোযা পালনও করতে হবে, ছেড়ে দেয়া যাবে না। আবার কিয়ামতের ময়দানে সমস্ত আমলের হিসেব নেয়া হলেও পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনকারীদের কোন হিসেবই নেয়া হবে না। কারণ উনারা দুনিয়াতেই ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছেন, যা উপরোক্ত হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই প্রমাণিত।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ফরয নেক আমল হিসেবে স্বীকৃত। আর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র ঈমান উনার সাথে জড়িত। কেননা, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্টতা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জাত মুবারক উনার সাথে। তাই পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মানিত ঈমান উনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করাই সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়া এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- অর্থ : “হযরত তুফাইল ইবনে উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতা থেকে বলেন, একদা রাতের দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুতবা মুবারক প্রদান করার জন্য দাঁড়ালেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন, হে মানুষেরা! মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করুন। মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করুন। ভূমিকম্প এসেছে, তার সাথে মহামারীও এসেছে, যেভাবে মৃত্যু আসার সেভাবে মৃত্যুও এসেছে। হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার জন্য ছলাত মুবারক, সালাম মুবারক, ছানা-ছিফত মুবারক বেশি বেশি করতে চাই। কত সময় ধরে আপনার ছানা-ছিফত মুবারক করবো ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি যতটুকু সম্ভব করুন। তাহলে চার ভাগের এক ভাগ (অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় ৬ ঘণ্টা) আপনার ছানা-ছিফত মুবারক করবো ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা শুনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি যতটুকু সম্ভব করুন, তবে এর চাইতে আরো বৃদ্ধি করতে পারলে আরো উত্তম হবে। তিনি বললেন, তাহলে অর্ধেক সময় (২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টা) আপনার আমি ছানা-ছিফত মুবারক করবো ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে কি হবে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার যতটুকু সম্ভব আপনি করুন, তবে এর চাইতে আরো বৃদ্ধি করতে পারলে আরো উত্তম হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিন ভাগের দুই ভাগ (২৪ ঘণ্টায় ১৬ ঘণ্টা) আমি আপনার ছানা-ছিফত মুবারক করবো ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে কি হবে? শুনে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি যতটুকু ইচ্ছা পারেন করুন, তবে এর চাইতে আরো বৃদ্ধি করতে পারলে আরো উত্তম হবে। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে আমি আমার জিন্দেগীর সমস্ত সময় (২৪টা ঘণ্টাই) আমি আপনার ছানা-ছিফত মুবারক উনার মধ্যে ব্যয় করবো। সুবহানাল্লাহ! এটা শুনে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুশি হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি খুশি হয়ে ইরশাদ মুবারক করলেন, খুব উত্তম! আপনি যদি এটা করতে পারেন তাহলে আপনার জিন্দেগীর যত নেক মকছুদ সবগুলো পুরা করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! এবং আপনার জিন্দেগীর যত গুনাহ-খাতা রয়েছে সব ক্ষমা করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ : কিতাবু ছিফাতিল ক্বিয়ামাতি ওয়া রিক্বাক্ব ওয়া ওয়ারা : হাদীছ শরীফ নং ২৪৫৭)
সুতরাং ক্বিয়ামত পর্যন্ত পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনকারী সবাই ক্ষমাপ্রাপ্ত। আর যাঁরা দুনিয়াতেই ক্ষমাপ্রাপ্ত, উনাদের কিয়ামতের ময়দানে প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার প্রশ্নই আসে না। সুবহানাল্লাহ!
পক্ষান্তরে মুছল্লী বা নামাযী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও যথাযথভাবে নামায আদায় না করার কারণে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ঘোষিত হয়েছে-
فَوَيْلٌ لّلْمُصَلّيْنَ ◌ الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلٰوتِـهِمْ سَاهُوْنَ ◌ الَّذِيْنَ هُمْ يُرَاءُوْنَ ◌
অর্থ : “ অতপর মুছল্লীদের জন্য জাহান্নাম বা ধ্বংস। যে সমস্ত মুছল্লীরা তাদের নামায সম্পর্কে গাফিল। যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামায পড়ে বা আমল করে।” (পবিত্র সূরা মাঊন শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪-৬)
আবার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏ رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهٗ مِنْ صِيَامِه اِلَّا الْـجُوْعُ وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهٗ مِنْ قِيَامِه اِلَّا السَّهَرُ‏.‏
অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এমন অনেক রোযাদার রয়েছে যাদের রোযার বিনিময়ে অনাহারে বা অভুক্ত থাকা ব্যতীত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক এমন রাত জাগরণকারী নামাযী রয়েছে যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না।” (ইবনে মাজাহ শরীফ : কিতাবুছ ছিয়াম : হাদীছ শরীফ নং ১৬৯০)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হজ্জ সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে-
ﻋﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﻧﺲ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺎﺗﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺯﻣﺎﻥ ﻳـﺤﺞ ﺍﻻﻏﻨﻴﺎﺀ امتى ﻟﻠﻨﺰﻫﺔ ﻭﺍﻭﺳﻄﻬﻢ للتجارة ﻭﻓﻘﺮﺍﺋﻬﻢ ﻟﻠﻤﺴﺌﻠﺔ ﻭﻋﻠﻤﺎﺋﻬﻢ ﻟﻠﺴﻤﻌﺔ ﻭﺍﻟﺮﻳﺎﺀ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মানুষের উপর এমন একটা যামানা বা সময় আসবে সেসময় ধনী ব্যক্তিরা হজ্জ করবে আনন্দ ভ্রমনের জন্য, মধ্যবিত্ত ব্যক্তিরা হজ্জ করবে ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে, দরিদ্ররা হজ্জ করবে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে আর আলিম নামধারীরা হজ্জ করবে সুনাম অর্জন ও রিয়া বা লৌকিকতার উদ্দেশ্যে।” (জামিউল কবীর লিস সুয়ূত্বী, দাইলামী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ شَدَّادِ بْنِ اَوْسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ صَامَ يُرَائِـي فَقَدْ اَشْرَكَ وَمَنْ صَلَّى يُرَائِـي فَقَدْ اَشْرَكَ وَمَنْ تَصَدَّقَ يُرَائِـي فَقَدْ اَشْرَكَ.
অর্থ : “হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি রোযা রাখে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে, সে র্শিক করলো, যে ব্যক্তি নামায আদায় করলো লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে, সে র্শিক করলো, যে ব্যক্তি যাকাত প্রদান করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে, সে র্শিক করলো।” (শু‘য়াবুল ঈমান লি বায়হাক্বী : হাদীছ শরীফ নং ৬৩৪০)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে বুঝা যাচ্ছে যে, শুধু নামায আদায় করলেই, রোযা রাখলেই, হজ্জ পালন করলেই, যাকাত প্রদান করলেই তা কবুল করা হবে না। বরং সমস্ত কিছুই করতে হবে যথাযথভাবে ইখলাছের সাথে। এমনকি রিয়া করে অর্থাৎ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে রোযা রাখলে, নামায আদায় করলে, যাকাত প্রদান করলে তা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হয়।
কিন্তু পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ইবাদত যা পালনকারী যদি কুফরী-শিরকীও করে তারপরও পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের আমলটিকে বা আমলের প্রতিদানকে নষ্ট করতে পারে না। এ ব্যাপারে উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে আবূ লাহাব। আবূ লাহাব সারা জীবন কুফরী-শিকরী করলো। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বেয়াদবী করার কারণে আবূ লাহাবের ধ্বংসের ব্যাপারে আলাদাভাবে একখানা পূর্ণ সূরা শরীফ অর্থাৎ পবিত্র সূরা আবূ লাহাব শরীফ নাযিল হলো। ফলে সে কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো এবং জাহান্নামে গেলো। তারপরেও সে জাহান্নামে থেকে সে প্রতি ইছনাইনিল আযীম শরীফ ঠান্ডা শীতল পানি পানের সুযোগ পেয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاَيْتُ اَبَا لَـهَبٍ فِى النَّارِ يَصِيْحُ الْعَطَشَ الْعَطَشَ فَيُسْقٰى مِنَ الْمَاءِ فِىْ نُقْرِ اِبْـهَامِهٖ فَقُلْتُ بِـمَ هٰذَا فَقَالَ بِعِتْقِىْ حَضْرَتْ ثُويْبَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ لِاَنَّـهَا اَرْضَعَتْكَ.
অর্থ : “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আবূ লাহাবকে দেখেছি জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত অবস্থায় চিৎকার করে বলছে, পানি দাও! পানি দাও!! অতঃপর তার বৃদ্ধাঙুলীর গিরা দিয়ে পানি পান করানো হচ্ছে। আমি বললাম, কী কারণে এ পানি পাচ্ছো? আবূ লাহাব বললো, আপনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে হযরত ছুয়াইবা আলাইহাস সালাম উনাকে মুক্ত করার কারণে এই ফায়দা পাচ্ছি। কেননা তিনি আপনাকে দুধ মুবারক পান করিয়েছেন।” (তারিখী ইয়াকুবী : ১ম খ- : ৩৬২ পৃষ্ঠা)
অন্য বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছে- অর্থ : “হযরত উরওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত সুয়াইবা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন আবূ লাহাবের বাঁদী এবং আবূ লাহাব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে খুশি হয়ে উনার মুবারক খিদমত করার জন্য উনাকে আযাদ করে দিয়েছিলো। এরপর আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিনি দুধ পান করান। অতঃপর আবূ লাহাব যখন মারা গেলো (কিছুদিন পর) তার পরিবারের একজন অর্থাৎ হযরত খ¦াতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, আবূ লাহাব সে ভীষণ কষ্টের মধ্যে নিপতিত আছে। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করা হয়েছে।’ আবূ লাহাব উত্তরে বললো, ‘যখন থেকে আপনাদের কাছ থেকে দূরে রয়েছি তখন থেকেই ভীষণ কষ্টে আছি। তবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষ্যে খুশি প্রকাশ করে তথা খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাঁদী হযরত ছুয়াইবা আলাইহাস সালাম উনাকে দু’আঙুলের ইশারায় আযাদ করার কারণে সেই দু’আঙ্গুল হতে সুমিষ্ট ঠা-া ও সুশীতল পানি পান করতে পারছি।” (বুখারী শরীফ : কিতাবুন নিকাহ : বাবু ওয়া উম্মাহাতুকুমুলাতী আরদ্ব‘য়নাকুম : হাদীছ শরীফ নং ৫১০১)
সুতরাং উপরের আলোচনা হতে বুঝা গেল যে, পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন এক ইবাদত যার বদলা বা প্রতিদান কুফরীও মিটাতে পারে না।
কেননা এ আমলটি পবিত্র ঈমান উনার সাথে সংযুক্ত। যার ফলে সারা জীবন কুফরী-শিরকী করেও আবূ লাহাব জাহান্নামের মধ্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ামত পাচ্ছে। তাহলে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে খুশি প্রকাশ করার ফায়দা যে কত তা ফিকির ও চিন্তার বিষয়। কিন্তু সারাজীবন নামায-রোযা পালন করেও এই নিশ্চয়তা নেই যে, তার উক্ত ইবাদত কবুল হচ্ছে।
তাই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উল্লেখ্য মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের সাথে সাথে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদতও সঠিকভাবে অবশ্যই পালন করতে হবে।
উপরন্তু সারাজীবন নামায-রোযা পালন করেও হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ اَنَّ رَجُلًا صَفَّ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْـمَقَامِ فَصَلّٰى وَصَامَ ثُـمَّ لَقِىَ اللهَ وَهُوَ مُبْغِضٌ لّاَهْلِ بَيْتِ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ النَّارَ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোন ব্যক্তি যদি সম্মানিত রুকনে ইয়ামেন এবং সম্মানিত মাক্বামে ইবরাহীম শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে সারিবদ্ধ হয়ে থাকে। অতঃপর নামায পড়ে এবং রোযা রাখে। কিন্তু এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় যে, সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (যাখাইরুল ‘উক্ববা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৮, খ¦ছায়িছুল কুবরা ২/৪৬৫)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক উনার মধ্যে এসেছে, অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা মুবারক দিলেন এবং বলতে থাকলেন যে, হে লোক সকল! যারা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, উনাদের বিরোধিতা করবে, তাদের হাশর-নশর হবে ইহুদীদের সাথে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি তারা রোযা রাখে এবং নামায পড়ে? উত্তরে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হ্যাঁ! যদিও তারা রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং দাবি করে যে, তারা মুসলমান। (তা সত্ত্বেও মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধিতা করার কারণে, উনাদের শত্রু হওয়ার কারণে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সমস্ত ইবাদত বিনষ্ট করে দিয়ে তাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন ইহুদীদের দলভুক্ত করে উঠাবেন।)” নাঊযুবিল্লাহ! (আল মু’জামুল আওসাত্ব লিতত্ববারনী ৪/২১২, জামিউল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ১০/৪৭৫, জামউল জাওয়ামি’ লিস সুয়ূত্বী, মাজমাউয যাওয়াইদ লিল হাইছামী ৯/৭১২, তারীখে জুরজান ৩৬৯ পৃষ্ঠা)
আর হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ الله تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানজুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭)
অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ দ্বারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম বলতে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সহ উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বুঝাবে।
সুতরাং যারা অন্যান্য ইবাদতসমূহকে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় তারা মূলত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণেই এরূপ করে থাকে।

ফাদ্বলুল্লাহ, ফাতিহুন নূর, ফাখরুল আম্বিয়া, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের আত্মত্যাগ
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই মহান আল্লাহ পাক উনার কছম! উনার হাত মুবারক উনার মধ্যে আমার রূহ মুবারক। তোমরা শুনে রাখ এবং জেনে রাখ, তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিনে কামিল হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততির চেয়ে আমাকে বেশি মুহব্বত করতে না পারবে।” (পবিত্র বুখারী শরীফ, পবিত্র মুসলিম শরীফ)
ঠিক এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মেছদাক ছিলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা। উনারা উনাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততির থেকেও বেশি মুহব্বত করতেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে।
একদিন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ এক ব্যক্তি এসে হাযির হলেন এবং বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কিছুদিন পর আমার মেয়ের বিয়ে কিন্তু আমি অনেক গরীব, আমার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার মতো আমার কোন সামর্থ্য নেই। দয়া করে আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন।” যখন সে লোকটি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি তুমি এক কাজ কর, এই যামানার যিনি ধনী ব্যক্তি এবং আমার জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে গিয়ে আমার কথা বলবে, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি। তিনি যেন তোমাকে সাহায্য করেন।” তখন সেই ব্যক্তি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দরবারে এসে হাযির হলেন এবং তিনি সেখানে পৌঁছে দেখতে পেলেন যে, হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উনার শরীকদার ব্যবসায়ীর নিকট থেকে এক পয়সার হিসাব বুঝে নিচ্ছেন। তখন সে ব্যক্তি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন, যে ব্যক্তি এক পয়সার হিসাব নিতে পারেন তিনি আমাকে কিভাবে সাহায্য করবেন? একথা চিন্তা করে তিনি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দরবার শরীফ ত্যাগ করলেন এবং আবার গিয়ে হাযির হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফ-এ। সে ব্যক্তি হাযির হয়ে বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক পয়সার হিসাব বুঝে নিচ্ছেন। যিনি এক পয়সার হিসাব বুঝে নেন তিনি কিভাবে দান করতে পারেন?” নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি! তুমি উনার কাছে গিয়ে আমার কথা বলো, তাহলে তিনি তোমাকে সাহায্য করবেন।” তখন সেই ব্যক্তি আবার হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দরবার শরীফ এ হাযির হলেন এবং বললেন, “হে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আমাকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনি যেন আমাকে কিছু সাহায্য করেন।” তখন হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি আপনি এক কাজ করুন। আপনি ওমুক পাহাড়ে গিয়ে দাঁড়ান, সেখানে কিছুক্ষণ পর দেখতে পাবেন সেই পাহাড়ের পিছন দিক থেকে আমার একটি উটের কাফেলা আসছে এবং সকল উঠের পিঠের উপর বোঝাই করা সম্পদ রয়েছে। সেখান থেকে আপনার যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু সম্পদ আপনি নিয়ে যান।” সে ব্যক্তি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কথা অনুযায়ী সেই পাহাড়ে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং ঠিক কিছুক্ষণ পরে দেখা গেলো সেই পাহাড়ের পিছন দিক থেকে বিরাট এক উটের কাফেলা আসছে এবং সমস্ত উটের পিঠে বোঝাই করা সম্পদ রয়েছে। অতঃপর উক্ত বিরাট কাফেলা সেই ব্যক্তির সম্মুখে আসলো। তখন সেই ব্যক্তি হাত উঁচু করে সেই উটের কাফেলাটিকে থামিয়ে দিলেন। তখন সেই কাফেলার যিনি সর্দার ছিলেন তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি! আপনি কেন এই উটের কাফেলাটিকে থামিয়ে দিলেন।” তখন সেই ব্যক্তি বললেন, “হে কাফেলার সর্দার! হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, এই উটের কাফেলা থেকে আমার যে উটটি পছন্দ হয় সে উটটিই যেন সম্পদসহ নিয়ে যাই।”
একথা শুনে কাফেলার সর্দার বললেন, “ঠিক আছে, আপনার যে উটটি পছন্দ হয় সে উটটি সম্পদসহ নিয়ে যান।” তখন সেই ব্যক্তি সবার সামনের সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচাইতে বেশি সম্পদ বোঝাই করা উটটিকে পছন্দ করলেন। তখন সেই কাফেলার সর্দার বললেন, “হে ব্যক্তি! আপনাকে এই উটটি দেয়া যাবে না। কেননা, উটের নিয়ম অনুযায়ী সামনের উট যেদিকে যায় পিছনের উটগুলোও তার পিছনে পিছনে সেদিকে যায়।” সেজন্য কাফেলার সর্দার সে ব্যক্তিকে সামনের উটটি দিতে চাচ্ছেন না। তখন দুজনে মিলে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার কাছে গিয়ে হাযির হলেন এবং কাফেলার সর্দার বললেন, “হে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনি কি এই ব্যক্তিকে আমাদের কাফেলা থেকে যে কোন একটি উট সম্পদসহ নিয়ে যেতে বলেছেন?” হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমি তা বলেছি।” তখন কাফেলার সর্দার বললেন, “হে হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! এই ব্যক্তি আমাদের কাফেলার সর্বপ্রথম উটটিকে পছন্দ করেছেন। এখন যদি এ ব্যক্তিকে সেই উটটি দিয়ে দেয়া হয় তাহলে সমস্ত উটসহ সমস্ত সম্পদও চলে যাবে। তাহলে আমাদের কিছুই থাকবে না।” হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, “হে কাফেলার সর্দার! তুমি কি জান, এই ব্যক্তিকে কে আমার কাছে পাঠিয়েছেন? তিনি হলেন, সরওয়ারে দোজাহান, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। কাজেই এ ব্যক্তি তো শুধু আমার উট এবং সম্পদ চেয়েছে। হে কাফেলার সর্দার! তুমি শুনে রাখ এবং জেনে রাখ! এই ব্যক্তি যদি আমাকেও চায় তাহলে আমি হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালামকেও তাঁর সঙ্গে চলে যেতে হবে।” সুবহানাল্লাহ!
তখন হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশে উক্ত কাফেলার এক হাজার উট খাদ্য-শস্যসহ সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন।
জান-মাল সবকিছু কুরবানী করার বিনিময়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা লাভ করেছেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি। সেই সন্তুষ্টি পেতে হলে আমাদেরকেও সবকিছু কুরবানী করে দিতে হবে। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমীন

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]