পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে সমস্ত বিধর্মীরা বিভ্রান্ত এবং পথভ্রষ্ট। তাই বিধর্মীদের পহেল বৈশাখ পালন করা মুসলমানদের জন্য হারাম।


আমরা মুসলমানরা প্রতিদিন বিতরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে কমপক্ষে ৩২বার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করি এবং পবিত্র ঈসালে সওয়াবসহ আরো অনেক আমলে আমরা পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করি। এখন বুঝার এবং ফিকির করার বিষয় হচ্ছে- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ১১৪টি পবিত্র সূরা শরীফ রয়েছে আর এই ১১৪টি পবিত্র সূরা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কেন বারবার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করার নিয়ম করেছেন। এর লক্ষ-কোটি হেকমত এবং কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে- সর্ম্পূণ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ৬৬৬৬টি পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত হিকমত মুবারকে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার ৭টি পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে সেই বিষয়গুলি বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর তাই পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনাকে বলা হয়েছে ‘উম্মূল কুরআন’ অর্থাৎ পুরো কুরআন শরীফ উনার মূল।
তাহলে এখন আমাদের বুঝতে হবে- কোন কোন বিষয়গুলি পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আমাদের জন্য কি নসীহত মুবারক করেছেন এবং কি শিক্ষা দিয়েছেন? খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা ফাতিফা শরীফ উনার মধ্যে আমাদের মুসলমানদের দোয়া করতে শিক্ষা দিয়েছেন। তোমরা (মুসলমানরা) দোয়া করো ইয়া বারে ইলাহি মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাদেরকে সহজ সরল পথ প্রর্দশন করুন। তাহলে সহজ সরল পথ কোনটি? আমরা বুঝবো কিভাবে সহজ সরল পথ। সেটা বুঝার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি আবার বলে দিয়েছেন যে- ইয়া বারে ইলাহী মহান আল্লাহ পাক! যাদেরকে আপনি (নবী, ছিদ্দীক্ব, সালেহ) নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন, উনাদের পথ আমাদেরকে দান করুন আর ইয়া বারে এলাহী মহান আল্লাহ পাক! আমাদেরকে তাদের (সমস্ত বিধর্মী) পথ দিবেন না যারা গযবপ্রাপ্ত এবং পথভ্রষ্ট।
তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মূল পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের শিক্ষা দিলেন মুসলমান উনারা সর্ব বিষয়ে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ারা আনহুম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনুসরণ অনুকরণ করবেন। আর মুসলমান উনারা সর্ব বিষয়ে সমস্ত বিধর্মীদের অনুসরণ অনুকরণ পরিত্যাগ করবে।
কিন্তু অত্যন্ত আফসুস এবং পরিতাপের বিষয় হচ্ছে- মুসলমান উনারা প্রতিদিন অসংখ্য বার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করার পরেও একমাত্র ও মনোনীত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সহীহ সমঝ না থাকার কারণে মুসলমানরা বিধর্মীদের অপসংস্কৃতি বিধর্মীদের ধর্মীয় রেওয়াজ তথা পহেলা বৈশাখের শিরক, কুফরিগুলি বিধর্মীদের অপসংষ্কৃতি, বিধর্মীদের ধর্মীয় রেওয়াজগুলি মুসলমান উনাদের মধ্যে প্রচলন ঘটেছে। নাউযুবিল্লাহ! পহেলা বৈশাখে বিধর্মীরা তাদের বাতিল ধর্মীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রাণীর মূর্তি তৈরি করে বিভিন্ন প্রাণীর মুখোশ পরে, মাথায় তিলক লাগিয়ে, ঢোল-তবলা বাজিয়ে, নাচ-গান করে থাকে এবং পুণ্যাহ, ঘটপূজা, গণেশ পূজা, সিদ্ধেশ্বরী পূজা/বউমেলা, ঘোড়ামেলা, চড়ক/গম্ভীরা বা কুমিরের পূজা, বৈসাবী উৎসব এবং মঙ্গল শোভাযাত্রা ইত্যাদি পালন করে থাকে। পবিত্র ইসলামী শরীয়ত মুতাবেক এই কাজগুলো শিরক এবং কুফীরর অন্তর্ভুক্ত।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- দুনিয়াতে যেই ব্যক্তি যাকে অনুসরণ করবে তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে। নাউযুবিল্লাহ! তাই মুসলমানদের মধ্যে যারা বিধর্মীদের ধর্মীয় রেওয়াজ পহেলা বৈশাখ পালন করবে তারা বিধর্মীদের অনুসরণ অনুকরণ করার কারণে গযবপ্রাপ্ত এবং পথভ্রষ্ট হয়ে পরকালে চরম ক্ষতিগ্রস্ত (জাহান্নামী) হবে। মুসলমানদের জন্য ফরয হচ্ছে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ থেকে শিক্ষা গ্রহন করে বিধর্মীদের অপসংষ্কৃতি অর্থাৎ ধর্মীয় রেওয়াজ পহেলা বৈশাখ পালন সর্ম্পূণভাবে ত্যাগ করা।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে