পবিত্র ১৪ই যিলহজ্জ শরীফ দিনটিও ‘আইয়্যামিল্লাহ’ উনার অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!


ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) অর্থ মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

وذكرهم بايام الله ان فى ذلك لايات لكل صبار شكور.
অর্থ: “তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকর-গোজারকারীগণের জন্য অনেক নির্দশন রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
দিন-কাল, মাস, বছরসহ কায়িনাতের সবকিছুরই মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি। তিনি সকলেরই একচ্ছত্র অধিপতি, মালিক। তারপরেও কিছু দিন, কাল, স্থান, মাস, বছর এবং বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের জন্য খাছ করেছেন। পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে بيت الله (বাইতুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর, পবিত্র রজব মাস উনাকে شهرالله (শাহরুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার মাস, পবিত্র কুরআন শরীফ অধিক তিলাওয়াতকারীকে اهل الله (আহলুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার আহাল বা পরিবার বলা হয়েছে। এমনিভাবে আরো অনেক বিষয় বা বস্তু আছে যেগুলোকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহান শান মুবারক উনার সাথে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত করেছেন।
তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম পাক উনার অনেক জায়গায় কিছু স্থান, কাল, সময়, বিষয় ইত্যাদির নামে শপথ বা কসম করেছেন। অনুসরণীয় হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম তথা মুফাসসিরে কিরাম এবং মুহাদ্দিসীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সেই নিসবত বা সম্পর্ক এবং শপথের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি এর দ্বারা সেই বিষয়, স্থান, কাল, মাস, বছর ইত্যাদির মর্যাদা-মর্তবা, গুরুত্ব-তাৎপর্যের বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। সুবহানাল্লাহ!
একইভাবে ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ বলে বিশেষ বিশেষ দিন তথা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী লোকদের উপর উনার দেয়া নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, দয়া, দান ইহসান নাযিলের দিনসমূহের কথা বলেছেন। আবার পূর্বাপর সকল উম্মতের উপর আপতিত আযাব-গযব কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্তির দিনগুলো সেই ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) উনার অন্তর্ভুক্ত।
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হচ্ছেন ولى الله (ওলীউল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু। উনারা উনার আহাল তথা পরিবারভুক্ত, সদস্য। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই ওলীআল্লাহ বা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট সকল দিন, কাল, সময়, স্থান ইত্যাদি বিষয়গুলোও যে ايام الله (আইয়্যামুল্লাহ) বা মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সে ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক দ্বারা এ কথা দিবালোকের ন্যায় পরিস্ফুটিত হয়েছে যে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক, পবিত্র বিছালী শান মুবারক এবং অন্যান্য বিশেষ ঘটনা বা স্মৃতি বিজড়িত দিনসমূহ স্মরণ করা বা করানো উচিত। কেননা সেইদিনগুলোতে ছবর ও শোকর ইখতিয়ারকারী তথা ধৈর্যশীল এবং চরম শোকর গোজার বা অধিক পরিমাণে শোকরিয়া আদায়কারীগণের জন্য এতে অসংখ্য অগণিত নিয়ামতরাজি রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই ১৪ই যিলহজ্জ শরীফ সেই রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া, দান, ইহসান নাযিলের বিশেষ দিন। সেই দিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাহবুবা দুনিয়ায় মুবারক তাশরীফ এনেছেন। উনাকে দুনিয়াবাসী সকলেই সাইয়্যিদাতুল উমাম আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম হিসেবে চিনে, জানে। তিনি আখাছছুল খাছ নিয়ামতপ্রাপ্ত মহান ওলীআল্লাহ। উনার বেমেছাল শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। এক্ষেত্রে উনার দৃষ্টান্ত তিনি নিজেই। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই আসুন! সবাই মিলে অত্যন্ত আদব-ইহতিরামের সাথে সেই মহান দিনটি পালন করি এবং খালিছ বান্দা, উম্মত ও মুরীদ হওয়ার সর্বাত্মক কোশেশ করি।
হে মালিকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমাদের সবাইকে কবুল করুন। ইহসান করুন, গাইবী মদদ করুন। আমীন! আমীন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]