প্রতি আরবী মাসের বিশেষ বিশেষ দিনসমূহ সম্পর্কে জানার জন্য বর্ষপঞ্জিকার ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আপনি বান্দা-বান্দী উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিনগুলো স্মরণ করিয়ে দিন।’ সুবহানাল্লাহ!
বাংলাদেশে পবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করতে হবে আগামী ২৯শে রবীউছ ছানী শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১৭ই সাবি’ ১৩৮৮ শামসী, ১৫ই ডিসেম্বর ২০২০ খৃঃ, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) দিবাগত সন্ধ্যায়। প্রতি আরবী মাসের বিশেষ বিশেষ দিনসমূহ সম্পর্কে জানার জন্য বর্ষপঞ্জিকার ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে পাওয়া পঞ্জিকাগুলো অনেক ভুল তথ্যে ভরা এবং মুশরিকদের উপযোগী করে তৈরি করা। নাউযুবিল্লাহ!
চাঁদের সঠিক হিসাব সম্বলিত বর্ষপঞ্জিকা মানুষের জন্য বিশেষ দিনসমূহকে চেনা এবং সেই অনুযায়ী আমলেরও সহায়ক হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ! গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ থেকে প্রকাশিত সঠিক তথ্য সম্বলিত ‘শরয়ী তাকউয়ীম’ নামের বর্ষপঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী পবিত্র রবীউছ ছানী শরীফ মাসের ২৯ তারিখ পবিত্র জুমাদাল উলা শরীফ উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আরবী পঞ্চম মাস পবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ সমাগত। এ মাস হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনার বিশেষ মাস। কেননা সম্মানিত জুমাদাল ঊলা শরীফ মাস উনার ৫ তারিখ সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতে ইমামিল আউয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াহাজহাহূ (হযরত যাইনাব) আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
৯ তারিখ আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত হাদীউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১১ তারিখ সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, খইরুল বানাত হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ তারিখ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ ১২ই শরীফ। এ দিন কোটি কোটি কণ্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।
২২ তারিখ * নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ মুবারক সংঘটিত হওয়ার দিবস। সুবহানাল্লাহ!
* হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
* সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুল বাশার হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ মুবারক সংঘটিত হওয়ার দিবস। সুবহানাল্লাহ!

* সিবতু রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৮ তারিখ হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৯ তারিখ সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল হাদিয়াহ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা মুহব্বত করো। কেননা, তিনি তোমাদের প্রতি খাওয়া-পরার মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে তোমরা মুহব্বত করো মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত পাওয়ার জন্য। আর আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বত মুবারক পাওয়ার জন্য।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, কেউ যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক পেতে চায়, তাহলে অবশ্যই তাকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুহব্বত এবং সন্তুষ্ট করতে হবে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, উল্লেখ্য, মহাকাশ বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী মাসের ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী প্রতিটি আরবী মাসে চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া। ফলে সেদিন চাঁদ তালাশ করতেই হবে। আর প্রতিটি আরবী মাসই বিভিন্ন কারণে সম্মানিত এবং প্রতিটি আরবী মাস উনার মধ্যে রয়েছে রহমত, বরকত হাছিল করার জন্য বিশেষ দিন ও রাত। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, বাংলাদেশ পবিত্র মুজাদাল উলা মাসের চাঁদ তালাশ করবে আগামী ২৯শে রবীউছ ছানী শরীফ ১৪৪২ হিজরী, ১৭ই সাবি’ ১৩৮৮ শামসী, ১৫ই ডিসেম্বর ২০২০ খৃ. ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) দিবাগত সন্ধ্যায়। সেদিন চাঁদ দিগন্তরেখার ০৬ ডিগ্রী ৪৯ আর্ক মিনিট উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদের বয়স হবে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫ টা ১৫ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৫ টা ৫৫ মিনিটে অর্থাৎ ০০ ঘন্টা ৪০ মিনিট চাঁদ আকাশে অবস্থান করে অস্ত যাবে। সেদিন চাঁদ অবস্থান করবে ২৩৮ ডিগ্রী আযিমাতে এবং সূর্যের অবস্থান থাকবে ২৪৪ ডিগ্রী আযিমাতে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ প্রায় ১০ ডিগ্রী কোণ করে সূর্য থেকে সরে থাকবে এবং চাঁদের ০০.৭৬% আলোকিত থাকবে। সেদিন বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জুমাদাল উলা শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]