প্রসঙ্গ: কুরবানীর হাট বন্ধ করে কথিত ডিজিটাল হাট: মুসলমানদের ঐতিহ্য নষ্ট করা ও কুরবানী সম্পর্কে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করাই আসল উদ্দেশ্য


(১)
পবিত্র কুরবানীর হাট নিয়ে নয়-ছয় কথা বলার শেষে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- রাজধানীর ভেতর বসছে না পশুর হাট।’ অথচ গার্মেন্টস চলে, হাটবাজার চলে, মার্কেট চলে কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু কুরবানীর কথা আসলে, ঈদের নামাযের কথা আসলে, মসজিদে জামায়াতে নামাযের কথা আসলেই শুরু হয়ে যায় নানা রকম ছলচাতুরিমূলক কথাবার্তা। মূলত এদের একটাই উদ্দেশ্য যে কোনভাবেই হোক দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করতে হবে, মুসলমানদেরকে দ্বীন ইসলাম পালন থেকে দূরে রাখতে হবে। নাউযুবিল্লাহ!
এরা যে এদেশেও হিন্দুত্ববাদী গো-সন্তানদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় সেটাই এখন দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! একেক বছর একেক ধরণের অজুহাত ও প্রতারণামূলক সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ।
(২)
পবিত্র কুরবানীর হাট নিষিদ্ধ করেই তারা থেমে নেই। আগে আগেই তারা ঈদের নামাযের জামায়াতও ঈদগাহে পড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ এই ত্রাণলোভী সরকারী আমলা-কামলারা যাদের কথায় এসব লকডাউন-ফকডাউন আর তথাকথিত সীমিত পরিসর চালু করেছে, সে সব মূর্খ বিশেষ-অজ্ঞদের বিজ্ঞান বলছে, উন্মুক্ত স্থানে করোনার প্রকোপ কম, আবদ্ধ যায়গায় বেশি। কিন্তু ত্রাণলোভীরা হাট-বাজার উন্মুক্ত স্থানে করলেও ঈদের নামায ঈদগাহের মত উন্মুক্ত স্থানেই পড়তে নিষেধ করেছে। নাউযুবিল্লাহ! মূলত এরকম দ্বি-মুখী কথা দ্বারা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়- এদের একমাত্র উদ্দেশ্যই হলো, দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করা। নাউযুবিল্লাহ!
(৩)
এদিকে আবার তারা মাঠপর্যায়ে কুরবানীর হাট বন্ধ করে দিয়ে নিজেরা চালু করেছে কথিত ডিজিটাল তথা অনলাইন কুরবানীর হাট। নাউযুবিল্লাহ! তারা এ ডিজিটাল হাট নিয়ে প্রতারণামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে- ‘হাসিল মুক্ত অনলাইন হাট।’ অথচ বাস্তবে দেখা গেছে, এসব টাকার ফকির মেয়রদের অনলাইন হাটে দিতে হবে মূল দামের অতিরিক্ত ২৩% টাকা, অর্থ্যাৎ ১ লক্ষ টাকায় অতিরিক্ত আরও ২৩ হাজার টাকা। আর বাসায় পৌছে দেয়ার জন্য দিতে হবে অতিরিক্ত আরো ১৫শ-২ হাজার টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের হাটের হাসিল হলো ৫%। মূলত অনলাইন হাট যে তাদের টাকা লুটপাটের নতুন ব্যবস্থাপনা সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
(৪)
ডিজিটাল বা অনলাইন হাট নিয়ে আরও আছে নানা রকম প্রতারণা, জালিয়াতি ও লুটপাটের মহা সুযোগ। অনলাইনে গরু পছন্দ হলে অর্ধেক দাম দিয়ে এডভ্যান্স করতে হবে। এভাবে গরু ক্রয়ের টাকা নিয়ে যে জালিয়াতরা ভেগে যাবে না, তার প্রমাণ কি?
এছাড়া অনলাইন হাট থেকে গরু প্রসেসিং করা নিয়েও আছে অনেক ভয়ানক ব্যাপার- যেমন ঈদের আগেই পশু জবাই করে সে পশু পৌঁছে দেয়ার সম্ভাবনা আছে, কমদামের ভারতীয় মরা গরুর গোশত, মহিষের গোশত, কম বয়সী গরুর বাছুরের গোশতও যে এভাবে মিশ্রিত করা হবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়?
(৫)
সবশেষে বলতে হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার একটা কথা নিয়ে। সে বলেছে- যেকোনো পরিস্থিতিতে উপ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। যুদ্ধ, ঝড়, ভূমিকম্প যাই হোক নির্বাচন করতে হবে। এটি সংবিধানের বিষয়। সংবিধানপরিপন্থী কোনো কিছু করা যাবে না। তাই নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সম্ভাবনা বা সুযোগ নেই।’
এ সকল দুনিয়াপূজারী প্রতারকরা করোনার মিথ্যা অজুহাতে মসজিদ বন্ধ করলো, ঈদের নামায বন্ধ করলো, কুরবানী বন্ধ করছে, কিন্তু তারা নির্বাচন বন্ধ করবে না। তাদের বক্তব্যে বুঝা যায়, তারা দ্বীন ইসলাম উনার বিধি-বিধান পরিবর্তনে হাত দেয়, কিন্তু তাদের কথিত সংবিধান পরিবর্তন করতে তারা রাজি নয়। নাউযুবিল্লাহ!
এভাবেই করোনার অজুহাতে একের পর এক তারা পবিত্র কুরবানীতে বাধা দিচ্ছে, দ্বীন ইসলাম উনার বিধি-বিধান পালনে বাধা দিচ্ছে তা যে কত ভয়ানক ও কত বড় ষড়যন্ত্র, তা থেকে মুসলমানদের এখনই সতর্ক ও সাবধান হতে হবে। এসব কালা-কানুনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষী এই গ্রুপগুলো আরও বেশি সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবে। তাই প্রত্যেক মুসলমানেরই উচিত- যার যার অবস্থান থেকে, যার যার সর্বোচ্চ শক্তি-সামর্থ্য প্রয়োগ করে এসব অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ়প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে