ফী শানে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুতহ্হারাহ, মুতহ্হিরাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম যিনি নারী জাতির জন্য মুক্তির দিশারী


(বিগত ২ মাসের ৭ই শরীফ সংখ্যায় এই বিষয় মুবারক নিয়েই আরেকটি অংশ প্রকাশিত হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় আরেকটি অংশ আজ প্রকাশ করা হলো)
(বিগত ২ মাসের ৭ই শরীফ সংখ্যায় এই বিষয় মুবারক নিয়েই আরেকটি অংশ প্রকাশিত হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় আরেকটি অংশ আজ প্রকাশ করা হলো)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী কায়েম-মাক্বাম হিসাবে তাশরিফ মুবারক নিয়েছেন, নারী জাতিদের জন্য আখাছছুল খাছভাবে মনোনীত মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবস্থান মুবারক গোটা যমীনবাসীর জন্য এক মহান নিয়ামত মুবারক অর্থাৎ সমস্ত রহমত,বরকত ও নিরাপত্তা লাভের এক মহান উসিলা বা মাধ্যম।
কুল কায়িনাতবাসী খাছ করে গোটা মহিলা জাতির জন্য তিনি কেমন রহমত, বরকত, নিরাপত্তা দানকারিণী সেই বিষয়গুলো থেকে সামান্য কিছু তুলে ধরার কোশেশ করব। ইনশাআল্লাহ!
তিনি একদিন এক বিশেষ ছোহবত মুবারকে উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত নুরুস সালাম মুবারকে (জবান মুবারকে) বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে ইত্ত্বিল’ মুবারক করা হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পর সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মত দ্বিতীয় আর কোন মা নেই। তিনি আরো বলেন, এই কথার শীতলতা মুবারক তিনি দীর্ঘক্ষণ অনুভব করেন।
আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ৬নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
اَلنَّبِىُّ اَوْلى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُه اُمَّهَاتُهُمْ .
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মু’মিনদের নিকট নিজেদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। (পবিত্র সূরা আহযাব: আয়াত শরীফ ৬)
কেউ স্বীকার করুক বা না করুক হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক তিনি ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ব্যতীত সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম সহ সকল উম্মতের মাতা। ঠিক তদ্রুপ কেউ স্বীকার করুক বা না করুক হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পর উনাদের হাক্বীক্বী কায়েম-মাক্বাম হিসাবে মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মত দ্বিতীয় আর কোন মা নেই।
তাহলে কুল-কায়িনাতবাসী কতটুকুই বা উনার শান-মান, বুযুর্গি-ফজীলত মুবারক উপলব্ধি করতে পারবে? মূলত বিষয়টি সকলের ফিকিরেরও উর্দ্ধে।
প্রসঙ্গত বলতে হয়, একজন সন্তানের জীবন ধারণে মা হলেন প্রধান সহায়ক। মা সন্তানের জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করেন এবং কতটুকু ¯েœহময়ী, মমতাময়ী হয়ে থাকেন তা কম বেশি সকলেরই জানা। কিতাবে বর্ণিত একজন মমতাময়ী মায়ের ঘটনা তুলে ধরা হলো- একদিন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনার নিকট একজন মহিলা উনার দুই মেয়েসহ আসলেন। উনারা মা-মেয়ে তিনজনই ছিলেন ক্ষুধার্ত। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম তিনি উনাদেরকে তিনটি খেজুর দিলেন। ক্ষুধা থাকা স্বত্ত্বেও মা খেজুরটি না খেয়ে হাতে রেখে দিলেন। আর মেয়েরা তাদেরগুলো খেয়ে নিল। খাওয়া শেষে তারা তাদের মায়ের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর মা খেজুরটি দুই ভাগ করে মেয়েদের হাতে দিলেন।
এ বিষয়টি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানালেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘটনাটি শুনে বললেন, এই মায়ের চেয়েও মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার বান্দাদের প্রতি লক্ষ কোটিগুণ বেশী দয়ালু।
মা সম্পর্কিত ঘটনাটি এখানে একারণেই তুলা ধরা হল যেন মানুষ উপলব্ধি করতে পারে, যিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পর কায়িনাতবাসীর অদ্বিতীয়া মা, গোটা মহিলা জাতির মুক্তির দিশারী, নাজাতের কান্ডারী সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার স্নেহ, মায়া-মমতা, ত্যাগ-তিতীক্ষা মুবারক কত বেমেছাল! সুবহানাল্লাহ!
মূলত সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার ¯েœহ, মায়া-মমতা, ত্যাগ-তিতীক্ষা যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, আর কুল-কায়িনাতে যত মা রয়েছেন সব মায়েদের ¯েœহ-মমতা, ত্যাগ-তিতিক্ষা যদি আরেক পাল্লায় রাখা হয় তবুও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মায়া-মমতা, ত্যাগ-তিতিক্ষা লক্ষ-কোটি গুন বেশি হবে।
দুনিয়াবী মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে দুনিয়ার আগুন অর্থাৎ দুনিয়ার ফেতনা-ফাসাদ, বালা-মুছীবত, আযাব-গযব থেকে বাঁচানোর কোশেশ করে যদিও অনেক ক্ষেত্রে বাঁচাতে পারেনা। অথচ সন্তানদেরকে পরকালের আগুন থেকে বাঁচানোর কোশেশ করে না।
বলার অপেক্ষা রাখে না, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পর কায়িনাতবাসীর অদ্বিতীয়া মা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি এই আখিরী উম্মাহ্কে দুনিয়ার আগুন অর্থাৎ দুনিয়ার ফেতনা-ফাসাদ, বালা-মুছীবত, আযাব-গযব থেকে তো অবশ্যই এমনকি মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার যাবতীয় বিষয় শিক্ষা দানের মাধ্যমে পরকালের আগুন অর্থাৎ কুফরী-শিরকী, ফাসিকী-নাফরমানী থেকে রক্ষা করছেন। যে কুফরীর পরিণাম সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَمَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُّقْبَلَ مِنْ اَحَدِهِمْ مِلْءُ الْاَرْضِ ذَهَبًا وَّ لَوِ افْتَدى بِه اُولئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ وَّ مَا لَهُمْ مِّنْ نَّصِرِيْنَ
অর্থ: নিশ্চয়ই যারা কুফরী করছে এবং কুফরী অবস্থায় মারা গিয়েছে, তারা যদি তার বিনিময়ে জমিন পরিপূর্ণ স্বর্ণও ফিদিয়া দেয় তবুও তাদের থেকে তা কবুল করা হবে না। তাদের জন্য কোন সাহায্যকারীও থাকবেনা। (সূরা আলে-ইমরান শরীফ-৯১)
এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রতিয়মান হয়, কোন ব্যক্তি যদি কুফরী করা অবস্থায় দুনিয়া ত্যাগ করে অর্থাৎ ইন্তেকাল করে, আর সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার আযাব থেকে বাঁচার জন্য মুক্তিপন স্বরূপ যমীন থেকে আসমান পরিমান স্বর্ণ দিতে চায় তার কাছ থেকে তা গ্রহন করা হবেনা। যদিও কস্মিনকালে কারো পক্ষে তা দেয়া সম্ভব না।
তাহলে এমন সুমহান মহাসম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক যিনি আমাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈমান মুবারক হিফাযত করছেন এবং উনার উপর ইস্তেকামত থাকা সহজ করে দিচ্ছেন আমাদের মাথার তাজ, প্রাণপ্রিয়া শায়েখ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে পেয়ে আমাদের কতটুক শুকরিয়া আদায় করা উচিত তা বর্ণনাতীত!
অতএব, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহারাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি কায়িনাতবাসীকে প্রতিনিয়ত যে অফুরন্ত নিয়ামত মুবারক দান করছেন তা যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করে খালিছ আল্লাহওয়ালা এবং আল্লাহওয়ালী হওয়ার কোশেশে নিয়োজিত থাকার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে