বাংলাদেশের রাজা যখন রাজাকার পুত্র


শুনতে অবাক শোনা গেলেও বাংলাদেশের জন্য এটা চরম সত্য। বর্তমান সরকার যখন ৭১ এর যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে অনেককে ফাঁসি দিয়েছে, এমনকি যুদ্ধাপরাধীর নাম করে তাদের সন্তানদের গ্রেফতার করছে, তাদের চাকুরী-বিসিএস আটকে দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ সরকারই আরেক রাজাকার পুত্রকে রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জনগণকে ঐ রাজার প্রজা হতে বাধ্য করছে।
জি, আমি রাঙ্গামাটি জেলার রাজা দেবাশীষ রায়ের কথা বলছি। দেবাশীষ রায় হচ্ছে ৭১ এর রাজাকার ত্রিদিব রায়ের সন্তান।
ইতিহাস বলছে-
৭১ এ রাজাকারের ভূমিকায় ছিলো ত্রিদিব রায়।
৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ত্রিদিব রায়কে আওয়ামীলীগের হয়ে নির্বাচন করতে অনুরোধ করে, কিন্তু ত্রিদিব তা অস্বীকার করে স্বতন্ত্র পার্থী হয়ে নির্বাচন করে এবং জয়লাভ করে। ৭১ এ যুদ্ধের সময় সে পাকিস্তানের পক্ষ নেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। যুদ্ধকালীন সময়ে ত্রিদিব রায় পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগানের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যখন বুঝতে পারলো যে পাকিস্তানীদের পরাজয় অনিবার্য, তখন নভেম্বর মাসে মায়ানমান পাকিস্তানে পালিয়ে যায় ত্রিদিব। এরপরও পাকিস্তান থেকেও থেকে নিবিরভাবে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলো সে। ২০১২ সালে পাকিস্তানেই তার মৃত্যু হয়। বেঁচে থাকতে কোনদিনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে ত্রিদিব রায়। (https://bn.wikipedia.org/wiki/ত্রিদিব_রায়)
সেই ত্রিদিব রায়ের সন্তান হচ্ছে, বর্তমান রাঙ্গামাটির রাজা দেবাশীষ রায়। এবং ঐ জেলায় সকল বাংলাদেশী জনগণ রাজাকার পুত্রের প্রজা। বাংলাদেশ সরকার দেবাশীষ রায়ের রাজত্ব স্বীকার করেছে এবং দেশের যেকোন কাজে এই রাজাকার পুত্রকে ট্যাক্স দিয়েই করতে হয়। এমনকি এই রাজকার পুত্রের অনুমোদন ছাড়া ৩ জেলায় কোন জমি ক্রয়-বিক্রয় হয় না। এই রাজাকার পুত্রকে খাজনা দিতে হয় ঐ ৩ জেলার জনগণকে। এমনকি রাঙ্গামাটি জেলায় রাজাকার পুত্র অনুমোদন না দিলে বাংলাদেশ সরকারও তা বৈধভাবে গ্রহণ করে না। রাজাকার পুত্রের সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ চাকুরী পর্যন্ত পায় না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বহু গান শুনেছি, দেখেছি বহু ব্যবসা। অমুকে রাজাকার, তমুকে পাকিস্তানী বলে হেনস্তাও কম হয়নি। কিন্তু যারা এগুলো করেছে তারা কেন রাঙ্গামাটি রাজাকার পুত্রের রাজত্ব স্বীকার করার বিষয়টি বিরোধীতা করেনি ? কেন বলেনি- বাংলাদেশের মানুষ কেন রাকাজার পুত্রের প্রজাত্ব মেনে নেবে ? কেন একটি দেশে দ্বৈত নীতি চলবে ? এক জায়গায় রাজাকার পুত্র বলে গ্রেফতার করা হবে, অন্যত্র রাজাকার পুত্রকে রাজা বানিয়ে সকলতে তার প্রজা মানতে বাধ্য করবে সরকার, এটা কেমন নীতি?? দ্রুত এই নীতির অবসান হোক।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে