বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যাচার’ বিপরীতে ভারতে মুসলিম নির্যাতন


ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোতে যেভাবে মুসলমানদের উপর পাশবিকতা প্রদর্শন করা হয়, তা সারা বিশ্বেই নজিরবিহীন। হত্যা গণসম্ভ্রমহানি থেকে শুরু করে সন্তানসম্ভ্রাবা মুসলিম মহিলাদের পেট চিরে বাচ্চা বের করে ত্রিশূলের আগায় গেঁথে নিয়ে ভারতের বিধর্মীরা পাশবিক নৃত্য করে থাকে। ভারতে মুসলমানদের কোনো চাকরি দেয়া হয় না, ব্যবসার জন্য ব্যাংক লোন দেয়া হয় না। তারপরও যদি কোনো মুসলমানের ব্যবসা লাভের মুখ দেখে, সেক্ষেত্রে তা স্থানীয় আরএসএস কর্মীদের লিস্টে উঠে যায়। যেন দাঙ্গার সময়ে লিস্ট ধরে ধরে মুসলমানদের লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুড়িয়ে দিলে তারা পরিবারসহ পথে বসে যায়।
বিপরীতে বাংলাদেশে বিধর্মী হলেই চাকরি পাওয়া যায়, আওয়ামী মদদে সংখ্যালঘু হওয়ার পরও পাওয়া যায়। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান জনগোষ্ঠীর উপর ছড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা। ভারতের ন্যায় এদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় না। ভারতে বিধর্মীদের দ্বারা হত্যা নির্যাতনের বিপরীতে এদেশে ব্যাপকহারে বিধর্মীতোষণ স্বাভাবিকভাবেই এদেশের যেকোনো মুসলমানের মনকে অশান্ত করে তোলে। নিজেকে সে বঞ্চিত ও রিক্ত মনে করে, মনে করে নিজভূমে পরবাসী। স্বাভাবিকভাবেই এর থেকে তার মনে ক্ষোভ জন্ম নেয়।
তাদের সেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়া হয়, যখন বিধর্মীরা এদেশে তাদের স্বর্গসুখের পরও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কল্পকাহিনী বানিয়ে গলাবাজি করে, এদেশের মুসলমানদের নিয়ে কটূক্তি করে। ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী দিয়ে মুসলমানদের দ্বীনী অনুভূমিতে আঘাত করে।
অতীতে এসব বিধর্মীদের পূর্ব-পুরুষরা যেসব মুসলমান শাসকদের নুন খেয়েছিল, ফলশ্রুতিতে আজ সেই মুসলমান শাসকদের ইতিহাসকে বিকৃত করে তাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করছে অকৃতজ্ঞ বিধর্মীরা। ঠিক সেভাবেই আজ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি তার বিধর্মী নাগরিকদের প্রথম শ্রেণীর সুবিধা দিচ্ছে, যার কারণে এদেশের বিধর্মীরা সভা-সেমিনার করে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা প্রচার চালিয়ে এদেশের ভাবমর্যাদা সারাবিশ্বে বিনষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছে। যদি বারতের মুসলমানদের মতো এদেশের বিধর্মীদেরকেও প্রতিকূল পরিবেশে রাখা হতো, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসস্থানগুলো গুড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে উদ্বাস্তু করা হতো গুজরাট কিংবা মুজাফফররনগরের ন্যায়, তাহলে সভা-সেমিনারে গিয়ে এসি রুমে বসে গলাবাজি করার মুরোদ এসব সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত বিধর্মীদের থাকতো না। দুধকলা দিয়ে পোষা কালসাপের ফোঁসফোঁস দুধকলার অভাবেই চিরদিনের মতো বন্ধ হয়ে যেতো তখন।
এখন বিষয়টি হয় এভাবে চলতেই থাকবে, বাঙালি মুসলমান চিরদিন অথর্ব গোশতপি- হয়ে থাকবে। নতুবা একদিন তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এমন আকার ধারণ করবে যে, তা এক সর্বগ্রাসী ঝড়ের মতো এদেশের বুক থেকে গোটা বিধর্মী সম্প্রদায়কে চিরদিনের মতো নিশ্চিহ্ন করে ছাড়বে। অবশ্য সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য চাই সুযোগ্য ব্যক্তিত্ব, আর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত কারেরা নিকট থেকেই তা পাওয়া সম্ভব হবে না।
শিরোনামের মরামুখের দাবিটি প্রতীকী, বিধর্মীরা কখনোই তাদের দাঙ্গাবাজ ভারতরাষ্ট্রের থারেকাছেও এদেশে কিছু দেখাতে পারবে না। সুতরাং নিজেদের ভালো চাইলে তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের বকোয়াজি বন্ধ করুক। পুঞ্জীভূত গণরোষের তীব্রতা কতো ভয়ানক হতে পারে, তা তারা অনুধাবন করার চেষ্টা করুক।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]