বাংলা শব্দগুলো যখন হিন্দুত্ববাদের খপ্পরে


পৃথিবীর মধ্যে আমরাই ভাষার জন্য লড়াই করে ইতিহাস গড়েছি। রক্তের দাম দিয়ে কিনে নিয়েছি আমরা বাংলা ভাষা। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, শুধু এই কথা বলে আত্মতৃপ্তি লাভ একটা স্বাধীন জাতি হিসাবে আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে রাজনৈতিক কারণে ভাষা-সংস্কৃতি আগ্রাসনের ফলে এমন অনেক শব্দ আমরা আমাদের লেখায় ও দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি, যেগুলো সামগ্রিকভাবে আমাদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসবিরোধী। যেমন, ‘প্রয়াত’ শব্দটি। আজকাল শব্দটি যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে। মৃত ব্যক্তিকে ‘প্রয়াত’ বলার প্রচলন আছে, কিন্তু কাদের মধ্যে? ‘প্রয়াত’ মানে প্রস্থান করা বা চলিয়া যাওয়া। সব কিছু শেষ হয়ে যায়, মরণের পরে মানুষ চিরতরে চলে যায়- একথা মুসলমানগণ বিশ্বাস করে না। মুসলমানগণ পরকালে বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করে মৃত্যুর পরই অনন্ত জীবনের শুরু। সুতরাং মুসলমান প্রয়াত হয় না, সে ইন্তেকাল করে অর্থাৎ রূপান্তরিত হয়। স্নাতক- এ শব্দটিরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে; যা নিতান্তই স্নান ও পৈতে পরিয়ে শিক্ষা সমাপনের স্বীকৃতি দানের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

দুর্ভাগ্যক্রমে এটিরও প্রচলন এদেশে শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা একটি স্তরে স্নাতক নামে একটি কোর্স রয়েছে। এই হীনম্মন্যভোগী সাহিত্যিকরা লাশকে মরদেহ, দাফনকে শেষ কৃত্য, দাওয়াতকে নেমন্তন্ন, নাস্তাকে জলপানি, মুনাজাতকে প্রার্থনা, শহীদ মিনারকে শহীদবেদি লেখে এবং বলার চেষ্টা করে। আরো কিছু অপ্রচলিত শব্দকে প্রচলিত করা হচ্ছে যেমন-জান্নাত, কবর, পানি, দোয়া শব্দগুলোর স্থলে স্বর্গ, সমাধী, জল, আর্শীবাদ। আগামীতে হয়তো বা এরা রূহের মাগফিরাতকে আত্মার সদগতি, নামাযকে উপসনা, রোযাকে উপবাস, হজ্বকে তীর্থযাত্রা বলবে। এরা সালামের পরিবর্তে সুপ্রভাত, গুড মনিং বলতে আত্মতৃপ্তিবোধ করবে। নাউযুবিল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]