বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করলে যে করুণ পরিনতি বরণ করতে হবে


এক ব্যক্তি ছিল যে নিজেকে আলিম দাবী করতো। এক মজলিসে তার সামনে সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল মু’মিনিন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার শানের খেলাফ কথা বলা হলো। সে কোন প্রতিবাদ করলো না। সেই রাত্রেই সে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ব্যক্তি তোমার সামনে উম্মুল মু’মিনিন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার শানের খেলাফ কথা বলা হলো, তুমি কোন প্রতিবাদ করলে না কেন? সে বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ আমার প্রতিবাদ করার শক্তি ছিল না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তুমি মিথ্যা বলছো। তোমার প্রতিবাদ করার শক্তি ছিল, তুমি করনি। আজ থেকে তুমি অন্ধ হয়ে যাবে। সে ভয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠে দেখলো, সে অন্ধ হয়ে গেছে। চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, লোকটি কিন্তু সরাসরি হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার শানের খেলাফ কথা বলেনি, তার সামনে বলা হয়েছে সে প্রতিবাদ করেনি, তাতেই যদি অন্ধ হয়ে যেতে হয় (এটা তার দুনিয়াবী শাস্তি, আখিরাতের শাস্তি তো পড়েই রইলো)।
তাহলে এখন যারা প্রতিনিয়ত সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার বিরোধিতা করছে, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন পাশ করছে, বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন ঘোষনা করছে, মিডিয়াতে বাল্যবিবাহ বিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করে বাল্যবিবাহ বিরোধী বক্তব্য রাখছে; তাদের কি ভয়ানক পরিণতি হবে দুনিয়া এবং আখিরাতে- চিন্তা করলেই মাথা হ্যাং হয়ে আসে। আর যারা চোখের সামনে সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার বিরোধিতা হতে দেখেও প্রতিবাদ করছে না, তাদেরই বা কি কঠিন পরিণতি হবে- মুসলমানরা ফিকির করেছে কি কখনো? এখন দুনিয়াতে বাল্যবিবাহ বিরোধী সবারই ঐ বদবখত লোকটির মত চোখ অন্ধ হয়ে নাও যেতে পারে। তবে মূল বিষয়টা হলো- সে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অসন্তুষ্টিতে পড়লো। এই কারণে সে দুনিয়াতে যেমন নানাভাবে লাঞ্চিত হবে, তেমনি মারা গেলে বিনা হিসাবে জাহান্নামে যাবে। বাল্যবিবাহ বিরোধীদের লাঞ্চিত-অপদস্ত হওয়া বাস্তবে প্রতিনিয়তই আমরা দেখতে পাই।
পরিতাপের বিষয়, একজন মুসলমান নামধারী যখন সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার বিরোধিতা করে তখন কি একবারও চিন্তা করে না, আসলে সে কার বিরোধিতা করলো। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত দাবী করে, অথচ বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করতে যেয়ে সে তার যিনি সম্মানিত নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করলো। একজন আদনা উম্মত সম্মানিত নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভূল ধরতেছে-কি ভয়ানক ব্যাপার! নাউযুবিল্লাহ! আরো ফিকিরের বিষয়, বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করলে শুধু যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই বিরোধিতা করা হয় তা কিন্তু নয়, সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাক উনারও বিরোধিতা করা হয়। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক ব্যতীত কোন কথা বলেন না, কোন কাজ করেন না”। তাহলে সম্মানিত বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার বিষয়টি তো সম্মানিত ওহী মুবারক উনারই নির্দেশ। কাজেই সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার বিরোধিতা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত এবং যারা সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনাকে নিয়ে চু-চেরা/বিরোধিতা করবে তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট কাফির হবে। কাজেই ইমান নিয়ে মরতে চাইলে সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার বিরোধিতা করা ছেড়ে দিয়ে সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনাকে খালিছভাবে মুহব্বত করতে হবে।
লেখাবাহুল্য, বাল্যবিবাহ করতেই হবে বা দিতেই হবে-এটা শর্ত নয়; শর্ত হচ্ছে সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনাকে মুহব্বত করতে হবে। কারণ সম্মানিত বাল্যবিবাহ সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত। অতএব, সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনাকে মুহব্বত করার সহজ তরীকা হচ্ছে- যেহেতু কাফির মুশরিক মুনাফিকগুলি সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার বিরোধিতা করে, তাহলে নিশ্চয় বাল্যবিবাহের মধ্যে মুসলমানদের জন্য খায়ের-বরকত রয়েছে। কারণ কাফির-মুশরিক মুনাফিকগুলি মুসলমানদের ক্ষতি ছাড়া ভালো হোক সেটা কখনোই চায় না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে