বাল্যবিবাহ নিয়ে ইসলামবিরোধী আইন: ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের ইজ্জত-সম্ভ্রম রক্ষার দায়িত্ব নেবে কে?


‘শিশু বিল-২০১৩’ আইনে ১৮ বছরের নিচে যে কাউকেই শিশু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। কাজেই আঠারো বছরের নিচে কারো বিয়ে হলে সেটাকে বাল্যবিবাহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক এনজিও সেভ দ্যা চিলড্রেন-এর ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ৬৯ শতাংশ নারীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়। বিষয়টা নিয়ে যদিও বিদেশী কোনো এনজিও’র মাথা ঘামানোর কথা নয়, তথাপি বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এনজিও’র মাধ্যমে তারাই বাংলাদেশে ঘরে ঘরে গিয়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অপপ্রচারণা চালাচ্ছে, নজরদারি করছে। যা অধিকাংশ অভিভাবকদের চিন্তা চেতনার বিপক্ষে। কেননা একটি কন্যা শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে অভিভাবকের চিন্তা-পেরেশানি বাড়তে থাকে। বালেগা হওয়ার পরপরই বিয়ে না দেয়ার ফলে মেয়েটি দৈহিক নির্যাতনের শিকার হয়। স্কুলে, কোচিংয়ে, প্রতিবেশী বখাটে ছেলেদের টার্গেটে পরিণত হয় তখন এ মেয়েটির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে কে? বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। বাল্যকালেই যখন কোনো মেয়ের ইজ্জত-সম্ভ্রমে কলঙ্ক পড়ে যায় তখন ওই মেয়ের পঁচিশ-তিরিশ বয়সেও বিয়ে হয় না। সমাজে সে কলঙ্কিত হয়ে যায়। তাদের দায়-দায়িত্ব কি সরকার নিবে?
এছাড়াও স্কুলে ছাত্রীর শ্লীলতাহানী, কোচিংয়ে ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিশুকে শ্লীলতাহানী, উঠতি বয়সের কিশোরীর সম্ভ্রমহরণ ইত্যাদি খবর প্রায়শই পত্রিকায় আসে। বাল্যবিবাহ নিরোধের নামে বিবাহ নিরোধে ইসলামবিরোধী আইন প্রণয়নকারী সরকার তাদের ইজ্জত সম্ভ্রম রক্ষার দায়িত্ব নেবে কি?

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]