বিশ্বভ্রাতৃত্ব’, ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’, ‘জাতিগত বন্ধুত্ব’ ইত্যাদির অযুহাতে নিধন করা হচ্ছে মুসলমানদের মুসলমানরা আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত হলে শান্তি নষ্ট হয়, আর বিধর্মীরা অস্ত্রসজ্জিত হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয়!


কী ছিল সেই ইহুদী প্রটোকলে:
‘বিশ্বভ্রাতৃত্ব’, ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’, ‘জাতিগত বন্ধুত্ব’ ইত্যাদির অযুহাতে নিধন করা হচ্ছে মুসলমানদের মুসলমানরা আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত হলে শান্তি নষ্ট হয়, আর বিধর্মীরা অস্ত্রসজ্জিত হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয়!
মুসলমানদের দমিয়ে রাখতে ইহুদীদের বহুল ব্যবহৃত তিনটি শব্দ- ‘বিশ্বভ্রাতৃত্ব’, ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’ এবং ‘জাতিগত বন্ধুত্ব’। ভয়ঙ্কর এই শব্দ তিনটি ব্যবহারের সঠিক উদ্দেশ্য জানা না থাকায় মুসলমানদের আজ করুণ পরিস্থিতি! শুধু উল্লেখিত শব্দ তিনটিই নয়; বরং ইহুদীদের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে আরো বহু শব্দ। যেমন- স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, উদারনীতি, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমঅধিকার, নারী স্বাধীনতা, সন্ত্রাসবাদ, সুবিচার, সাম্প্রদায়িকতা, মানবতাধিকার ইত্যাদি।
‘বিশ্বভ্রাতৃত্ব দ্বারা মূলত বুঝানো হয়ে থাকে ‘ইহুদী-ভ্রাতৃত্য’ কিংবা তাদের সহযোগী-সমর্থক। ইহুদী বিরোধী কোন জাতি-গোষ্ঠী কিংবা কোন সম্প্রদায় ‘বিশ্বভ্রাতৃত্ব’ এর আওতায় পড়ে না; বরং এদেরকে বলা হয়ে থাকে ‘মানবীয় ভ্রাতৃত্যের বহির্ভূত’ তথা ওরা মানবতার জন্য হুমকি। যদি ভিন্নভাবে বলি, তবে ‘আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষ’!
তাই যখন আমরা মিডিয়ায় শুনে থাকি- “অমুক ভূখ-ের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বভ্রাতৃত্ব উদ্বিগ্ন!” তখন একথা দ্বারা মূলত বোঝানো হয়- এসব অঞ্চলে ইহুদী-স্বার্থ হুমকির সম্মুখীন তথা ইহুদী দখলদারিত্বের জন্য এসব অঞ্চল ইহুদীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। সুতরাং বিশ্বভ্রাতৃত্ব তথা ‘ইহুদী ভ্রাতৃত্ব’ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এবার আসা যাক ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’র কথায়। ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’ বলতে কী বুঝায়? ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’ বলতে বোঝানো হয়ে থাকে এমন একটি জগত, যেখানে ইহুদীদের পরিকল্পনার বিস্তৃত ফলস্বরূপ ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা ও দখলদারিত্বের ক্ষেত্রে কোন শক্তি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। এই বিশ্ব নিরাপত্তা অর্জনের উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানকে রক্তের সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে। এই ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’র সন্ধানই ইরাকের নিষ্পাপ শিশুদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যকে গোলাম বানাতে সর্বশেষ প্রচেষ্টাটুকুও চালানো হচ্ছে। এই সেই শান্তি মিশন যার গতি এখন ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে মোড় নিয়েছে এবং এখানকার মুসলিম ভূখ-গুলোকে বাধ্য করছে- যেন তারা নিজেদেরকে মূর্তিপূজারী-মুশরিকদের সম্মুখে নত করে দেয়!
পাঠক! একটি প্রশ্ন মনে জাগতে পারে- শুধু মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকেই কেন নিরস্ত্র করা হচ্ছে? অন্যদিকে বিধর্মী ভূখ-গুলোকে সকল দিক দিয়ে আরো আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত করা হচ্ছে কেন? উত্তর হলো, বিধর্মীদের ভূখ-গুলো আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত হওয়া ‘বিশ্বনিরাপত্তা’র জন্য অত্যন্ত জরুরী আর মুসলিম ভূখ-গুলোর অস্ত্রসমৃদ্ধ কিংবা আধুনিক অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হওয়াটা ‘বিশ্বনিরাপত্তা’র জন্য হুমকি!
‘জাতিগত বন্ধুত্ব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিম ভূখ-গুলোর ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী অমুসলিম রাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা এনে ভৌগোলিক নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বহীন করে তোলা (অর্থাৎ, এখন আর তোমার আধুনিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। সুতরাং এখন থেকে তুমি তোমার অর্থনীতিতে উন্নতি সাধনের পদক্ষেপ গ্রহণ কর এবং রাষ্ট্রকে অস্ত্রমুক্ত করে সেনাবাহিনীকে ‘পুতুল’ বানিয়ে রাখ। এসব প্রতারণাপূর্ণ পরিভাষাগুলো তারা জাতিসংঘ তথা ইহুদীসংঘের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ‘বিশ্বভ্রাতৃত্ব’ ও ‘শান্তিপূর্ণ’ অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার উদ্দেশ্যেই তারা জাতিসংঘ গঠন করেছে। (তাই একে ‘ইহুদীসংঘ’ও বলা হয়)। এই ইহুদীসংঘের মাধ্যমে ইহুদীরা মুসলিম বিশ্ব নিরস্ত্র করছে।
উল্লেখ্য, ইহুদীসংঘের কার্যক্রমগুলো বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও এর মাধ্যমে ইহুদীরা তাদের স্বার্থ পূরণ করছে। সারা বিশ্বেই গণহারে মুসলিম নিধন মানবাধিকারের মধ্যে না পড়লেও বিশ্বের কোন এক কোণায় কোন বিধর্মীর কিছু হলে বলা হয় ‘মানবাধিকার লঙ্ঘণ’ হয়েছে। আবার, পারমাণবিক বোমার ক্ষেত্রে- রাশিয়ার কাছে আছে ৭ হাজারেরও বেশি, আমেরিকার হাতে আছে ৬ হাজারের বেশি। এমনকি ‘নাটের গুরু’ ইসরাইল মাত্র ২২ হাজার বর্গকিলোমিটারের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হলেও তার হাতে আছে ২০০ এর বেশি পারমানবিক বোমা।
এসব নিয়ে জাতিসংঘের কোন মাথাব্যথা নেই। মুসলমানরা অস্ত্র তৈরি করলে ‘বিশ্ব শান্তি’ নষ্ট হয়, ‘সন্ত্রাসবাদের উত্থান হয়, আর বিধর্মী রাষ্ট্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হলে; পরমাণু অস্ত্র তৈরি করলে ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ রক্ষা হয়।
মুসলমানদের প্রতি বিধর্মীদের আচরণ এমন কেন- তা জানতে ইহুদীদের মনোভাবের দিকে লক্ষ্য করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ইহুদীদের ৩০০ বছরের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে লিখিত চৎড়ঃড়পড়ষং ড়ভ ঃযব খবধৎহবফ ঊষফবৎং ড়ভ তরড়হ বইটির ১৮তম প্রটোকলের মধ্যে উল্লেখ আছে- “মুসলমান এবং আমাদের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে- আমরা হলাম সৃষ্টিকর্তার মনোনীত সম্প্রদায় এবং মানবশ্রেণীর মধ্যে সর্বোচ্চ। আর মুসলমানরা হচ্ছে দুই পায়ে চলমান মানব ‘পশু’! তাদের না আছে দূরদৃষ্টি, আর না আছে নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষমতা! অন্তর্যামী নিজ হাতে এই বিশ্বের শাসনভার আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।”
পাঠক! এই হল মুসলমানদের প্রতি ‘অসাম্প্রদায়িক’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’, ‘বিশ্বভ্রাতৃত্ব’, ‘সাম্য’, ‘স্বাধীনতা’, ‘মানবাধিকার’ নামক ইত্যাদি শব্দের জন্মদাতা ইহুদীদের মনোভাব। আর বিধর্মীদের এমন মনোভাবের বিষয়ে আজ হতে ১৪০০ বছর আগেই পবিত্র কুরআন শরীফে মুসলমানদের সাবধান করে দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- ইহুদীরা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু। এতকিছুর পরেও ‘তথাকথিত’ সুশীল সমাজের ভদ্রলোকেরা সারাদিন ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ইত্যাদি বলে গলা ফাটিয়ে দিবে! এ সমস্ত ভাড়াটে সুশীল সমাজের সম্পর্কে খোদ ইহুদীরাই কী বলে দেখুন-
[“স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ইত্যাদি মতবাদকে আমরা অতি প্রাচীনকাল থেকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছি। কিন্তু পৃথিবীর বোকা-গর্দভ বুদ্ধিজীবীরা এই মতবাদগুলো নিজেদের অধিকার আদায়ের মাধ্যম বলে মনে করে এর জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে দিচ্ছে। তারা নিজেরাই আমাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করেছে! সম্ভবত অতি বুদ্ধিমান ও সুকৌশলী ব্যক্তিরাও এসব মতবাদের মর্মার্থ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি। তারা কখনো বুঝতে পারেনি- একতা, সাম্য বা স্বাধীনতা ইত্যাদি বলতে কিছু নেই।”
-১ম প্রটোকল]
উল্লেখিত প্রটোকলটি পড়ার পর খুব সহজেই অনুধাবন করা সম্ভব- কীভাবে ইহুদীরা মুসলমানদের মন-মগজে বিভিন্ন বাতিল মতবাদ প্রবেশ করিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। তবুও কি ‘তথাকথিত’ সুশীল সমাজের ভদ্রলোকেরা অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসবে? তারা কী বুঝতে সক্ষম হবে??
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে বিধর্মীদের সকল ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করার ও তা থেকে পরিপূর্ণ হিফাযত থাকার তৌফিক্ব দান করুন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে