বেমেছাল সুন্নতী রঙে রঞ্জিত সুমহান পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফ


আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি শেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই।” সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে আর কোনো নবী বা রসূল আসবেন না ঠিকই; তবে অবশ্যই নায়িবে নবী বা নবীর প্রতিনিধি আসবেন। উনাদের প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে এই উম্মতের মধ্য থেকে তাদের জন্য একজন মহান মুজাদ্দিদ উনাকে প্রেরণ করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবিষ্ট বিদয়াত বেশরা সংস্কার করবেন। তা দূর করবেন।” পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে যামানার ইমামকে চিনলো না বা জানলো না সে যেন জাহিলিয়াতের মধ্যে মৃত্যু বরণ করল।” কাজেই এ যুগের জ্বিন-ইনসানের জন্য সুখবর। উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ রহমত, মহান আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেশুমার ইহসান যে, উনাদের অতিশয় দয়া এবং ইহসানে আপনার আমার সকলের জন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ঘোষিত সেই মহাসম্মানিত ইমাম ও মুজাদ্দিদ, তিনি অবস্থান মুবারক করছেন এই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে রাজারবাগ শরীফ-এ। এটা আপনার আমার জন্য খোশ নসীব এবং সৌভাগ্যের ব্যাপার। কারণ তিনি তো অন্য দেশেও আসতে পারতেন। তাহলে আপনার আমার কী অবস্থা হতো? সুতরাং মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের প্রতি যে অগণিত ইহসান করেছেন তার শুকরিয়া প্রকাশ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।আর দেরি না করে, চিন্তা-ফিকির না করে অতিসত্বর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ নায়িব প্রতিনিধি এবং নবীজী উনার খাছ আওলাদ তথা বংশধর, যামানার ইমাম ও হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট এসে বাইয়াত গ্রহণ করে যিকির-আযকার ও ছোহবত ইখতিয়ার করে ফায়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে পরিপূর্ণ ঈমানদার এবং মু’মিনে কামিল তথা খালিছ ওলীআল্লাহ হয়ে পরকালের সৌভাগ্য হাছিল করুন। উল্লেখ্য, উনার মুবারক মাথার তালু থেকে মুবারক পায়ের তলা পর্যন্ত, উনার জীবন মুবারকের প্রত্যেকটা মুহূর্ত, প্রত্যেকটা কর্ম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতে পরিপূর্ণ। উনার মাথা মুবারকে রয়েছে পবিত্র সুন্নতী সাদা রুমাল, সাদা, কালো অথবা সবুজ পাগড়ি মুবারক, সাদা রঙের চার টুকরা বিশিষ্ট সুতি কাপড়ের পবিত্র সুন্নতী টুপি মুবারক, গায়ে সাদা সুতি কাপড়ের পবিত্র সুন্নতী কোর্তা, সুন্নতী জুব্বা, পরনে সিলাই বিহীন সাদা লুঙ্গি, পা মুবারকে চামড়ার তৈরি ক্রস বেল্টের খয়েরী রঙয়ের স্যান্ডেল। শরীর মুবারকে সুন্নতী শাল বা চাদর। শোয়ার ক্ষেত্রে চামড়ার তৈরি বালিশ, যার ভিতরে খেজুর গাছের ছাল-বাকল ও ছোবড়া, পাতা। এক বিঘত উচু কাঠের তৈরি পবিত্র সুন্নতী চারপায়া চকি। যার উপরে পবিত্র সুন্নতী খেজুর পাতার চাটাই, অথবা কম্বল। চামড়ার তৈরি খয়েরী রঙয়ের দস্তরখানা, কাঠের প্লেটে খাদ্য খান, কাঠের পেয়ালায় পানি পান করেন, দুধ, চা ইত্যাদি পান করেন। সদা হাসোজ্জ্বল, সদালাপী, মিষ্টভাষী, নূরানী চেহারা মুবারক। যে কোনো মানুষের প্রশ্নের জবাব দেন। উনার নিকট কেউ প্রশ্ন করলে তিনি কখনো বিরক্ত হন না। উনার নিকট কেউ এলে পরম মমতায় তাকে আপন করে নেন। একবার উনার মুবারক সান্নিধ্যে গেলে সে অবশ্যই উনার মুবারক ফায়েজ তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে পর্যায়ক্রমে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হয়ে যায়। মাদরাসায় না পড়েও কোনো লোক উনার মুবারক ছোহবতে গেলে উনার বেমেছাল ইলহামী আলোচনা শুনে, উনার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ পড়ে বড় আলিম হয়ে যায়। আপনি মাদরাসায় পড়েননি, আপনার তেমন ইসলামী শিক্ষা নেই- কোনো সমস্যা নেই, উনার পবিত্র সান্নিধ্যের নূরে, উনার প্রদত্ত মুবারক ওযীফা পালনে অতি অল্প সময়ে আপনি সহীহ দ্বীনি ইলমে পারদর্শী হয়ে উঠবেন, পবিত্র সুন্নত আমলে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। সুতরাং আপনার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইহসানের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদে আ’যম উনার মুবারক সান্নিধ্যে এসে নিজেকে ধন্য করুন। উল্লেখ্য, প্রতি জুমুয়াবার সুন্নতী মসজিদে তিনি মহা মূল্যবান বয়ান পেশ করেন। প্রতিদিন খানকা শরীফ-এ […]

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]