‘ভারতে ৯৫ শতাংশ গরুর গোশত ব্যবসায়ী হিন্দু’


ভারতের ৯৫ শতাংশ গরুর গোশত ব্যবসায়ী হিন্দু বলে জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারক রাজেন্দ্র সাচার। সে বলেছে, গরুর গোশত ব্যবসায় মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুদের সংখ্যাই বেশি। বিচারক রাজেন্দ্র সাচার মথুরাতে একটি কলেজে আয়োজিত কনফারেন্সে বক্তব্য রাখার সময় এ তথ্য প্রদান করে।

গতকাল ইয়াওমুস সাবত (শনিবার) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তর প্রদেশের দারিতে গরুর গোশত খাওয়ার মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে মুহম্মদ আখলাক নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে নিমর্মভাবে হত্যা করা প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সে বলেছে, ‘৯৫ শতাংশ গরুর গোশত ব্যবসায়ী হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও এক ব্যক্তিকে গোশত খাওয়াকে কেন্দ্র করে বর্বরোচিত কায়দায় হত্যা করা হল। এটা মানবতার মৃত্যু। খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। আমিও গরুর গোশত খেতে পারি।’
সংবাদে প্রকাশ, ওই কনফারেন্সে কিছু মুসলিম বিদ্বানের পাশাপাশি কানাডা, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশ থেকে প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচারের এ ধরণের মন্তব্যের পর কয়েকজন অতিথি এবং বুদ্ধিজীবী আলোচনাস্থল ছেড়ে চলে যান। বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচারের মন্তব্য মুসলিমদের পক্ষে এবং হিন্দুবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন এক শিক্ষক। তার মতে আমাদের সকলের বলার স্বাধীনতা রয়েছে, কিন্তু এ ধরণের অনুষ্ঠানে চিন্তাভাবনা করে কথা বলা উচিত।
ভারতে গরুর গোশত নিষিদ্ধ করা নিয়ে হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন দল এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে যখন জোরালো তৎপরতা চালানো হচ্ছে তখন সাবেক বিচারপতির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত অক্টোবরে হরিয়ানার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার মন্তব্য করেন, ভারতে থাকতে হলে মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়া ছাড়তে হবে।
গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেস শাসিত উত্তরাখ- রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত হরিদ্বারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘যেকোনো সম্প্রদায়ের যেই হোক না কেন যদি, আমাদের গরু-মাতাদের হত্যা করে তাহলে সে ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু, ভারতে তার থাকার কোনো অধিকার নেই।’
এনিয়ে প্রবল সমালোচনার মধ্যে অবশ্য ওইসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পরে এ ধরণের মন্তব্য করেননি বলে সাফাই দেন। যদিও তাদের মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচানার ঝড় ওঠে।- আইআরআইবি

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

One Comment

Leave a Reply

[fbls]