ভারত নামক হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রটির মুনাফিকী চরিত্র বারবারই প্রমাণিত হচ্ছে


১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ইহুদীবাদি ইসরাইল। ওই বছরই আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখ-সহ বেশ কিছু আরবভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ফিলিস্তিনের প্রায় পুরোটাই ও মিসরের কিছু ভূমিও দখল করে ইসরাইল। প্রায় ৭০ বছরে ইসরাইলিরা লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি মুসলমানকে শহীদ করেছে।
ইতিহাস বলে, সেই ১৯৫১ সালেই এই দখলদার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় হিন্দুত্ববাদী ভারত। ইসরাইলের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির ভারতের বন্ধনের বিষয়টি আসলে ‘স্বাভাবিক’। কারণ মোদির দল বিজেপি যেমন মুসলিমবিরোধী, ইসরাইলও তা-ই। যে কারণে ৭ মাস আগেও ইসরাইল ভ্রমণ করে মোদি। আবার কিছুদিন আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীও ভারতে এসে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক চুক্তি করে। তারা পরস্পরের বন্ধুত্বের বিষয়টিও প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়।
ইসরাইলের সঙ্গে এত মিত্রতার পরও সম্প্রতি মোদি ফিলিস্তিনসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ ভ্রমণ করে আন্তরিকতা দেখানোর ভাব করে। ভারতের এই দ্বিমুখী বিষয়টির কারণও স্পষ্ট। ফিলিস্তিনিদের প্রতি মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সমর্থন রয়েছে। আর এ সকল মুসলিম দেশগুলোতেই বিপুলসংখ্যক ভারতীয় কাজ করছে। মুসলিম দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় পায় ভারত। জ্বালানি তেলের জন্যও ভারতের ভরসা মুসলিম দেশগুলো। এসব বিষয় মাথায় রেখেই ফিলিস্তিন সফরের পাশাপাশি জর্ডান, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করে মোদি।
মোদির আগেও ভারতের অন্যান্য সরকারও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে এই দ্বিমুখী সম্পর্ক(!) বজায় রেখে ছিলো। মূলত এটা ছাড়াতো উপায়ও নেই ভারতের। কারন যতই বিদ্বেষ থাকুক অন্তরে, অন্তত খেয়ে পরেতো বাঁচতে হবে, আর তার জন্য মুসলিম দেশগুলো ছাড়া ভিন্ন কোন উপায় তাদের নেই।
ভারত নামক হিন্দুত্বাবাদী রাষ্ট্রটির এ ধরণের মুনাফিকী চরিত্র ঐতিহাসিকভাবেই বারবার প্রমাণ হয়েছে।
তবে প্রশ্ন হলো- আমাদের ‘বাংলাদেশ’ কি এই মুনাফিক রাষ্ট্র ভারতের বিষয়ে সতর্ক হবে না?

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]