ভালো নিয়ত থাকলেই হারাম বিষয় হালাল হয়ে যায় না


ভালো নিয়ত থাকলেই হারাম বিষয় হালাল হয়ে যায় না; বরং হালাল ও হারাম পণ্য চিহ্নিত করার জন্য কিছু মূলনীতি জানা দরকার।
হালালের চিহ্ন থাকাই উক্ত বস্তু হালাল হবার নিদর্শন হতে পারে না। কারণ হালালের চিহ্ন দিয়ে হারাম পণ্যও বিক্রি করা হতে পারে। তাই উক্ত পণ্যটি কিভাবে তৈরি হয়েছে? কি দিয়ে তৈরি হয়েছে? সেটির উপর নির্ভরশীল উক্ত পণ্যটি হালাল ও হারাম হওয়া।
আর পণ্যের কোনো নির্দিষ্ট সীমা পরিসীমা নেই, তাই এর লিস্ট প্রদান করা প্রায় অসম্ভব। তবে সময়মতো বিভিন্ন উপাদানের সাথে আমরা পরিচয় করিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ।
তাই কয়েকটি আমরা মূলনীতি উল্লেখ করছি-
(১). গোশত জাতীয় পণ্য হলে তা মুসলিমদের কাছে হালাল পণ্য কিনা- তা দেখে নিতে হবে। অনেক সময় অনেক চিপস এবং সুপে চিকেন পাউডার দেয়া থাকে। চিকেনগুলো হালালভাবে যবেহ না হলে সেগুলো খাওয়া জায়িয হবে না। এমনকি ‘বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবর’ রেকর্ড ছেড়ে মেশিনে যবেহ করা হলেও তা খাওয়া জায়িয নেই। কেউ কেউ মনে করে যে, সেগুলো বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করে খেলেই হালাল হয়ে যাবে। তবে এটি শুদ্ধ মত নয়।

(২). অন্য পণ্যতে দেখতে হবে তাতে হারাম কোনো বস্তু মিশ্রিত করা হয়েছে কিনা? যদি মিশ্রিত করা হয়, তাহলে উক্ত হারাম পণ্যের মৌলিকত্ব বাকি আছে কিনা? যদি বাকি থাকে, তাহলে উক্ত পণ্য ব্যবহার জায়িয নয়। যেমন পাউডার ভ্যানিলিন ফ্লেভার তৈরি করতে অ্যালকোহল (শরাব) লাগলেও পরে তার উপস্থিতি থাকে না। যদি হারামের মৌলিকত্ব বাকি না থাকে, তাহলে উক্ত পণ্য ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই, যেমন- জিলাটিন। জিলাটিন প্রাণীর কোলাজেন থেকে তৈরি হলেও পরে সেখানে কোলাজেনের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়- লবণের খনিতে কোনো প্রাণী পড়ে মারা গেলে এবং পরে সেটিও যদি লবণে পরিণত হয়, যাতে কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব থাকে না, তখন সে লবণ খাওয়া জায়িয হয়।
(৩) পণ্যটি কোনো বিধর্মীদের ধর্মীয় সংস্কৃতি প্রকাশক কিনা? যদি ধর্মীয় সংস্কৃতি বা কোনো ফাসিকের অনুসরণীয় পণ্য হয়, যেমন খাবারের ক্ষেত্রে বিধর্মীদের প্রসাদ, পোশাকের ক্ষেত্রে ধুতি, টাই ইত্যাদি। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে কোন্ পণ্য হালাল আর কোন্ পণ্য হারাম তা নির্ণিত করে নিতে হবে। তবে কাফিরদের প্রস্তুতকৃত সমস্ত খাবারই বর্জন করা উচিত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে