মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে বেমেছাল নেয়ামত হচ্ছে উপকারী পোকাসমূহ; আসুন এদের হেফাজত করি


আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহারে মিষ্টি মড়ার পোকা আক্রান্তের হার কীটনাশকের ব্যবহারের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ গুণ কম হয়। ফলনও সে অনুপাতে বাড়ছে। এতে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ গুণ বেশি টাকা আয় করতে সক্ষম হচ্ছেন কৃষকরা। রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না বলে উদ্ভাবিত আইপিএম পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যগত সমস্যামুক্ত।
কয়েক প্রজাতির পাতাখেকো পোকা বাঁধাকপি ও ফুলকপি ফসল নষ্ট করে ফেলে। এদের মধ্যে ডাইমন্ড ব্যাক মথ ও স্পোডপটেরা পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকারক। এদের আক্রমণে ক্ষেত্র বিশেষে শতকরা ৬৫ ভাগ পর্যন্ত ফসল নষ্ট হতে পারে। কৃষকরা ওই পোকা দমনে উপর্যুপরি কীটনাশক ছিটিয়েও ভাল ফল পায় না।
হাত বাছাই ও উপকারী পোকা মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করে এই ক্ষতিকর পোকা সফলভাবে দমন করা সম্ভব। পাতাখেকো পোকার আক্রমণের প্রথমাবস্থায় আক্রান্ত পাতার পোকাগুলি হাতবাছাই করে মেরে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বন্ধু পোকা (ডিম নষ্টকারী পরজীবী পোকা- ট্রাইকোগ্রামা ও কীড়া নষ্টকারী পরজীবী পোকা- ব্রাকন) এক সপ্তাহ পর পর মাঠ পর্যায়ে মুক্তায়িত করতে হবে।
এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলভাবে পাতাখেকো পোকা দমন করা সম্ভব। এতে কীটনাশক ব্যবহারের তুলনায় শতকরা প্রায় ৬৬ দশমিক ৬ ভাগ বেশি ফলন লাভ এবং প্রায় ৩০ ভাগ বেশি টাকাও আয় করা সম্ভব। এমনিভাবে সীম, বরবটি, ঢেঁড়শসহ বেশ কয়েকটি সবজি ফসলের ক্ষতিকারক পোকা দমনে বন্ধু পোকার দল বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।
ধান ক্ষেতে বর্তমানে বাদামি ঘাসফড়িং এর আক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে। বাদামি ঘাসফড়িং সাধারণত বন্ধু পোকা দিয়েই দমন করা সম্ভব। জমিতে কীটনাশকের উপরি ব্যবহার বন্ধ ও উপকারী পোকা মিরিটি বাগ মুক্তায়িত করে ওই ঘাসফড়িং এর আক্রমণ রোধ করা সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]