মহাপবিত্র নূরুল ইলম (সিনা মুবারক) চাক সম্পর্কেও আক্বীদা শুদ্ধ রাখতে হবে


হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই সরাসরি পবিত্র নূরুল ইলম (সিনা মুবারক) চাক করা হয়। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ উনার অপরিসীম খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক সমূহের মধ্যে পবিত্র নূরুল ইলম (সিনা মুবারক) চাক হচ্ছে অনন্য বৈশিষ্ট্য মুবারক। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালাম উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

اَلَـمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ

অর্থ: “আমি কি আপনার নূরুল ইলম (বক্ষ মুবারক) প্রসারিত করিনি! অর্থাৎ করেছি।” (সূরা ইনশিরাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
অনুরূপ পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَشَرَحْتُ لَكَ صَدْرَكَ

অর্থ: “আমি আপনার নূরুল ইলম (বক্ষ মুবারক) প্রসারিত করেছি।” (খাছায়িছুল কুবরা)

বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম নূরুল ইলম (বক্ষ মুবারক) চারবার চাক করা হয়েছিল। (এক) উনার দুনিয়াবী ৩ থেকে ৫ বৎসর বয়স মুবারক উনার সময় (দুই) ১০ থেকে ১৪ বৎসর বয়স মুবারক উনার সময় (তিন) আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের পূর্বে অর্থাৎ ৪০ বৎসর বয়স মুবারক উনার সময়, (চার) সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে অর্থাৎ ৫১ বৎসর বয়স মুবারক উনার সময়।

সম্মানিত পবিত্র নূরুল ইলম (সিনা মুবারক) চাক প্রসঙ্গে বাতিল ফিরক্বা ও বাতিল আক্বীদার লোকেরা বলতে চায় যে, শিশুসূলভ আচরণ দূর করার জন্য শৈশবকালে, কৈশরের চাঞ্চল্যতা দূর করার জন্য কিশোর বয়স মুবারকে, সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার নিয়ামত ধারণ করার জন্য আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের পূর্বে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সরাসরি দীদার মুবারক বরদাশত করার জন্য সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে পবিত্র নূরুল ইলম (সিনা মুবারক) চাক করা হয়। নাউযুবিল্লাহ! উক্ত প্রতিটি বক্তব্যই চরম বেয়াদবি ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

বাতিল ফিরক্বা ও বাতিল আক্বীদার লোকেরা আরো বলে যে, পবিত্র নূরুল ইলম (সিনা মুবারক) চাক করে উনার ভিতর থেকে নাপাকী বের করা হয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! এ বক্তব্য কাট্টা কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]