মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করতে হবে আগামী ২৯শে ছফর শরীফ ১৪৪৩ হিজরী, ৮ই খ্বমিস ১৩৮৯ শামসী, ৭ই অক্টোবর ২০২১খৃঃ, ইয়াওমুল খ্বমিস (বৃহস্পতিবার) দিবাগত সন্ধ্যায়।


মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি আপনাকে সৃষ্টি না করতাম; তবে আসমান-যমীন, লওহ-কলম কোনো কিছুই সৃষ্টি করতাম না।’ সুবহানাল্লাহ!
বাংলাদেশে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করতে হবে আগামী ২৯শে ছফর শরীফ ১৪৪৩ হিজরী, ৮ই খ্বমিস ১৩৮৯ শামসী, ৭ই অক্টোবর ২০২১খৃঃ, ইয়াওমুল খ্বমিস (বৃহস্পতিবার) দিবাগত সন্ধ্যায়। অনন্তকাল ধরে মুসলমানরা যে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার অপেক্ষায় থাকেন; সেই মহাসম্মানিত মাস খালি চোখে চাঁদ দেখে সঠিক তারিখে শুরু করা ফরয।
চাঁদ না দেখে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস শুরু করলে অসংখ্য মুসলমান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার নিয়ামত মুবারক থেকে বঞ্চিত হবে। তাই, সউদী আরবসহ বিশ্বের সমস্ত দেশের শাসকদের জন্য ফরয- এ ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা এবং চাঁদ তালাশের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ক্বায়িম-মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ:

ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সমস্ত মাস উনার সেরা মাস- সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূর, সাইয়্যিদু শাহরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ। সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা (১২) বারোটি। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে অধিক সম্মানিত মাস হচ্ছেন- মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ। যাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাসে মহান আল্লাহ পাক উনার পরেই যিনি সম্মানিত; যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তিনি এই দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আবার এই যমীন থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক-এ মিলিত হয়েছেন এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাসেই। সুবহানাল্লাহ! এছাড়াও আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র নুবুওওয়াত শরীফ, পবিত্র হিজরত শরীফ এবং আরো বহু মুবারক ঘটনা এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাসেই সংঘটিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! যেহেতু আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই রহমত মুবারক এবং তিনিই রহমত মুবারক উনার বণ্টনের মালিক অর্থাৎ ‘রহমতুল্লিল আলামীন’; তাই এই বিশেষ মাসে আলাদাভাবে বিশেষ রহমত নাযিল হয় শুধু মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মনগড়া পদ্ধতিতে মাস গণনা করার সমস্ত রীতি-নীতি পরিহার করে যারা শরয়ী নির্দেশ মুবারক মুতাবিক চাঁদ দেখে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাস শুরু করবে শুধু তারাই এই মহাপবিত্র মাস উনার নিয়ামত মুবারকসমূহ লাভ করতে পারবে। যদিও প্রতিটি আরবী মাসেরই ২৯ তারিখে চাঁদ তালাশ করা ওয়াজিবে কিফায়া। কিন্তু সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম মহাপবিত্র মাস পেয়ে খুশি প্রকাশের নিয়তে এ মাস উনার চাঁদ শরয়ী নির্দেশ মুবারক মুতাবিক তালাশ করলে তা হবে সমস্ত আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উত্তম। সুবহানাল্লাহ! তাই সমস্ত মুসলিম দেশের শাসকদের উচিত, মাস গণনার মনগড়া নিয়ম পরিহার করে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের হুকুম অনুযায়ী খালি চোখে চাঁদ দেখে মাস শুরু করা।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৪৪৩ হিজরী সনের সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহুরিল আযম পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ তালাশ করতে হবে আগামী ২৯শে ছফর শরীফ ১৪৪৩ হিজরী, ৮ই খ¦মিস ১৩৮৯ শামসী, ৭ই অক্টোবর ২০২১ খৃঃ. ইয়াওমুল খ¦মিস (বৃস্পতিবার) সন্ধ্যায়। সেদিন চাঁদ দিগন্তরেখার ০৯ ডিগ্রী ৪৪ আর্ক মিনিট উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদের বয়স হবে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ২২ মিনিট। সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৪০ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৬টা ২৯ মিনিটে অর্থাৎ ৪৯ মিনিট চাঁদ আকাশে অবস্থান করে অস্ত যাবে। সেদিন চাঁদ অবস্থান করবে ২৫৬ ডিগ্রী আযিমাতে এবং সূর্যের অবস্থান থাকবে ২৬৪ ডিগ্রী আযিমাতে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ১৩ ডিগ্রী ২৫ আর্ক মিনিট কোণ করে সূর্য থেকে সরে থাকবে এবং চাঁদের ০১.৩৭% আলোকিত থাকবে। সেদিন বায়ুম-লীয় অবস্থা অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশের আকাশে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যেতেও পারে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]