মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছোঁয়াচে রোগ বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলতে কোনো রোগই নেই। কোনো রোগের কোনো ক্ষমতা নেই যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা ব্যতীত কারো উপর আক্রমণ করে। আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত জিন-ইনসান ও প্রাণী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের হায়াত-মাওত, বালা-মুছীবত, বিপদ-আপদ, রোগ-বালাই এবং রিযিক্বসমূহ সবকিছুই পূর্ব থেকে নির্ধারণ করে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এ সম্পর্কে অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছেন। যেমন-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَليْهِ وسَلَّمَ لَا عَدْوٰى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই, অশুভ বলতে কিছু নেই, পেঁচার মধ্যে কোন কুলক্ষণ নেই এবং সম্মানিত ছফর শরীফ মাসে কোন খারাপী নেই।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাজাহ্ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৫৩৯, হাশিয়াতুস সিন্দী ২/৩৬৩)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا عَدْوٰى وَلَا طِيَرَةَ وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ.
অর্থ: “হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই, অশুভ বলতে কিছু নেই, পেঁচার মধ্যে কোন কুলক্ষণ নেই এবং সম্মানিত ছফর শরীফ মাসে কোন খারাপী নেই।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৭৫৭, ৫৩১৬, এবং ৫৪২৫, তাহ্যীবুল আছার লিত্ ত্ববারী ৩/৪৩২, মুসনাদে ইসহাক্ব ইবনে রাহওয়াইহ্ ১/২৩৫, উমদাতুল ক্বারী ৩১/৩৮২, আত্ তাওদ্বীহ্ লি ইবনে মুলক্বিন ২৭/৫২১, আত্ তাওশীহ্ ৮/৩৫৪২, আল কাওয়াকিবুদ্ দুরারী ২১/৩৩, ইরশাদুস সারী ৮/৩৯৮, ফাইদ্বুল বারী ৬/৬৩, আল কাওছারুল জারী ৯/২৯১, আল লামি‘উছ ছবীহ্ ১৪/৩৬০, মিনহাতুল বারী ৯/৪৭, কাশফুল খাফা ২/৪৫০, নুযহাতুল আলবাব ৪/২৪০৯ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلْ مَعَ صَاحِبِ الْبَلَاءِ تَوَاضُعًا لِرَبِّكَ وَاِيْـمَانًا.
অর্থ: “হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তুমি তোমার রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিনয়ী হয়ে এবং পূর্ণ বিশ্বাস রেখে রোগ-মুছীবতগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে খাদ্য গ্রহণ করো।” সুবহানাল্লাহ! (নাখবুল আফকার ফী তানক্বীহি মাবানিইল আখবার ফী শারহি মা‘আনিইল আছার লিবাদরিদ্দীন আইনী হানাফী ১৪/৯৪, আওনুল মা’বূদ ১০/৩০০, আত তানওইর ৮/২২১, আল ফাতহুল কাবীর ২/৩০০, জাম‘উল জাওয়ামি’ ৬/৪৪৩, ফাইযুল ক্বাদীর, আল জামিউছ ছগীর ২/১৬৬, তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াজী ৫/২০, মিরক্বাতুল মাফাতীহ্ ৭/২৮৯৮, জামি‘উল আহাদীছ ১৫/৩৬৬ ইত্যাদি)
‘মুয়াত্ত শরীফ’ উনার বিশ্বখ্যাত শরাহগ্রন্থ ‘শারহুয যারক্বানী’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا عَدْوٰى اَىْ لَا يُعْدِىْ شَىْءٌ شَيْئًا اَىْ لَا يَسْرِىْ وَلَا يَتَجَاوَزُ شَىْءٌ مِّنَ الْمَرَضِ اِلـٰى غَيْـرِ مَنْ هُوَ بِهٖ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছুই নেই’। অর্থাৎ কোন কিছুই কোন কিছুকে সংক্রামিত করতে পারে না অর্থাৎ রোগী যেই রোগে ভুগছে, সেই রোগ থেকে কোনো কিছুই অন্যের নিকট ভ্রমণ করে না এবং যায় না।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মুওয়াত্ত্বা ৪/৪২৪)

‘মুয়াত্ত শরীফ’ উনার বিশ্বখ্যাত শরাহগ্রন্থ ‘আল মুন্তাক্বা’ উনার মধ্যে রয়েছে,
اَنَّ الْعَرَبَ كَانَتْ تَعْتَقِدُ اَنَّ الصَّحِيْحَ اِذَا جَاوَرَ الْمَرِيْضَ اِعْدَاهُ مَرَضُهٗ اَىْ تَعَلَّقَ بِهٖ اَوْ اِنْتَقَلَ اِلَيْهِ.
অর্থ: “জাহিলী যুগে আরবরা এটা বিশ্বাস করতো যে, কোন সুস্থ ব্যক্তি যখন কোন রোগীকে দেখতে যায়, তখন অসুস্থ ব্যক্তির রোগ সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রামিত করে। অর্থাৎ সুস্থ ব্যক্তির সাথে ঐ রোগটা সংগযুক্ত হয় অথবা রোগীর রোগটা সুস্থ ব্যক্তির নিকট স্থানান্তরিত হয়।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আল মুনতাক্বা ৭/২৬৩)
‘আবূ দাঊদ শরীফ’ উনার ব্যখ্যাগ্রন্থ ‘আউনুল মা’বূদ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
لَا عَدْوٰى نَفْىٌ لِمَا كَانُوْا يَعْتَقِدُوْنَهٗ مِنْ سِرَايَةِ الْمَرَضِ مِنْ صَاحِبِهٖ اِلـٰى غَيْـرِهٖ.
অর্থ: “ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছুই নেই’। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে যারা এই আকীদা পোষণ করে থাকে যে, রুগ্ন ব্যক্তির রোগ তার থেকে অন্যের উপর যায়। তার আক্বীদাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আওনুল মা’বূদ শারহু সুনানি আবী দাঊদ ৯/৮৫৯)
‘ফাইযুল ক্বাদীরে’ বর্ণিত রয়েছে
لَا عَدْوٰى اَىْ لَا سرَايَةَ لِعِلَّةِ مِنْ صَاحِبِهَا لِغَيْـرِهٖ يَعْنِـىْ اَنَّ مَا يَعْتَقِدُهُ الطَّبَائِعِيُّوْنَ مَنْ اَنَّ الْعِلَلَ الْمُعْدِيَةَ مُؤَثَّرَةٌ لَا مَـحَالَةَ بَاطِلٌ بَلْ هُوَ مُتَعَلَّقٌ بِالْمَشِيْئَةِ الرَّبَّانِيَّةِ.
অর্থ: “(নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,) ‘ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ বলে কিছুই নেই’। অর্থাৎ রোগ তার ছাহিব তথা রোগীর থেকে অন্যের দিকে স্থানান্তরিত হয় না। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ প্রকৃতিবাদী বা নাস্তিকরা যেটা বিশ্বাস করে যে, ‘সংক্রামক রোগসমূহ হচ্ছে ক্রিয়াশীল।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! তাদের এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে ভিত্তিহীন, বাতিল। বরং রোগের বিষয়টি খোদায়ী ইচ্ছা তথা মহান আল্লাহ পাক উনার ইরাদার সাথে সম্পৃক্ত।” সুবহানাল্লাহ! (ফাইযুল ক্বাদীর ৬/৫৬১, মাছাবীহুত তানওইর ২/৯৬)

সুতরাং করোনা কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটা হচ্ছে- কাফিরদের উপর নিপতিত এক মহা গযব। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ছোঁয়াচে রোগ বা সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। যা অসংখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে ছহীহ সমঝ দান করুন এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর অবিচল থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে