মহিমান্বিত দশ দিন ও দশ রাত্রি


পবিত্র যিলহজ্জ্ব শরীফ মাস আগমনে করণীয়:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامْ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ رَاٰي هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ وَ اَرَادَ اَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَاْخُذْ مِنْ شَعْرِه وَلَا مِنْ اَظْفَارِه.
অর্থ: হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ সাদিছা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জিলহজ্জ্ব শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখলো এবং পবিত্র কুরবানী করার ইচ্ছা করলো, সে যেন (পবিত্র কুরবানী করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে। (মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ تَعَالٰي عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحٰي عِيْدًا جَعَلَهُ اللهُ لِهٰذِهِ الْأُمُّةِ قَالَ لَه رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيْحَةً أُنْثٰى أَفَأُضْحِيَّ بِهَا قَالَ لَا وَلٰكِنْ خُذْ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَتَقُصَّ شَارِبَكَ وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ فَذٰلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللهِ (ابو داود شريف)
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি এই মর্মে আদিষ্ট হয়েছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার দিনকে ঈদ সাব্যস্ত করেছেন। এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কী বলেন, যদি আমি মানিহায়ে উনসা (দুধ খাওয়ার উটনী) ব্যতীত আর কোন পশু না পাই, তবে কি সেটাই কুরবানী করব? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না। বরং আপনি (কুরবানীর দিন) আপনার চুল, নখ কাটবেন, গোঁফ খাটো করবেন এবং পশম কাটবেন তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একটি পূর্ণ কুরবানীর সওয়াব লাভ করবেন”। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ)
উল্লেখ্য, মানিহায়ে উনসা হলো এমন গাভী, উটনী যেগুলো ক্রয় করা ব্যতীত মালিকের কাছ থেকে শুধুমাত্র দুধ পান করার শর্তে নেয়া হয়। যে ব্যক্তি শুধুমাত্র দুধ পান করার শর্তে নিয়েছে, সে এধরণের পশু কুরবানী করতে পারবে না। কেননা এই পশু তার মালিকানায় থাকে না। আর কুরবানীর জন্য মালিকানা থাকা শর্ত।
উল্লিখিত দু’খানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে প্রতিয়মান হয় যে, যারা কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না উভয়ই যদি পবিত্র জিলহজ্জ্ব শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার আগে তাদের চুল, নখ ইত্যাদি কাঁটে এবং কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত এসব আর না কাঁটে তাহলে তারা একটি পূর্ণ কুরবানীর সওয়াব লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে