মহিলাদের জন্য গিলালা (সেমিজ) পরিধান করা পবিত্র সুন্নত


মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে
عَنْ حَضْرَت أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه أَنَّ أَبَاهُ أُسَامَةَ قَالَ كَسَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبْطِيَّةً كَثِيفَةً كَانَتْ مِمَّا أهداها دحْيَة الْكَلْبِيّ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه فسكوتها امْرَأَتِي فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم مَالك لَمْ تَلْبَسِ الْقُبْطِيَّةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَسَوْتُهَا امْرَأَتِي فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْهَا فَلْتَجْعَلْ تَحْتَهَا غِلالَةً إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَصِفَ حَجْمَ عِظَامِهَا-
অর্থ: হযরত উসামা ইবনে যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নিশ্চয়ই উনার পিতা বলেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমাকে মিশরের তৈরী পাতলা একটি ক্বমিছ মুবারক হাদিয়া করলেন। যে ক্বমিছ মুবারক হযরত দিহ্ইয়াতুল ক্বলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। (হযরত উসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু) তিনি বলেন, আমি উক্ত ক্বমিছ মুবারক আমার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে পরিধান করার জন্য দিয়ে দিলাম। অতপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, হে ওসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু! আপনি কেন মিশরের তৈরী ক্বমিছটি পরিধান করেন না। আমি বল্লাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! উক্ত ক্বমিছ মুবারকটি আমি আমার আহলিয়া উনাকে পরিধান করতে দিয়ে দিয়েছি। তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, আপনি উনাকে নির্দেশ প্রদান করুন, যাতে উক্ত ক্বমীছের নীচে একটি গিলালাহ (সেমিজ) পরিধান করে নেয়। কেননা, আমার আশংকা হয় উক্ত পাতলা ক্বমিছ পরিধান করলে উনার শরীর বা দেহের গঠন প্রকাশ পেতে পারে। (মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে বাযযার-৭/৩০, মুসনাদে ইবনে আবী শাইবা-১/ ১২৬, নাইলুল আওতার -২/১৩৫, ইবনু সায়া’দ, ত্ববারানী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, আদ্ব-দ্বিয়াউ ফীল মুখতার)
উল্লেখ্য যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত-
مُرْهَا فَلْتَجْعَلْ تَحْتَهَا غِلالَةً إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَصِفَ حَجْمَ عِظَامِهَا-
অর্থ: আপনি উনাকে নির্দেশ প্রদান করুন, যাতে উক্ত ক্বমীছের নীচে একটি গিলালাহ (সেমিজ) পরিধান করে নেয়। কেননা, আমার আশংকা হয় উক্ত পাতলা ক্বমিছ পরিধান করলে উনার শরীর বা দেহের গঠন প্রকাশ পেতে পারে। (মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে বাযযার-৭/৩০, মুসনাদে ইবনে আবী শাইবা-১/ ১২৬, নাইলুল আওতার -২/১৩৫, ইবনু সায়া’দ, ত্ববারানী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, আদ্ব-দ্বিয়াউ ফীল মুখতার, মা’রিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার-৩/১৪৬, আল-মু’জামুল কাবীর-১/১৬০)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে শুধুমাত্র গিলালা ব্যতীত অন্য কিছু পরিবর্তনের কথা বললেন না। যার দ্বারা প্রমাণিত হয় পুরুষ ও মহিলাদের ক্বমিছ প্রায় একই ধরণের।
غِلالَة(গিলালা) শব্দটির অর্থ প্রসঙ্গে “আস-সুমুওউর রুহীল আ’যম ওয়াল জামালুল ফানা ফীল বালাগাতিন নবুওয়্যাহ” নাম কিতাবের ৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
الغِلالة: شعار يلبس تحت الدثار مثل القميص تحت الثياب الظاهرة –
অর্থ: গিলালা বলা হয় শরীরের সাথে লাগোয়া এমন পোশাক, যাহা বাহ্যিক ক্বমীছের অনুরূপ পোশাকের নীচে পরিধান করা হয়।
তাফসীরে নিসাপূরী ১ম খ- ৩৩৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
غلالة وهي شعار يلبس تحت الثوب وتحت الدرع أيضا
অর্থ: গিলালা বলা হয় শরীরের সাথে লাগোয়া এমন পোশাক, যা মহিলাদের ক্বমিছ বা অন্য কোন পোশাকের নীচে পরিধান করা হয়।
আল-মাজাযাতুন নাবাভিয়্যাহ ১৩০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
-غلالة- وإنّما سمّيت غلائل لانغلالها بين الدروع والأجساد
অর্থ: গিলালাকে গিলালা হিসেবে নাম করণ করার কারণ হলো- মহিলাদের পরিহিত ক্বমিছ ও শরীরের মাঝখানে আবরণ বা পর্দা সৃষ্টি করে দেয়।
যেমন এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আরো বর্ণিত রয়েছে-
و عَنْ حَضْرَت دِحْيَةَ بْنِ خَلِيفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبَاطِيَّ فَأَعْطَانِي مِنْهَا قُبْطِيَّةً فَقَالَ اصْدَعْهَا صَدْعَيْنِ فَاقْطَعْ أَحَدَهُمَا قَمِيصًا وَأَعْطِ الْآخَرَ امْرَأَتَكَ تَخْتَمِرُ بِهِ فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ وَأْمُرِ امْرَأَتَكَ أَنْ تَجْعَلَ تَحْتَهُ ثَوْبًا لَا يَصِفُهَا-
অর্থ: হযরত দিহইয়া ইবনে খলীফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে মিশরের তৈরী অনেকগুলি কাপড় নিয়ে আসা হলো। তিনি আমাকে একটি কাপড় হাদিয়া মুবারক করে বলেন যে, উক্ত কাপড়কে দু’টুকড়া করে এক টুকড়া দ্বারা আপনার আহলিয়ার জন্য ক্বমিছ তৈরী করুন, আর অন্য টুকড়ার দ্বারা উড়না তৈরী করুন। যখন তিনি বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন, তখন তিনি পূণরায় নির্দেশ দিলেন যে, আপনার আহলিয়াকে বলবেন তিনি যেন উক্ত ক্বমীছের নীচে অতিরিক্ত পোশাক (সেমিজ) পরিধান করে নেন যাতে শরীরের গঠন অনুভব করা না যায়। (আবূ দাউদ শরীফ, কানযুল উম্মাল শরীফ, আল-হাকিম-৪/১৮৭, বাইহাক্বী শরীফ-২/২৩৪, তুহফাতুল আবরার শারহু মাছাবীহিস সুন্নাহ-৩/১৪৮, মায়া’লিমুস-সুনান-৪/২০০, মিরকাতুল মাফাতীহি শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ-৭/২৭৯০)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত ক্বমিছ যদি এমন পাতলা হয়, যার দ্বারা দেহের গঠন অনুভব করা যায়, তাহলে উক্ত ক্বমীছের নীচে গিলালাহ বা সেমিজ পরিধান করা সুন্নত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]