মাথায় চুল রাখার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يا أَيُّهَا الَّذينَ آمَنُوا أَطيعُوا اللَّهَ وَ أَطيعُوا الرَّسُولَ وَ أُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ইতায়াত মুবারক করো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত মুবারক করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর রয়েছেন উনাদের ইতায়াত মুবারক করো।” (পবিত্র সূরা আন নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত মুবারক ৫৯)

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বদাই বাবরী চুল মুবারক রাখতেন। আর বাবরী চুল মুবারক রাখাই দায়িমী সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। চুল মু-ন করার ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক হচ্ছেন- শুধুমাত্র পবিত্র হজ্জ ও পবিত্র ওমরাহ পালন করার সময়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একবার পবিত্র হজ্জ মুবারক করেছেন, আর চারবার পবিত্র ওমরাহ মুবারক করেছেন। আর এই পবিত্র হজ্জ মুবারক ও পবিত্র ওমরাহ মুবারক পালন করার সময়ই তিনি উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা (মহাসম্মানিত মাথা) মুবারক মু-ণ মুবারক করেছেন। এছাড়া অন্যকোনো সময় তিনি উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা (মহাসম্মানিত মাথা) মুবারক মু-ণ করেননি। এমনকি হযরত খোলাফা-ই-রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে একমাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনার পবিত্র চুল মুবারক ছোট রাখতেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার চুল মুবারক ছোট রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন যে, “মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “(ফরয) গোসলের সময় একটি চুলও যদি শুকনা থাকে, তাহলে গোসল শুদ্ধ হবে না। আর আমার মাথার চুল মুবারক যেহেতু খুব ঘন, সেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুমতি মুবারক সাপেক্ষে সন্দেহ থেকে বাঁচার জন্য আমি আমার চুল মুবারক ছোট রাখি।”
উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাধারণত: তিন তরীক্বাহ মুবারক-এ পবিত্র চুল মুবারক রাখতেন। যেমন- জুম্মাহ, লিম্মাহ এবং ওয়াফরাহ। অর্থাৎ
১) মহাসম্মানিত নূরুল হায়া’ (মহাসম্মানিত কান) মুবারক উনার লতি মুবারক বরাবর।
২) মহাসম্মানিত নূরুল হায়া’ (মহাসম্মানিত কান) মুবারক উনার লতি মুবারক ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক উনার মাঝামাঝি।
৩) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক উনার কাছাকাছি। কিন্তু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক স্পর্শ করেনি।
এছাড়াও কখনো কখনো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত নূরুল হায়া’ (মহাসম্মানিত কান) মুবারক উনার মাঝামাঝি করেও মহাসম্মানিত নূরুল ফাতহ্ (মহাসম্মানিত চুল) মুবারক রাখতেন। যাকে আরবীতে নিছফু উযুনাইহি বলা হয়।
আজকাল কিছু কিছু লোক সুন্নতী চুল বলতে চুল চাছা, চুল ছোট রাখা এবং কানের লতি বরাবর বাবরী রাখা, এই তিন প্রকার চুল রাখাকে বুঝায়, যা শুদ্ধ নয়।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
دعا للمحلقين ثلث مرات وللمقصرين مرة واحدة.
অর্থঃ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুল মুন্ডনকারীদের জন্য তিনবার দোয়া করেছেন। আর যারা চুল ছোট করে রাখে, তাদের জন্য একবার দোয়া করেছেন। এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় অনেকে চুল মু-ণ করাকে ফযীলত ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া মুবারক এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ রহমত মুবারক লাভের কারণ বলে মনে করে থাকে।
অথচ উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ খানা শুধু মাত্র হাজীদের পবিত্র হজ্ব পালনের সময়ে চুল কাটার ব্যাপারেই বলা হয়েছে। সাধারণের বেলায় এ হুকুম প্রযোজ্য নয়। কেননা পবিত্র হজ্ব পালনের সময় চুল ছোট করা ওয়াজিব। তাই পবিত্র হজ্ব পালনের সময় যারা চুল ছোট করে, তাদের শুধু ওয়াজিব আদায় হয়।
আর যারা পবিত্র হজ্ব পালনের সময় চুল চেছে ফেলে বা মু-ণ করে, তাদের ওয়াজিব ও সুন্নত মুবারক উভয়টিই আদায় হয়। যার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের জন্য তিনি তিন বার দোয়া মুবারক করেছেন।
-আহমদ হুসাইন

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Leave a Reply

[fbls]